আগুন কি ? তরল, কঠিন, না গ্যাসীয় পদার্থ? কত প্রকার ? ইত্যদি প্রশ্নের উত্তর

আগুন কি ?,আগুন আবিষ্কার ! ,আগুন কত প্রকার ?, আগুন অর্থ কি?, আগুনের উপাদান কি কি ? ইত্যাদি জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন ।

আগুন কি? তরল, কঠিন, না গ্যাসীয় পদার্থ?

আগুন হলো উত্তপ্ত গ্যাসের মিশ্রণ। এটি সৃষ্টি হয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে, যা প্রধানত বাতাসের মধ্যকার অক্সিজেন এবং বিভিন্ন ধরণের জ্বালানীর মধ্যে সংঘটিত হয়। এসব বিক্রিয়ার উৎপাদ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড, বাষ্প, আলো, তাপ প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

যখন তাপ বাড়তে থাকে, তখন জ্বালানীতে উপস্থিত কার্বন অথবা অন্যান্য মৌলের পরমাণুসমূহ আলো বিকিরণ করে। এই “তাপ দ্বারা আলো উৎপাদন প্রক্রিয়া”-কে incandescence বা তাপোজ্জ্বলতা বলা হয় এবং এই প্রক্রিয়াতেই একটি লাইট বাল্বে আলোর সৃষ্টি হয়। এ কারণেই জ্বালানীর বিক্রিয়ার ফলে অগ্নিশিখা দৃশ্যমান হয়।
যদি অগ্নিশিখা যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়, তবে গ্যাসীয় পরমাণুগুলো আয়নাইজড হয়ে পড়ে এবং তা পদার্থের অন্য একটি অবস্থায় চলে যায়। যা প্লাজমা নামে পরিচিত।

আগুন কি ?

আগুনের সবচেয়ে শীতল ও উত্তপ্ত অংশ ?

অগ্নিশিখার রঙের তারতম্য নির্ভর করে কি দহন করা হচ্ছে এবং তা কেমন উত্তপ্ত হয়েছে তার উপর। রঙের তারতম্য প্রধানত অসম তাপমাত্রার কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত আগুনের সবচেয়ে উত্তপ্ত অংশ এর বেইস, যা নীল রঙের আলো বিকিরণ করে। সবচেয়ে শীতল অংশ হলো অগ্নিশিখার শীর্ষ যা লালচে-কমলা বা হলদে-কমলা হয়ে থাকে। এই  তেমন লালচে অংশটাতে তেমন তাপ অনুভূত হয় না। তবে অগ্নিশিখার নীলাভ অংশে আঙ্গুল ভুলক্রমেও চলে গেলে উত্তাপ বেশি অনুভূত হবে।

আগুনের মাথা সবসময় সূঁচালো হয় কেন ?

আগুনের এই শিখার আকার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে অনেকাংশেই। এর মধ্যবর্তী উত্তপ্ত গ্যাসসমূহের ঘনত্ব তাকে ঘিরে থাকা বায়ুর চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এদের তাপমাত্রা পারিপার্শ্বিক বায়ুর তুলনায় অনেক বেশী। তাই গ্যাসগুলো অধিক ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকার দিকে যেতে থাকে। মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।
তাই অগ্নিশিখা সাধারণত ঊর্ধ্বাভিমুখী ছড়ায়, এ কারণেই দেখা যায় , এর মাথা সবসময় সূঁচালো হয়।
আমরা যদি শূন্য অভিকর্ষ পরিবেশে, যেমন মহাকাশে স্পেস শাটলে আগুন জ্বালাই, তাহলে অগ্নিশিখাটি গোলাক আকৃতি ধারণ করবে!

 

আগুন কত প্রকার ?

http://resources.hwb.wales.gov.uk/VTC/ngfl/science/103_new/asc1/firetype.htm অনুযায়ী আগুন চার প্রকার ।যথা :

 

Class A : কঠিন বস্তুকে জ্বালায় যা আগুনের স্বাভাবিক ধর্ম । যেমন : কাঠ,কাগজ,কাপড় ইত্যাদি ।

Class B : তরলকে জ্বালায় । যেমন :তেল,পেট্রোল , ডিজেল ইত্যাদি ।

Class C : ইলেকট্রিক্যাল আগুন ।

Class D : দাহ্য মৌলদের জ্বালায় । যেমন : magnesium, aluminium, titanium, sodium and potassium ইত্যাদি ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *