ক্লাউড কম্পিউটিং কি ? প্রকারভেদ , সুবিধা, অসুবিধা ও এর ভবিষ্যৎ বিস্তারিত জানুন | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ক্লাউড কম্পিউটিং কি ? প্রকারভেদ , সুবিধা, অসুবিধা ও এর ভবিষ্যৎ বিস্তারিত জানুন

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 15 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কিত এ ব্লগটি পড়লে যা জানবেন :

ক্লাউড কম্পিউটিং কাকে বলে ? cloud computing কি ? cloud কি  ? সম্পর্কে সংক্ষেপে সম্পূর্ণ ধারনা ।

ক্লাউড কম্পিউটিং চালু করে কোন প্রতিষ্ঠান ?

ক্লাউড কম্পিউটিং কত প্রকার ? সুবিধা, অসুবিধা ও এর ভবিষ্যৎ ।

ক্লাউড কম্পিউটিং pdf , ক্লাউড কম্পিউটিং বই ….

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

ক্লাউড কম্পিউটিং হলো একটি ব্যবসায়িক মিথস্ক্রিয়ার মত যেখানে সেবাদাতা ( মালিক ) এবং গ্রহীতা (ব্যবহারকারি) উভয়ই লাভবান হয়।

“ক্লাউড” শব্দটা মূলত এসেছে, বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের ডায়াগ্রামে ইন্টারনেট এর অংশটুকু বোঝানোর জন্য । যে এটি হচ্ছে পুঞ্জীভূত এক গুচ্ছ মেঘ এর সদৃশ । সেখান থেকেই ক্লাউড নামকরণ।

ক্লাউড কম্পিউটিং হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা দেয়ার একটি মাধ্যম যেখানে সেবাদাতা ( মালিক ) এবং গ্রহীতা (ব্যবহারকারি) উভয়ই লাভবান হয় । ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান অন্যের রিসোর্সগুলো যেমন ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ, কিংবা অন্য কোনো সেবা নিতে পারে। এর জন্য উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আলাদা ভাবে পুরো অবকাঠামো তৈরির কোনো দরকার পড়ে না। যেমন, আপনার কয়েকদিনের জন্য একটা হাই পারফরম্যন্স এর কম্পিউটার এর দরকার পড়ল। সবসময় যেটার কোনো কাজ নেই। এখন কয়েকদিনের জন্য এমন কনফিগারেশান এর কম্পিউটার কিনেও পোষায় না। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যাবে। তখন আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে যে কোনো ক্লাউড কোম্পানি থেকে আপনার যে কয়দিন দরকার ঠিক সেই কয়দিনের জন্য ভার্চুয়ালি আপনার দরকার মত মেশিন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার বাড়তি অনেক খরচ যেমন বেঁচে যাবে তেমনি কোম্পানির ও কোনো লস নাই আপনাকে কয়দিনের জন্য একটা রিসোর্স ভাড়া দিয়ে। কারণ তাদের রিসোর্স অলস বসে থাকেনা। অনবরত কেউ না কেউ ভাড়া নিচ্ছে আবার ফেরত দিচ্ছে।

Also read : সেরা ৫টি অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস

ব্যাখ্যা :  লাইব্ররিতে আমরা যেমন বই ভাড়া নিয়ে পড়ি এবং এতে উভয়েরই লাভ হয় । তেমনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর সেবাদাতা থেকে সেবা পাওয়ার জন্য , তাদের রিসোর্স ব্যবহার করার জন্য আমরা তাদের টাকা দিয়ে থাকি এবং এতে উভয়েরই লাভ হয় ।

 

ক্লাউড স্টোরেজ কি?

গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স কিংবা মাইক্রোসফট এর ওয়ানড্রাইভ ,কিংবা এপল এর আইক্লাউড ইত্যাদি হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ এর উদাহরণ । মূলত ক্লাউড স্টোরেজ হল ভার্চুয়ালি ডাটা( যেমন : অডিও,ভিডিও,ছবি ফাইল ইত্যাদি )  সংরক্ষণের একটি উপায়। আমরা দরকারি ডাটা( যেমন : অডিও,ভিডিও,ছবি ফাইল ইত্যাদি ) পেন ড্রাইভ বা হার্ডডিস্ক এ সরংক্ষণ করি সেগুলো ক্লাউড স্টোরেজে সরংক্ষণ করতে পারব । এসব সরংক্ষণ এরই আধুনিক এবং সিকিউর রূপ হল ক্লাউড স্টোরেজ। ধরুণ খুব প্রয়োজনীয় বা ব্যক্তিগত কোনো ডাটা হার্ডডিস্ক বা পেন ড্রাইভে রাখলেন। কোনোভাবে হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করল কিংবা পেন ড্রাইভ চুরি হয়ে গেল তখন আর কিছু করার থাকেনা। কিন্তু আপনি যদি ক্লাউড এ স্টোর করে রাখেন তাহলে এই ভয় টা আর থাকেনা।

আবার ধরুন হঠাৎ করে কোথাও কাউকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডাটা পাঠানো দরকার। আপনার সেই ডাটা যদি ক্লাউডে স্টোর করা থাকে তাহলে আপনি যে কোনো জায়গা থেকে সেটা একসেস করে কাজ করতে পারবেন। আপনাকে সারাক্ষণ স্টোরেজ একসেসরিজ(পেনড্রাইভ) নিয়ে চলাফেরা করতে হবেনা।

গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স কিংবা মাইক্রোসফট এর ওয়ানড্রাইভ ,কিংবা এপল এর আইক্লাউডে একাউন্ট খুললেই আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু স্পেস দেয়া হবে। পরে চাইলে আপনি আরো বাড়তি স্পেস কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

ক্লাউড কম্পিউটিং চালু করে কোন প্রতিষ্ঠান ?

ক্লাউড কম্পিউটিং এর ইতিহাস শুরু ১৯৬০ সাল থেকে।২০১০ সালে The Rackspace Cloud এবং NASA মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস ব্যবহার শুরু করে। এভাবেই ক্লাউড কম্পিউটিং জন সাধারণের মুঠোয় আসতে শুরু করে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর মতো  আর কিছু আছে কি ? 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে :

  • গ্রিড কম্পিউটিং
  • প্যারালাল কম্পিউটিং
  • ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং

ডিস্ট্রিবিউটেড, গ্রিড কম্পিউটিং এবং প্যারালাল কম্পিউটিং এর সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং এর চরিত্রগত মিল কম।

ক্লাউড এর অসুবিধাঃ 

সবকিছুরই ভাল ও খারাপ দিক আছে  , কেউই দুধে ধোয়া তুলসিপাতা নয় । এটা তো আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। সেই সূত্রে ক্লাউড এরও কিছু সমস্যা আছে।

# ক্লাউড এর একটা বড় সমস্যা হল সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি সমস্যা। যেমন, আপনি যে কোম্পানির ক্লাউডে ডাটা রাখলেন তারা যে আপনার ডাটা দিয়ে কিছু করছেনা তার কোনো গ্যারান্টি তারা আপনাকে দিবেনা । কিছু কনফিডেনশিয়াল সেক্টর আছে যেমন, প্রতিরক্ষা সেক্টর। তারা ক্লাউড ব্যবহার করলে তাদের জন্য সুবিধা থেকে অসুবিধা বেশি। প্রথমত তারা তাদের ডাটার সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন এনক্রিপশান টেকনিক ব্যবহার করতে পারে সিকিউরিটি ইস্যু নিশ্চিত করতে। তারপরও তাদের ডাটা থেকে ছোট একটা অংশ কিংবা একটা সিঙ্গেল ইনফরমেশান দরকার হলে তাদেরকে পুরো ডাটাটাই আগে ডিক্রিপ্ট করতে হবে। এবং একটা ছোট অংশের জন্য পুরো ডাটাসেট ডিক্রিপ্ট করার পদ্ধতিগুলো যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমন ব্যয়বহুল ও।

# আরো কিছু সমস্যা আছে যেমন, ইন্টারনেট দিয়েই যেহেতু এই পুরো সিস্টেমের সাথে কানেক্ট থাকতে হয় তো ইন্টারনেটে বলতে গেলে কোনো কিছুই ১০০% সিকিউর না। তথ্য ফাঁস কিংবা করাপ্ট হবার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়।

# আবার কোনো কারনে ইন্টারনেট কানেকশান না থাকলে বা খুব ধীরগতির ইন্টারনেট কানেকশন হলে ক্লাউডে কানেক্টেড থাকাও সম্ভব নয়। ক্লাউড ব্যবহারের আগে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট কানেকশান নিশ্চিত করতে হবে।

ক্লাউড এর ভবিষ্যৎঃ

ক্লাউড বিশেষজ্ঞরা ক্লাউড কম্পিউটিং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু বলেন। কিছু উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যৎবাণী :

“ট্রেডিশনাল ডাটা সার্ভিস এবং ট্রেডিশনাল প্রযুক্তি সারভিসগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নিজের কোম্পানির জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি, যন্ত্রপাতি কেনা কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যার ইন্সটলেশান এসব আমরা ভুলে যাব।এই সবগুলো একটি ইকোসিস্টেমে পড়ে যাবে এবং এই ইকোসিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করবে ক্লাউড।“

David Hartley, Virtual CIO & Principal, Technology Advisory Services for UHYLLP

“ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে বিশ্বে এক অসীম যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ১০/১৫ বছরের মাঝেই মানুষ রাউটার, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এসব নিয়ে আর কথা বলবে না।“

Marcus Vlahovic, Founder & CEO of Sustainabody

“১০/১৫ বছরের মাঝেই ৫০% ছোট কোম্পানি তাদের কোম্পানির ওয়ার্কস্টেশান এর জন্য আলাদা কম্পিউটার টাওয়ার, সার্ভার কেনার পরিবর্তে সহজভাবে একটি মনিটর, মাউস, কীবোর্ড এবং এসব নিয়ন্ত্রণ এর জন্য একটি থিন ক্লায়েন্ট কিনবে। বাকি কাজ ক্লাউড সরবরাহকারী কোম্পানিই করবে। এমন কি কোনো সফটওয়ার আপডেট নিয়ে ও ভাবা লাগবেনা।“

Mike Smith, Founder of AeroComInc.com

“হিস্টোরি চক্রাকারে ঘুরে আসে। একসময় বড় বড় মেইনফ্রেম এবং কেন্দ্রীয় কম্পিউটারগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছিল শক্তিশালী দূরবর্তী ব্যক্তিগত কম্পিউটার দ্বারা। এবং এই শতকের প্রথম দিকে আমরা আবার ক্লাউড এর মাধ্যমে ফিরে গেছি কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ব্যবস্থায়। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হয়ত হবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং নিউরাল ইন্টিগ্রেশান এর মাধ্যমে যন্ত্র এবং ব্রেইন কে সংযুক্ত করে দেয়া।“

Jeff Schilling, CSO of Armor

 

 

 

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*