দুষ্টু মিষ্টি সংবাদ : পর্ব ০১

আমি কম্পিউটারে বসে আছি। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল আমার দুই মেয়ে-দুষ্টু ও মিষ্টি। ওরা জমজ। ৩ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের।ওরা ক্লাস নাইনে পড়ে।যেমন দুজনের ভাব আবার তেমনই গন্ডগোল।

ঘরে ঢুকেই দুষ্টু বলল –জানো বাবা ,আজ একটা দারুণ জিনিস শিখলাম।

কম্পিউটারের মনিটারের দিকে চোখ রেখেই বললাম –কী ?

-offence is the best defence . দুষ্টু বলল।

আমি বললাম-প্রতি আক্রমণই আত্মরক্ষার সবচেয়ে বড় পন্থা।

সঙ্গে সঙ্গে আমার ছোটমেয়ে মিষ্টির উত্তর-‘বাবা ,একটু ভুল হল-কথাটা হবে-প্রতিরোধই হল আত্মরক্ষার সবচেয়ে বড় পন্থা।’ নাম মিষ্টি হলে কী হবে ওর মুখ মোটেই মিষ্টি না।যা বলে তা একেবারে মুখের উপরেই বলে দেয়।কিন্তু মন একেবারে স্বচ্ছ।

সঙ্গে সঙ্গে আমার বড় মেয়ে দুষ্টু বলে-ওই একই হল।বাবা যা বলেছে ,আর তুই যা বলেছিস তা আসলে একই।’ আমার বড় মেয়ের একেবারে বাবা অন্ত প্রাণ।বাবার নামে কেউ কিছু বলবে এ ও মোটে সহ্য করতে পারেনা।

-দেখ দুষ্টু,মোটেই দুটো এক নয়।ঠিক টাকে সব সময় ঠিক বলতে শেখ।

আমি দেখি একটা গন্ডগোল বাধার উপক্রম।বাধ্য হয়ে মনিটর থেকে চোখ সরাতেই হল। আমি বললাম- ইংরেজিটাই শুধু ভাবছিস কেন।একটু ভেবে দেখ আমি যা বললাম তা ঠিক কিনা? এই ধর আমার কম্পিউটারে কত সফট ওয়ার রয়েছে , কত মূল্যবান ডকুমেন্ট ,কত পুরনো সংগ্রহের গান রয়েছে।এবার ভাব কোনো একটা ভাইরাস যদি আমার কম্পিউটারে আক্রমণ করে,তবে আমি কী করব।নিশ্চয়ই বসে থাকব না।কী করব! এভাস্ট এন্টিভাইরাস দিয়ে ওটাকে প্রতি আক্রমণ করব।ওটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।ঠিক কি না?তাহলে দেখ আমিই কিন্তু ঠিক কথা বলেছি।

এতক্ষণ মিষ্টি একমনে আমার কথা শুনছিল।কোনো কথা বলেনি।এটা ওর একটা বড় বৈশিষ্ট্য।ও তর্ক করার সময় প্রতিপক্ষের সব যুক্তি মন দিয়ে শোনে, বক্তব্যের ত্রুটি গুলোও।

আমি থামলে ও বলল-বাবা ,দেখ তোমার চিন্তার মধ্যে একটা ফাক রয়ে গেছে।তুমি ভাবছ ভাইরাস আক্রমণ করলে তবে তুমি এন্টিভাইরাস দিয়ে তাকে শায়েস্তা করবে।তুমি এমনটা কেন ভাবতে পারছ না ,যাতে ভাইরাস তোমাকে আক্রমণ করতে না পারে তার প্রি-কসান ব্যবস্থা করতে।

বললাম-তা তুইই বল না,এরকম অবস্থা হলে কী করবি ?

-আমি দেখব যাতে ভাইরাস আমাকে আক্রমণই না করতে পারে।

দুষ্টু বলল-এতক্ষন ধরে তো বকবক করেই যাচ্ছিস,বলেই ফেল না ,তোর পরিকল্পনাটা।

-বারে আমি আর কতক্ষণ কথা বললাম।বাবাই তো এতক্ষণ বলছিল।আর আমি কী করতাম তা তো তুই জানিস।তোর কাছ থেকেই তো আমি পরিকল্পনাটা পেয়েছি।’ বুঝলাম দুই বোনেই বিষয়টা জানে।আমার দুই মেয়েই কম্পিউটারে চৌখস।আমাকে কষ্ট দিতে চায়নি বলে দুষ্টু বিষয়টা চেপে গেছে।আবার বোনকে ভালোবাসে ব’লে এই কৌতূহল উদ্রেককারী বিষয়টা বোনকেই ব’লতে দিয়েছে , নিজে যেন কিছুই জানে না।

মনে মনে বেশ আনন্দ হল। মুখে কৃ্ত্রিম রাগ এনে বললাম -অত ভণিতা না করে বলেই ফেল না।

-বাবা ,তুমি জানো যে windows এর অধিকাংশ Software – .exe ফাইল হয়। আবার .msi হয়।এবং ভাইরাসগুলো এই ফাইলগুলোকেই আক্রমণ করে।

বললাম-তাতে ?

-এখন তুমি যদি এখন এই software গুলোকে তোমার Computer –এ রাখো পরবর্তী সময়ে install-এর জন্য ,তবে ভাইরাস তোমার ওই .exe বা .msi ফাইলগুলোকে corrupt করে দেবে ,তুমি ওই software গুলোকে ইনস্টল করতে গেলে ইনস্টল হবে না। ঠিক তো ?

-একদম।

-আবার তোমার সংগ্রহ করা পুরনো গান গুলো অনেকসময় যখন অন্য ড্রাইভে কপি-পেস্ট করতে গেলে কিছুটা কপি হবার পর আর হতে চায় না।ফাইল Corrupted দেখায়।ঠিক কিনা ?

-হ্যাঁ,এরকম কখনো কখনো হয়েছে ।

-এরকম যাতে না হয় তার জন্য তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।তুমি প্রথমে ওই Software ও গানগুলোকে নির্দিষ্ট ফাইলে নিয়ে নাও।এরপর Nero বা অন্য কোনো Image Burner দিয়ে ISO বা NRG তে Image করে নাও।
এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো মিষ্টি।দুরন্ত মেয়েটা হাপিয়ে গেছে।স্কুলে গেছে সেই সকালে।বাড়ি ফিরে এখনো টিফিনও করেনি।

আমি বললাম-তারপর?

-এইতো হয়েই গেল।আর একটু খানি কাজ বাকি।এবার নিচের ঠিকানা থেকে ডেমনটুলস ডাউনলোড করে নাও।

http://mirror25.soft24.com/getfile.php?p=http://na-us1.disk-tools.com/b000b369b7fbcc42901a76b94ea3960c/DTLite4451-0236.exe

Install হয়ে গেলে যখন দরকার পড়বে তখন ওই ফাইলগুলো Mount করে নাও।ব্যস হয়ে গেল।তুমিতো জানোই ইমেজ ফাইলগুলোকে ভাইরাস কিছু করতে পারেনা। তুমি যদি তোমার গান আর software গুলোকে cd write করে রাখো তাহলে সেটাও বহুদিন ভালো থাকবে কেননা ওখানে সেটা Image আকারে থাকবে , Software বা গান হিসাবে নয়।
আর হ্যা ,এতে তোমার Privacy ও বজায় থাকবে।কেননা কী ভাবে এই ফাইল খুলতে হয় তা না জানলে কেউ এটা খুলতে পারবেনা।তুমি মায়ের সংগে তোমার বিয়ের CD টা এই ভাবে Private করে রাখতে পারবে।

আমি বললাম-হ্যাঁ।শিয়ালের কাছে ছাগল পুষানি।

দুই বোন হি হি করে হেসে উঠলো।

আমি বললাম-সে তো হল ,কিন্তু এটাতো শুধু পরে install করার জন্য রেখে দেওয়া software গুলোর ক্ষেত্রেই হবে।Install করে ফেলা software গুলোর ক্ষেত্রে তো হবে না।

মিষ্টি, মিষ্টি হাসি হেসে বলল-ফল রাখার চেয়ে গাছ রাখাই তো ভালো, তাই না?

মিষ্টি আবার বললো-আর হ্যা যদি তুমি ডেমনটুল install করতে না পার তবে আমাকে বোলো,আমি শিখিয়ে দেব।বোলেই দুইবোন মিলে আবার হেসে উঠল।একবার এদের হাসি শুরু হ’লে আর থামতে চায় না।

গম্ভীরভাবে বললাম-তোকে শেখাতে হবে না,আমি ওটা পারি।আর হ্যা,তুই যেটা শিখালি না,ওটাও আমি জানতাম, আমি দেখছিলাম তুই ওটা কতটা ভালোভাবে শিখেছিস।

মিষ্টি বলল-বাবা,তুমি জানো বলেই তো আমরা এত সহজে শিখতে পেরেছি।

আমি দাম বাড়াতে গিয়ে লজ্জায় পড়ে গেলাম।তাড়াতাড়ি বললাম-তোর মা বাজারে যাবে বলছিল,দেখতো গোছানো হয়েছে কি না……….

Author: ♠ নির্বাচিত রাজা ♫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *