কিভাবে একজন ভালো লেখক হবেন?(অনুপ্রেরণা মূলক টিউন)

অনেকেই চায় লিখতে । লিখে তার মনের
কথা পুরো জাতির মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় ।
এখন প্রশ্ন হল কিভাবে আমি ভালো লেখক
হতে পারি ? এখন এ ব্যাপারে কিছু কথা আজ
লিখলাম । যারা বর্তমানে লেখক এবং বিশেষ
করে ভবিষ্যতের লেখক হতে চায় তাদের জন্যই এই লেখা । এই কথিকাগুলো অনুসরণ
করলে আপনিও হয়ে উঠবেন সাফল্যমণ্ডিত,
অমর, বিখ্যাত লেখক । (১) পছন্দের বিষয়
নির্বাচন করুনঃ আপনার
যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি পছন্দ সেই
বিষয়ে লেখুন । ধরুন, আপনার গোয়েন্দা গল্প পছন্দ তবে বাংলা সাহিত্যের অমর চরিত্র
গুলো (যেমন, কিরীটী রায়, ফেলুদা, কর্নেল,
কাকাবাবু) পড়া শুরু করুন । সেই
সাথে লিখতে থাকুন । বেশি বেশি লেখুন ।
লেখা খারাপ হলে মন খারাপ করার কিছু নেই,
সকল লেখকের কাঁচা হাতের লেখা অতটা সুন্দর ছিল না । তাই, আজ এই লেখাটা পড়েই
লেগে পড়ুন আপনার লক্ষ্যে পৌঁছতে । (২) প্রচুর
পড়ুনঃ ভালো লিখতে হলে বেশি বেশি পড়তে হবে ।
আপনি যত বেশি পড়বেন আপনার শব্দভান্ডার
তত বৃদ্ধি হবে । আপনি ততই বুঝতে পারবেন বড়
বড় লেখকরা কীভাবে বর্ণনা দেন, তাঁদের ভাষা শৈলী বা কীরূপ ।
এগুলো জানতে হলে বেশি বেশি পড়তে হবে ।
আর সুন্দর একটা গল্পের
পটভূমি তৈরি করতে হলে পড়ার কোন বিকল্প
নেই । তাই, পড়ুন, পড়ুন এবং বেশি বেশি পড়ুন ।
(৩) বাইরে ঘুরে বেড়ানঃ বাইরে যাওয়াটা খুব
গুরুত্বপূর্ণ । বাইরে গেলে আপনি নতুন নতুন
মানুষের সাথে পরিচিত হবেন, ক্রমেই আপনার
কল্পনাশক্তি বিকশিত হবে । তাই,
বিশ্বটাকে দেখুন ।
এগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন । তাহলে আপনার লেখায় বর্ণনা দিতে তা খুব কাজে দেবে ।
আপনি লেখক হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই
খুঁটিয়ে দেখতে হবে প্রকৃতি,
দেখতে হবে কিভাবে বৃষ্টির সময় সূর্য
উঠে বৃষ্টির ওপর আলো ফেলে ।
আপনাকে দেখতে হবে প্রখর রোদে পৃথিবী কিরূপ দেখতে লাগে ।
পাঠককে নিয়ে যান প্রকৃতির একদম কাছে ।
(৪) প্রতিদিন
লিখুনঃ লেখালেখিটা অভ্যাসে পরিনত করুন ।
ভালো লেখক হতে হলে প্রতিদিন
লিখতে হবে । তা যতই অল্প হোক না কেন । লেখালেখিটা অনেকটা হৃদয় সমুদ্রে ডুব
দিয়ে গুপ্তধন খুঁজে আনার মতো । আপনার
হৃদয়ের সমুদ্রে ডুব দিয়ে আপনার সমস্ত
লুকানো সম্পদ বের করে আনতে হবে । আর
প্রতিদিন এজন্য দরকার অনুশীলন । প্রতিদিন
না করলে আপনাকে এই যোগ্যতা হারাতে হবে । তাই, প্রতিদিন
লিখে আপনার লুকনো সম্পদ বের করে আনুন ।
(৫) লেখার আগে কিছু পড়ুনঃ লেখার আগে অন্তত
ত্রিশ থেকে ষাট মিনিট কোন উঁচু দরের ছোট
গল্প, কবিতা কিংবা নিবন্ধ পড়ুন ।
এতে আপনার লেখায় সেই মহান সৃষ্টির ছাপ পড়বে । দেশি- বিদেশী সব ধরনের বই পড়ুন ।
কারণ, দেখা গেল এমন কোন স্থানের
বর্ণনা আপনি বিদেশী বইয়ে পেলেন
যা আগে কখনই বাংলা সাহিত্যে আসেনি । আর
যদি ইংরেজিতে আপনার ভালো দখল
না থাকে তবেও সমস্যা নেই কারণ, বিশ্বের মহান সাহিত্যের অমূল্য ভাণ্ডারের অনেক
রত্নই বাংলায় অনূদিত হয়েছে । এখন
এদেশে অনেক ভালো মানের অনূদিত গ্রন্থও
আছে । (৬) এমন একটা শিরোনাম দিন
যাতে পাঠক ধাক্কা খায়ঃ শিরোনামটা কিন্তু
অনেক গুরুত্ব বহন করে । অনেক পাঠক আছে যারা শিরোনাম দেখে লেখা পছন্দ
করে । তাই, আপনার লেখায় একটা কৌতূহল
উদ্দীপক, রোমাঞ্চকর, অব্যবহৃত শিরোনাম দিন
। যেমন, নীহাররঞ্জনের বই ‘কালো ভ্রমর’ এই
নাম শুনলেই মনে হয় একটা পতঙ্গের
সাথে গোয়েন্দার কীসের সম্পর্ক? আর, তখনই পাঠক কৌতুহলে উদ্দীপিত হয়ে সেই বই
পড়তে যায় । (৭) চা কিংবা কফি খানঃ লেখক
জেমস অল্টার বলেন, ‘নো কফি,
নো ক্রিয়েটিভিটি’ । তাই,
চা কিংবা কফি খান ।
এটা আপনাকে তাজা করে তুলবে । লেখার সময় চা- কফি খাওয়াটা অনেক বিখ্যাত লেখকেরই
অভ্যাস । তাই, চাঙ্গা হতে লেখার সময়
হাতের কাছে রাখুন এক কাপ কফি ।
(৮)মানুষকে হাসানো/
কাঁদানোঃ লেখা পড়ে যেন চোখে জল আসে এমন
লেখা লিখতে হবে আপনাকে আবার এমন লেখা লেখবেন যা পড়ে ক্ষণে ক্ষণে পাঠক
হেসে ওঠে । হাসি কান্নার মিশেলেই
তো জীবন তাই, লেখায় হাসি কান্নার দুটোর
মিশ্রণই থাকতে হবে । তাহলেই, সেটা বিশ্ব
সাহিত্যে এক অমূল্য রতন হয়ে থাকবে । আর
পাঠক আপনাকে মনে রাখবে চিরকাল । (৯) লেখায় স্বকীয়তা আনুনঃ ‘আমি একদম হুমায়ূন
আহমেদের মতোই লিখব’ এধরনের
ইচ্ছা মনে আনা ভুল। আপনি লিখবেন আপনার
মতো । লেখা আপনার এমন
হবে যাতে লোকে পড়ে বুঝতে পারে এটা আপনার
লেখা । আমি বিখ্যাত লেখকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করছি না, তবে এমন শব্দচয়ন,
বাক্যগঠন করবেন যাতে আপনার
স্বকীয়তা বজায় থাকে । (১০) কাউকে আঘাত
করে লিখবেন নাঃ অনেকে কোন সম্প্রদায়,
ধর্ম, ব্যক্তিকে আঘাত দিয়ে লেখেন ।
এটা করলে আপনি ঐ সম্প্রদায়, ধর্ম, ব্যক্তির কাছে শত্রু হয়ে দাড়াঁবেন । তবে, জাতির
স্বার্থে গঠন মূলক
সমালোচনা করা যেতে পারে । কিন্তু গঠন
মূলক সমালোচনা বলতে কখনই অন্যকে আঘাত
দেওয়া বুঝায় না । কোন ধর্মাবলম্বীকে আঘাত
করে কিছু লেখা যাবে না । প্রত্যেকের মতের, নিজ ধর্ম পালনের অধিকার আছে । ছোট ছোট
বাক্যে লিখুনঃ অনেকে অনেক বড় বড় জটিল
বাক্য লেখেন । কিন্তু এভাবে লিখলে পাঠক
অনেক সময় বুঝতে পারেন না । তাই, মাধুর্য
নিয়ে প্রাঞ্জল ভাবে ছোট ছোট বাক্যে মনের
কথা বলে দিন । (১১) এটা বলবেন নাঃ কখনই বলবেন না ‘এটা আমার মতে’ কারণ পাঠক
জানে এ লেখাটা সম্পূর্ণ আপনারই মত । তাই,
এটা উল্লেখ করলে লেখা বাহুল্য দোষে দুষ্ট
হয় । (১২) অন্য শব্দ
না লিখে লিখুনঃ অনেকে লেখেন
তিনি পরামর্শ দেন কিংবা অনেকে লেখেন সে চিৎকার করে। এসব একদম শোভন নয় । তাই,
প্রাঞ্জল ভাবে লিখুন ‘সে বলে’ ।
পাঠককে যদি আপনি ধরে রাখতে পারেন,
যদি আপনার লেখা রুদ্ধশ্বাসে পড়ে যায়
পাঠক, আপনার লেখা যদি পাঠককে হাসায়-
কাঁদায়- বিমোহিত করে, তবেই আপনি একজন সফল লেখক হতে পারবেন । সেজন্য দরকার
নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর প্রচুর অনুশীলন ।
সবার জন্য শুভকামনা রইলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *