নতুন বছরে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর কিছু টিপস

আরও একটি বছর ঘুরে এসেছে নতুন বছর। বিদায়ী বছরের হিসাব-নিকাশ শেষ করে এখন থেকেই অনেকে শুরু করে দিয়েছেন নতুন বছরের পরিকল্পনা। গাড়ির মালিকগণ অনেকেই নতুন বছরে নতুন কোন মডেল কেনার কথা ভেবে থাকেন। তবে সেক্ষেত্রে নিজের বর্তমান গাড়িটির যত্ন নেওয়ার কথা অনেকেই ভুলে যান। আপনার গাড়িটিকে টিপটপ রাখতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ কমাতে নিয়মমাফিক রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। আপনার পরিশ্রমের টাকায় যখন একটি গাড়ি কেনার পর সেটির ভরণপোষণের চিন্তা সবার আগে মাথায় আসে। কথায় বলে গাড়ি পোষা নাকি হাতি পালার সমান। এখানে কারমুডি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু বিশ্লেষণধর্মী তথ্য তুলে ধরা হল যেগুলো আপনার গাড়ির পিছনে অপ্রত্যাশিত খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

১। বছরে অন্তত দুইবার গাড়ি পরীক্ষা করানঃ

আপনি কি আপনার গাড়ির ব্যাটারি, ব্রেক, স্টিয়ারিং কিংবা সাসপেনসন সম্পর্কে অবগত? আবার একটু চিন্তা করে দেখুন! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি কোন অভিজ্ঞ মেকানিকের দ্বারা আপনার গাড়িটিকে পরীক্ষা না করাচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিত হতে পারেন না। তাই বছরে অন্তত দুইবার গাড়িটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা করান। এতে করে গাড়ির ছোটখাট সমস্যা ধরা পড়বে এবং সেগুলো বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে কম খরচে আপনার গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে যাবে এবং গাড়িটি সঙ্গত কারনেই ভালো সেবা দিবে। পরবর্তীতে যখন আপনি গাড়িটি বেচার চিন্তা করবেন তখন ভালো দামও আশা করতে পারবেন।

২। নিয়মমাফিক এবং সংযত ভাবে গাড়ি চালানঃ

আপনি যদি গতি ভালবাসেন তাহলে এই টিপসটি আপনার জন্য একটু কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু সংযত এবং সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালানোর কারনে জ্বালানি খরচ প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ কমে যায়। এজন্য আপনাকে যেটা করতে হবে তা হচ্ছে, উচ্চ গতিতে গাড়ি না চালানো, দ্রুত গাড়ি চালু করা কিংবা হঠাৎ ব্রেক করা ইত্যাদি বিষয় পরিহার করতে হবে। ৪০% জ্বালানী খরচ কমাতে হলে গাড়ির সবচেয়ে উপযুক্ত গতি হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায় ৮০-৯৫ কিলোমিটার।

৩। গাড়ির চাকায় যথাযথ বায়ুর চাপ বজায় রাখাঃ

ঢাকা শহর কিংবা হাইওয়েতে অনেক রাস্তায় উঁচু-নিচু কিংবা গর্ত রয়েছে। গাড়ির টায়ারে যদি অত্যধিক বাতাস থাকে তাহলে এসব রাস্তায় গাড়ি চললে টায়ারের অনেক ক্ষতি হয় এমনকি সেটি লিকও হয়ে যেতে পারে। এই অযাচিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবং খরচ কমাতে চাকায় বাতাসের চাপ ঠিকমত রাখা উচিত। আবার চাকায় বাতাস পরিমাণের চেয়ে কম থাকলে গাড়ির জ্বালানী খরচ বেড়ে যায়। তাই আপনার গাড়ির জ্বালানী খরচ কমাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে গাড়ির চাকায় ঠিক ভাবে বাতাস দিয়ে রাখবেন।

৪। সময়মত গাড়ির তেল পরিবর্তন করুনঃ

গাড়ির ইঞ্জিনের তেল সময়মত পরিবর্তন করুন। এটি আপনার গাড়ির ইঞ্জিনকে ভালো রাখবে, সেই সাথে ব্রেক এবং ক্লাচকে সঠিক ভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। আপনি যদি এই বিষয়টি এড়িয়ে যান তাহলে সময়ের আগেই আপনাকে গাড়ির বিভিন্ন পার্টস পরিবর্তন করতে হতে পারে। ব্রেক কিংবা অন্যান্য যন্ত্রাংশ অনেক ব্যয়বহুল। তাই নিয়মিত ইঞ্জিনের তেল পরিবর্তন করে গাড়ির যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে মনোনিবেশ করবেন।

৫। আপনার গাড়িটি পরিষ্কার রাখুনঃ

আপনার গাড়িটি যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখুন। কোন ছোট দাগ কিংবা ময়লাকে অবহেলা করবেন না। ধুলা-বালি থেকে গাড়ির ভিতরের অংশ যথাসম্ভব সংরক্ষণ করুন। গাড়িতে দামী কার্পেট ব্যবহার কিংবা নিয়মিত ধুলা-বালি পরিষ্কার করলে আপনার গাড়িটি বেশি দিনের জন্য গাড়িটি সুরক্ষিত থাকবে।

এই পদক্ষেপ গুলো বছরের শুরু থেকেই পালন করলে আপনার গাড়ির পিছনে অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে আপনি কিছুটা হলেও মুক্তি পেতে পারেন।

তথ্যসূত্রঃ কারমুডি জার্নাল।

Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *