জানুন আসলে লিনাক্সটা কি ?

আসলে লিনাক্স হচ্ছে কম্পিউটারের জন্যে তৈরি একটি ওপেন সোর্স ও বিনামূল্যের অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল বা মূল অংশকেও লিনাক্স বলা হয়। রিচার্ড স্টলম্যান ১৯৮৩ সালে গনু প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি ভালমানের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা যার মাধ্যমে সকলেই উপকৃত হবে।m

লিনাক্স একটি সেরা অপারেটিং সফটওয়্যার । অতীতে লিনাক্স সংস্থাপন ও এর গঠন-প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য ব্যবহারকারীদের কম্পিউটার সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হত। কিন্তু বর্তমানে লিনাক্স আমাদের সামনে ধীরে ধীরে তার সুবিধার পরিধি বিস্তৃত করে চলেছে যার ফলে এটি অত্যন্ত সহজ একটি ওএস হিসেবে পরিচিত। লিনাক্স ব্যাবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা এটি ব্যাবহারের জন্য আমাদের কোন পয়সা গুনতে হয়না। আমাদের মত দরিদ্র দেশের মানুষে কাছে অর্থ খরচ করে উইন্ডোজ এর মত অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার করা সম্ভব নয় বিধায় মুক্ত দুনিয়ায় অর্থাৎ ওপেন সোর্স সফটওয়্যারই পারে আমাদের বিনা খরচে সব সুবিধা দিতে।

আমাকে আপনাকে দেবে স্বাধীনতার স্বাদ কারন লিনাক্স ব্যাবহারের সবচেয়ে বেশি মজাটা হচ্ছে লিনাক্সের অন্তর্নিহিত সোর্স কোড আপনি ইচ্ছা করলেই বাধাহীনভাবে ব্যবহার করতে এবং ভেঙ্গে নতুন কোড সংযোজন করতে পারেন । লিনাক্সের অন্তর্নিহিত সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকার ফলে বিশ্বের হাজার হাজার প্রোগ্রামাররা নিঃস্বার্থভাবে এই অপারেটিং সিস্টেমকে উন্নতিসাধন করে চলেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
যারা নতুন লিনাক্স অথবা উবুন্টুর মত উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করেন তারা না বুঝেই অনেকসময় বিরক্ত হন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো কিছুদিন লিনাক্স ব্যাবহার করুন এবং প্রয়োজনে অনলাইন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লিনাক্স অথবা উবুন্টুর বিষয়ে জানুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনিও একজন লিনাক্স প্রেমি হয়ে উঠবেন।

লিনাক্স কি?
কয়েক সপ্তাহের মাঝে বের হল ভার্সন ০.০৩।

 অপারেটিং সিস্টেমের নাম হবে “ফ্রিক্স” (FREAKS) যেটা কিনা “Free”, “Freak” আর “Unix” শব্দ তিনটার মিলিত একটা রূপ। কিন্তু নামটা পছন্দ হয়নি এ্যারি লেম্কের। এ্যারি লেম্কে ছিল লিনুসের বন্ধু ও সহকর্মী এবং হেলসিংকি ইউনিভার্সিটির এফটিপি সার্ভারের এডমিনিস্ট্রেটর। এফটিপি সার্ভার দিয়ে খুব সহজেই যেকোন ফাইল সবার সাথে শেয়ার করা যায়। এ্যারিই লিনুসকে বুদ্ধি দিল যে নতুন ওএসের সোর্সকোডকে এফটিপি সার্ভারে শেয়ার করতে, যাতে করে পৃথিবীর সবার জন্যই এর কোডটা উন্মুক্ত থাকে আর যে কেউ সেটা নামিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারে। তবে এজন্য “ফ্রিক্স” নামটা পছন্দ হলনা এ্যারির। সে “লিনাক্স” নামের এক ফোল্ডারে এফটিপি সার্ভারে সেই কোডগুলো রেখে দিলেন। সেই থেকে নাম হয়ে গেল “লিনাক্স”। ওহ, বলতে তো ভুলেই গেলাম কেন এর নাম লিনাক্স হল, সহজ ব্যাপার “Linus’s Unix” থেকেই এ্যারির মাথায় লিনাক্স নামটা চলে আসে। আসল নাম হারিয়ে লিনাক্স এখন যে নামে পরিচিত সেটা আসলে তার ডাউনলোড করার জন্য রাখা ফোল্ডারের নাম।

লিনাক্স মিন্ট কি?
লিনাক্স মিন্ট উবুন্টুর উপর ভিত্তি করে তৈরী করা একটি ডেক্সটপ অপারেটিং সিস্টেম। এটি ৩২ বিট ও ৬৪ বিট উভয় প্রকৃতির প্রসেসিং সাপোর্ট করে। এর ডেভেলপমেন্ট শুরু হয় ২০০৬ সালে। লিনাক্স মিন্ট ও রিলিজ সমূহের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে থাকে উবুন্টুর ন্যায় এবং লিনাক্স মিন্ট ডিস্ট্রো সাংকেতিক নামেই বেশী পরিচিতি পেয়ে থাকে। বর্তমান রিলিজের নাম হলো লিনাক্স মিন্ট ১০ এবং এর সাংকেতিক নাম হলো ‘জুলিয়া’।

রিলিজ ৫ বা এলিস্যা থেকে উবুন্টুর ন্যায় প্রতি ৬ মাস অন্তর লিনাক্স মিন্ট ও রিলিজ হয়ে আসছে এবং ইনশাল্লাহ রিলিজ হবে। মাইনর আপডেট রিলিজের ক্ষেত্রে মূল ভার্সনের পর দশমিক চিহ্ন দিয়ে তারপর মাইনর আপডেট রিলিজে সংখ্যাটা যুক্ত করা। যেমন ৩.১ বা সেলেনা হলো ভাসর্ন ৩ এর মাইনর আপডেট রিলিজ। লিনাক্স মিন্টের রিলিজের সাংকেতিক নামগুলো মূলত মেয়েদের নামেই করা হয়। এক্ষেত্রে নামের প্রথম অক্ষর রিলিজ ক্রমানুসারে ইংরেজী বর্নমালা থেকে নেয়া হয় এবং শেষ অক্ষরটা ‘a’ রাখা হয়। এটি পুরোপুরি অনলাইন কমিউনিটি ডেভেলপড বিধায় এতে কোন রকম বিধি নিষেধ কিংবা লাইসেন্সিং জটিলতা নেই।
লিনাক্স মিন্ট রিলিজগুলো
১.০ আডা (Ada)
২.০ বারবারা (Barbara)
২.১ বিয়া (Bea)
২.২ বিয়ান্সা (Bianca)
৩.০ ক্যাসান্ড্রা (Cassandra)
৩.১ সেলেনা (Celena)
৫ এলিস্যা (Elyssa)
৬ ফেলিসিয়া (Felicia)
৭ গ্লোরিয়া (Gloria)
৮ হেলেনা (Helena)
৯ ইসাডোরা (Isadora)
১০ জুলিয়া (Julia)

চলবে–

1 thought on “জানুন আসলে লিনাক্সটা কি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *