গিনেস বুক অফ ওয়াল্ড রেকডস>>রাশিয়ার মসজিদ


রাশিয়ার সাত হাজার মসজিদের
মধ্যে একটির জায়গা হয়েছে গিনেস বুক অফ
ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে. নরিলস্ক শহরের মুসলমান
ধর্মোপাসনা ভবন বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরের
মসজিদের স্বীকৃতী পেয়েছে. নরিলস্ক শহর উত্তর মেরুর বলয়ের ৩০০
কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত. এই
শিল্পোত্পাদন নগরী এই নগরী তুলনামূলক
ভাবে নবীন – রাশিয়ার মানচিত্রে শহর
হিসাবে পরিচিত ১৯৫৩ সাল থেকে. আজ এই
শহর বিশ্বে মেরু বলয়ের ওপারের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর বলে পরিচিত.
প্রথমটি এই ক্রাসনোইয়ারস্ক রাজ্যেরই
মুরমানস্ক শহর. নরিলস্ক শহরে দুই লক্ষেরও
বেশী মানুষ বাস করেন. তাঁদের প্রায় এক
চতুর্থাংশ – প্রজাতিগত ভাবে মুসলমান.
তাঁদের সকলেই স্থানীয় আদি বাসিন্দা নন. এই বিষয়ে নরিলস্ক শহরের মসজিদের ইমাম –
খাতীব আবদুল্লা- হজরত গালিমভ বলেছেন: “বেশী লোক অবশ্য, বিভিন্ন প্রজাতির
এখানে কাজ করতে আসা লোক. অনেকেই
এখানে এসেছেন ককেশাস থেকে, তাতারস্থান,
বাশকির আর অনেক আজারবাইজান থেকে.
কাজের সন্ধানেই এঁদের সকলের এখানে আসা”. একমাত্র বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায়
রাশিয়ার অন্যান্য জায়গার থেকে যুক্ত
নরিলস্ক শহরে কাজ করার অনেক
জায়গা রয়েছে. এটা রাশিয়ার একটি বড়
শিল্প নগরী: এখানে বিশ্বের সমস্ত নিকেল
উত্পাদনের একের পঞ্চমাংশ করা হয়ে থাকে, আর তরা সঙ্গে রয়েছে তামা, কোবাল্ট, অনেক
মূল্যবান ধাতু. আর নরিলস্ক শহরে প্রথম
দশকে ধর্ম বিশ্বাসী লোকদের নিজেদের
ধর্মীয় আচার পালন করা বেশ সমস্যার বিষয়ই
ছিল. ১৯৯৬ সালে এখানে প্রথম অর্থোডক্স
গির্জা তৈরী করা হয়েছিল, আর তার দুই বছর পরে শহরকে সুন্দর করেছিল একটি পান্না সবুজ
রঙের মসজিদ. গালিমভ বলেছেন: “এই মসজিদ উপর
থেকে দেখলে তারা আকৃতির, এর মিনার – উপর
থেকে দেখলে চার কোনা. প্রার্থনা করার
জায়গা ভিতর গোল, মিনারের উচ্চতা ৩০
মিটার, সব মিলিয়ে মসজিদ তেমন কিছু বড়
নয়, কিন্তু তার ভিতরে দুটি তলা রয়েছে. নীচের
তলা আমরা মাদ্রাসা হিসাবে ব্যবহার
করে থাকি”. এই মসজিদের নিয়মিত
প্রার্থনা করতে আসা লোকরা কৃতজ্ঞতার
সঙ্গে স্মরণ করেন সেই ব্যক্তিকে,
যিনি নরিলস্ক শহরে প্রথম মসজিদ
তৈরী করেছেন: ইনি হলেন মুখতাদ
বেকমেয়েভ, তাতারস্থানের আদি বাসিন্দা. তিনি এমনকি মসজিদের নামও দিয়েছেন –
“নুর্দ- কামাল”, নিজের বাবা নুরুদ্দীন ও
মা গাইনিকামালের স্মৃতির উদ্দেশ্য.
গালিমভ বলেছেন: “নরিলস্ক শহরের আরও অন্যান্য ভবনের
মতই এই বাড়ী তৈরী করা হয়েছে পিলারের
উপরে, তা এই কারণে করা হয়েছে যে,
এখানে মাটির সামান্য
গভীরে রয়েছে চিরন্তন হিম, যা মাটির
গভীরে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত নীচে চেলে গিয়েছে. যদি এই জমি আচমকা খুব
গরম কোন গ্রীষ্মকালে গলতে শুরু করে, তবে এই
বাড়ীর ভিত সরতে শুরু কতে পারে, তাই
যাতে বাড়ী অনড় অবস্থায়
দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, এই জন্য ভিত
তৈরী করা হয়েছে এই সব পিলারের উপরে, যা মাটিতে গভীরে পুঁতে দেওয়া হয়েছে,
সঠিক করে বললে হিম বরফের মধ্যেই
গভীরে জমিয়ে দেওয়া হয়েছে”. বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরের মসজিদের অনেক
গুলি বাইরের আকারে বিশেষত্ব রয়েছে.
যেমন, সাধারণতঃ, মিনার তৈরী করা হয় গোল
চূড়া সমেত, কিন্তু নরিলস্ক
শহরে করতে হয়েছে চৌকো. কারণ – আবারও
সেই উত্তরের প্রাকৃতিক আবহাওয়া: বছরের দুই তৃতীয়াংশ সময়ে এখানে গড়ে মাসিক
তাপমাত্রা থাকে শূন্যের অনেক নীচে,
এমনকি শীতের সময়ে তা সবচেয়ে কম হয় – ৫০
থেকে – ৫৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড. তাই
এখানে ইঁট বসানোর সময়ে মিনারের গোল
দেওয়াল বেশী জমে গিয়ে হাওয়ার তোড়ে বেশী প্রতিক্রিয়া করত. মসজিদ ও মিনারের ছাত
এখানে করা হয়েছে ঢালু: তা না করে উপায়
নেই – বরফ পড়ে বলে. নরিলস্ক শহরের
প্রত্যেক বাসিন্দার জন্য বছরে প্রায় ১০ টন
করে বরফ পড়ে বলে মনে করা হয়! আবদুল্লা- হজরত গালিমভ নরিলস্ক শহরের
মসজিদে আজ মোটে পাঁচ মাস হল কাজ
করতে এসেছেন. তাঁকে এই
শহরে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয়
রাশিয়া থেকেই, রাশিয়ার ঐস্লামিক
বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ সাঙ্গ করার পরে. তিনি কথা শেষ করার সময়ে বলেছেন: “এখানের আবহাওয়া সত্যই দক্ষিণের
এলাকার থেকে অনেকটাই আলাদা. এখানে সব
কিছুই অন্য রকমের – মেরু অঞ্চলের দিন
রাত্রি – বছরে ছয় মাস রাত ও ছয় মাস দিন.
এই রকমের শুধু হয়ে থাকে মেরু বলয়ের উপরে.
আর এখানে হাওয়ার চলে খুব জোরে. যদি -১০ ডিগ্রী তাপমাত্রা হয় ও তার
সঙ্গে জোরে হাওয়া বয়, তাহলে খুবই
ঠাণ্ডা লাগে. কারণ প্রত্যন্ত উত্তরের এই
জায়গায় সব কিছুই – অন্য. কিন্তু মানুষ – সেই
রকমেরই ও ধর্ম বিশ্বাস ও সেই রকমেরই. আর
আমার প্রধান কাজ হল – ধর্ম বিশ্বাসী দের পথ প্রদর্শন”.

Author: বাপি কিশোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *