আপনার Android এ কি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করা দরকার।।। | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

আপনার Android এ কি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করা দরকার।।।

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 730 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

পত্রিকার পাতা উল্টালে প্রায়ই অ্যান্ড্রয়েডে ম্যালওয়ারের আক্রমণ নিয়ে রিপোর্ট হয়ত দেখে থাকবেন। হুম এটা ঠিক অ্যান্ড্রয়েডে ম্যালওয়ারের আক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। এবং এর থেকে রক্ষার জন্য উইন্ডোজের মতো অ্যান্ড্রয়েডেও এখন এন্টিভাইরাস অ্যাপস রয়েছে। প্রশ্ন হলো পরিস্থিতি কি এতটাই খারাপ যে আপনাকে অ্যান্ড্রয়েডে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতেই হবে? আসলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই আপনি এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করেই ম্যালওয়ার থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

Untitled-1 copy

অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব কিছু ম্যালওয়ার প্রটেকশন ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এন্টিভাইরাস জরুরি কিনা তা দেখার আগে চলুন এই ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

গুগল তার প্লে স্টোরের অ্যাপসগুলোতে ম্যালওয়ার আছে নাকি পরীক্ষা করে দেখে। গুগল ‘বাউন্সার’ নামের একটি সার্ভিস এই ম্যালওয়ার চেক করার জন্য ব্যবহার করে। যখনই কোন অ্যাপস প্লে স্টোরে আপলোড করা হয় তখন ‘বাউন্সার’ ওই অ্যাপসটির আচরণ অন্যান্য ম্যালওয়ার,ট্রোজান বা ভাইরাসের সাথে মিলে নাকি তা পরীক্ষা করে দেখে। যদি অ্যাপস কোন অস্বাভাবিক আচরণ করে তাহলে অ্যাপসটি পাবলিশ করা হয় না এবং ওই ডেভেলপারকে কালো তালিকাভুক্ত করে যেন পরে ওই ডেভেলপার কোন অ্যাপস রিলিজ করতে না পারে।

এছাড়া অ্যাপস ইনস্টল করার পর যদি তা ম্যালওয়ারের মতো আচরণ করে তাহলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ওই অ্যাপস রিমুভ করার সাথে সাথে আপনার ডিভাইস থেকেও আনইনস্টল করে ফেলতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ ভার্সনে আপনি যদি গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড না করে অন্য কোথাও থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করেন তাহলে থেকে ওই অ্যাপসগুলো ইনস্টল হবার আগে সেগুলো নিরাপদ কিনা তা ভেরিফাই করতে বলবে। এছাড়া কোন অ্যাপস যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন এসএমএস পাঠাতে চায় তাহলেও সে সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক করবে। এমনকি আপনার কি স্ট্রোক এবং অ্যাকসেস প্রটেক্টেড ডাটাও কোন অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবে না।

তাহলে এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়ার নিয়ে এত চিন্তার কি দরকার? গুগল তার সাম্প্রতিক ভার্সনগুলোতে এই সুবিধা যুক্ত করলেও অপেক্ষাকৃত পুরোনো ভার্সনগুলোতে ম্যালওয়ার প্রতিরোধের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। ওই ভার্সনগুলোর জন্য একমাত্র ভরসা হলো গুগল প্লে। ফলে আপনি যদি প্লে স্টোরের বাইরে থেকে কোন অ্যাপস ডাউনলোড করেন তখন বিরাট ম্যালওয়ারের ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবেন। যেমন পেইড অ্যাপের পাইরেটেড ভার্সন ডাউনলোড করে ইউজ করলে ম্যালওয়ারের ঝুঁকি থেকে যাবে।

ম্যাকাফির এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬০% ম্যালওয়ার প্রায় একই রকম। এগুলোকে বলে ‘ফেকইনস্টলার’। এই ভুয়া অ্যাপস ইনস্টলারগুলো দেখতে আসল মনে হলেও তা মূল অ্যাপসটি ইনস্টল না করে ম্যালওয়ার ইনস্টল করে। ভুয়া মার্কেটপ্লেস থেকে অ্যাপস ডাউনোলোড করলে এই ঝামেলায় পড়তে পারেন। নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন যেমন- ৪.০ এই ফেকইনস্টলার প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু আগের ভার্সনগুলোর এই সক্ষমতা নেই। এফসিকিউর তৃতীয় প্রান্তিকে ২৮ হাজার ম্যালওয়ার স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে যার মধ্যে ১৪৬টি ম্যালওয়ার গুগল প্লে স্টোর থেকে পাওয়া গেছে। তাই বুঝতেই পারছেন গুগল প্লে স্টোর ম্যালওয়ার থেকে প্রায় মুক্ত।

অ্যান্টিভাইরাস কখন ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি শুধুমাত্র গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করে থাকেন তাহলে আপনি ম্যালওয়ারের আক্রমণে পড়বেন না। অ্যাপস ইনস্টল করার সময় অ্যাপস পারমিশনগুলো পড়ে ইনস্টল করবেন। এমন কোন গেমস ইনস্টল করবেন না যা এসএমএস পাঠানোর পারমিশন চায়। খুব কম অ্যাপস আছে যার আসলে এই ধরণের পারমিশন দরকার।

9

তাই আপনি যদি প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করেন তাহলে আপনার অ্যান্টিভাইরাসের দরকার নেই। কিন্তু যদি বাইরের ওয়েবপোর্টাল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করেন তাহলে একটি অ্যান্টিভাইরাস আপনার অ্যান্ড্রয়েডে ইনস্টল করে ফেলতে পারেন। আপনার সাধের স্মার্টফোনটি এতে সেফ থাকবে। আর অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন পুরোনো হলে এবং প্লে স্টোরের ব্যতীত অ্যাপস ডাউনলোড করলে অবশ্যই অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করতে হবে।

এছাড়াও অ্যান্টিভাইরাসগুলোর কিছু বাড়তি সুবিধা আছে। অনেক অ্যান্টিভাইরাস আপনাকে হারিয়ে যাওয়া স্মার্টফোন খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। এই ফিচারগুলো ইউজ করতেও আপনি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*