টেলিটক এর 3G সেবা শুরু




থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্মের)
মোবাইল সার্ভিস প্রথম
পর্যায়ে রাজধানী ঢাকায় চালু করা হবে। তিন
লাখের
বেশি গ্রাহককে থ্রিজি মোবাইল
ফোন সেবা দেয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত
করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর
টেলিটক। আগামী জুলাই
মাসে থ্রিজি সিম গ্রাহক
পর্যায়ে ছাড়া হবে। থ্রিজির
জন্য সারা দেশে ৭ শ’ বিটিএস (বেস স্টেশন)
স্থাপন করা হবে।
রাজধানীর বিটিএস স্থাপনের কাজ চলছে। অপারেটিং সিস্টেম নিয়েও
কাজ চলছে। সারাদেশে এক
যোগে থ্রিজি চালু করার
কথা থাকলেও প্রথম
দিকে বিভাগীয় শহরগুলোতে এই
সুবিধা দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে থ্রিজি চালু
করা হবে। বিদেশী বিনিয়োগ
বাড়াতে থ্রিজির আরও
৪টি লাইসেন্স দেয়া হবে। এই লাইসেন্স
উম্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে হবে বলে সূত্র
জানিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ
নিয়ন্ত্রণ কমিশনের
(বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর
জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ
জনকণ্ঠকে জানান, থ্রিজির
খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নীতিমালায়
কিভাবে থ্রিজি সার্ভিস চালু
করা হবে তার বিস্তারিত
উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালাটি ডাক ও
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালাটি মন্ত্রণালয়
থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন
হয়ে এলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী জুলাই
মাসের প্রথম
দিকে থ্রি জি লাইসেন্স দেয়ার
কাজ শেষ করা হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে,
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক মোবাইল
অপারেটরসহ নতুন আরও
চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স
দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ওই
নীতিমালায়। থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার সময় পরবর্তী চতুর্থ
প্রজন্ম (ফোরজি) এবং লং টার্ম
ইভাল্যুয়েশন (এলটিই) প্রযুক্তিও
এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেলুলার মোবাইল ফোন সার্ভিস
(থ্রিজি, ফোরজি ও এলটিই)
রেগুলেটরি লাইসেন্স গাইড
লাইন ২০১২ নামে এ
খসড়া নীতিমালায়
চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেসরকারী পাঁচ মোবাইল
অপারেটরের
মধ্যে দুটি অপারেটরকে লাইসেন্স
দেয়া হতে পারে।
বাকি দুটি নতুন অপারেটরকে লাইসেন্স
দেয়া হবে। খসড়া নীতিমালায় সব ধরনের
তরঙ্গের (স্পেক্ট্রাম)
প্রতি মেগাহার্টজের
ফি ধরা হয়েছে ১৫০
কোটি টাকা। থ্রিজি লাইসেন্স
নিলামে প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ‘ফ্লোর প্রাইস’ থাকবে দেড়
হাজার কোটি টাকা। তৃতীয়
প্রজন্মের মোবাইল সার্ভিস
(থ্রিজি) লাইসেন্স
থেকে আনুমানিক ৮ হাজার
কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোন অপারেটর
থ্রিজি লাইসেন্স নেয়ার পর
বিটিআরসির অনুমোদন
নিয়ে তাঁদের নেটওয়ার্ক
ফোরজি বা এলটিইতে উন্নীত
করতে পারবেন। এতে অতিরিক্ত কোন অর্থ না নেয়ার প্রস্তাবও
করা হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রতিষ্ঠান টেলিটক,
গ্রামীণফোন, বাংলালিংক,
রবি, এয়ারটেল এবং সিটিসেল
দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি)
সেবা দিচ্ছে। বিশ্বের বহু দেশে টুজির
পাশাপাশি থ্রিজি মোবাইল
চালু হয়েছে। কিছু
দেশে তো ফোরজি মোবাইল
সেবা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত গতির
ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থাকায় গ্রাম
পর্যায়ে মানুষ ইন্টারনেট
সুবিধা পাবে। বিটিআরসি জানিয়েছে,
থ্রিজি প্রযুক্তির
মাধ্যমে উচ্চগতিতে তথ্য
পরিবহন সম্ভব হওয়ায় মোবাইল
ফোনেই টিভি দেখা, জিপিএসের
মাধমে পথনির্দেশনা পাওয়া, উচ্চগতির ইন্টারনেট
ব্যবহারসহ ভিডিও
কনফারেন্সে অংশ নেয়া সম্ভব
হবে। থ্রিজির পরের ধাপের
প্রযুক্তি হচ্ছে ফোরজি। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ফোরজিকেই
লং টার্ম ইভাল্যুয়েশন (এলটিই)
বলছেন। এলটিই
প্রযুক্তিতে থ্রিজির চেয়েও
বেশি গতিতে তথ্য আদান-প্রদান
করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির এই ফোনে একজন
অন্যজনকে দেখে কথাও
বলতে পারবেন। এমনকি ভিডিও
কনফারেন্সও করা যাবে। এ
ছাড়া ইন্টারনেটে ব্রাউজিং,
মোবাইল টিভি দেখা, ভিডিও কনফারেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ
কাজ করা সম্ভব হবে।
থ্রিজি ফোন চালু হলে গ্রাহক
বিশ্বকে পেয়ে যাবে হাতের
মুঠোয়। থ্রিজির লাইসেন্স
উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে দেয়া হবে। থ্রিজি হচ্ছে তারবিহীন
ইন্টারটে ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি।
আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল
থ্রিজি এখন পৃথিবীর অনেক
দেশেই চালু হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। টেলিটকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর
রহমান জানান, শুরুতে বিভাগীয়
শহরগুলোতে থ্রিজি সেবা চালুর
কথা থাকলেও
প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে এ সেবা দেয়া হবে। প্রথম
পর্যায়ে শুধু ঢাকার গ্রাহকদের
জন্য থ্রিজি সিম সরবরাহ
করা হবে। অন্য বিভাগীয়
শহরগুলোতে অক্টোবরের মধ্যেই মানুষ
থ্রিজি ব্যবহার করতে পারবেন। ঢাকার পরে চট্টগ্রাম
বিভাগে থ্রিজি চালু করা হবে।
চট্টগ্রামে থ্রিজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ
প্রায় শেষের
পথে।
সূত্রঃRIYADHHOSSEN.blogspot.com

Author: বাপি কিশোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *