নতুন মিষ্টি প্রেমের গল্প | প্রেমের গল্প ব্লগ

গল্প : ১ –

তোমাকে এতো ভালবেসেছি যে আমার জীবনে আর ভালবাসা নেই

মেয়ে: আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে, বিয়ের জন্যপরিবার থেকে জোর করছে, ছেলে ভাল একটা চাকরি করে ১ লাক্ষ টাকা বেতন…

ছেলে: বিয়ে করে নাও… আমি চাই তুমি ভাল থাকো।

মেয়েটা ছেলেটাকে হঠাৎ জোরিয়ে ধরে ছেলেটাকে কিছু না বলেই চলে গেল। ২ দিন পর মেয়েটার ছোট বোন এসে একটা চিঠি দিয়ে গেল.. যাতে লেখা ছিলো….

খুব সহজে বলে দিলে বিয়ে করে নিতে একটিবার ভাবলে না আমার সব , চাওয়া শুধু তোমাকে ঘীরে,,, আমাকে সুখী দেখতে চাও আর আমার সুখটা কি তা জানো না। চাইলেই পারতাম বিয়েটা করতে কিন্তু বিয়েটা হয়তো টাকা কে করা হতো,, তোমাকে এতো ভালবেসেছি যে আমার জীবনে আর ভালবাসা নেই যা দিয়ে আবার নতুন করে শুরুকরবো,, যদি একটি বার বলতে যে আমাকে ছাড়া বাচঁতে পারবে না তাহলে সব ঝড়কে পারকরে বেচেঁ থাকতাম কিন্তু কার জন্য বেচেঁ থাকবো তাই চলে গেলাম।

চিঠি টা পড়ে ছেলেটা চিৎকার করে কাদঁতে শুরুকরে, হঠাৎ ছেলেটার মোবাইলটা বেজে উঠলো….

ছেলে: হ্যালো…

মেয়ে: কান্না থামলে বাইরে আসো আমি দাড়িয়ে আছি…. কি করবো আমি তোমাকে ছাড়া মরে গিয়েও থাকতে পারবো না তাই মরতে পারিনি, সেই দিন তুমি অভিনয় করেছো আজ আমি করলাম, ছেলেটা এসে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বললো আমি ও যে পারবো না তোমাকে ছাড়া বাঁচতে


রোমান্টিক ভালবাসার গল্প | রোমান্টিক প্রেম-ভালবাসার গল্প |রোমান্টিক প্রেমের গল্প

গল্প ২:

ছেলে মেয়েকে অনেক ভালোবাসতো ♥

একটা ছেলে একটা মেয়েকে অনেক ভালোবাসতো । মেয়েটাও ছেলেটাকে সমান ভালোবাসতো। একদিন সেই ছেলেটা মেয়েটাকে চ্যালেন্জ করে বসলো। খুব সহজ একটা চ্যালেন্জ, “তুমি যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো তাহলে তুমি আমার সাথে একটা সম্পূর্ণ দিন কোনরকম যোগাযোগ করবে না। যদি তুমি টানা ২৪ ঘন্টা যোগাযোগ না করে থাকতে পারো তাহলে আমি তোমাকে আজীবন ভালোবাসবো।” মেয়েটা রাজি হলো। সে সারা দিন একবারও যোগাযোগ করলো না ছেলেটার সাথে। কোন ফোন-কল বাকোন এস.এম.এস. – কিছুই করলো না। পরদিন মেয়েটা দৌড়ে গেল ছেলেটার বাসায়। মেয়েটা জানতো নাযে ছেলেটার ক্যান্সার ছিলো আর তার আয়ু ছিলো মাত্র ২৪ ঘন্টা। মেয়েটার চোখ দিয়ে অঝোর- ধারায় পানি পড়লো যখন সে দেখতে পেলো, ছেলেটা কফিনের শুয়ে আছে আর তার পাশে একটা চিঠি। সেখানে লেখা আছে, “You Did It Baby. Can You Do It Everyday? Plz Try To Do It Everyday,,, I love You.”

গল্প ৩ :

নিজের সুখটা কারো সাথে শেয়ার করে দেখুন, দেখবেন তা দিগুন হয়ে
যাবে

হাসপাতালে ২জন রোগী পাশাপাশি বিছানায় থাকেন। ২জনেই মৃত্যু শয্যায়।
একজন রোগী থাকতো জানালার কাছে।বিছানা থেকে উঠে বসার মতো শক্তি ছিল না কারোরই। তবুও জানালার কাছে থাকা রোগীটি নার্সকে ডেকে প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টার জন্য জানালার পাশ উঠে বসতেন।অপলক চেয়ে থাকেন তিনি বাইরের দিকে… ১ ঘণ্টা পরে পাশের বিছানায় শুয়ে থাকা রোগীর কাছে বাইরে কি
কি দেখল তাঁর বর্ণনা করতেন। তিনি প্রতিদিন বলতেন–

“বাইরে অনেক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। ছোট ছোট শিশুরা মাঠে খেলা করছে। বাচ্চারা কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে পানিতে…”

পাশের বিছানায় শুয়ে শুয়ে রোগীটি এইসব কল্পনা করতো। আর মনের আকাশে উড়ে বেড়াতো মেঘেদের সাথে। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো এসব বর্ণনা শুনে হঠাৎ একদিন জানালার পাশে থাকা রোগীটি মারা গেলেন। পাশের বিছানার রোগীটি তখন নার্স কে অনুরুধ করলো তাকে যেন জানালার পাশের বেড এ থাকতে দেওয়া হয়। বিকেল হলো। সে আজ প্রকৃতি নিজ চোখে দেখবে। অনেক আশা নিয়ে কনুই এ ভর করে চোখ রাখলেন জানালায়… কিন্তু হায়!! সেখানে তো সাদা দেয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই!!!! নার্স কে ডাকলেন,জিজ্ঞেস করলেন–“এখানে তো দেয়াল ছাড়া কিছুই নেই! তাহলে প্রতিদিন সে আমাকে কিভাবে সুন্দর ফুল,প্রকৃতির,পাখিরবর্ণনা করতো?!!” নার্স হাসিমুখে উত্তর দিলো–“আসলে উনি ছিলেন অন্ধ। আপনাকে বেঁচে থাকার উৎসাহ দিতেই এসব গল্প শুনাতেন…”………………….।। নিজের দুঃখ কারো সাথে শেয়ার করুন,তাহলে দুঃখটা অর্ধেক হয়ে যাবে। আর নিজের সুখটা কারো সাথে শেয়ার করে দেখুন, দেখবেন তা দিগুন হয়ে
যাবে………..।।

গল্প – ৪:

 জীবনের প্রথম না বলা প্রেম

আমার নাম রাছেল ওর নাম শিলা | আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি | ওর বাসার কাছে আমি প্রাইভেট পড়তাম , ও আমার সাথে পড়তো | আমি প্রথম দেখাই ও কে ভালোবাশে ফেলি | কিন্তু ও আমাই ভালোবসতো না | তবে আমি যখন প্রাইভেটে পরীখাদেই তখন ও আমাই হেল্প করে | আমি তখন ভাবলাম যে ও আমাই বুঝি ভালোবেশে ফেলেছে | কিন্তু না আমার ধারোনা ভুল ছিলো , ও আমাই ভালোবাসতে না | একদিন ও আমাই ওর মোবাইল নাম্বার দেই | তখন আমার মোবাইল ছিলোনা , ওর ও ছিলনা | ওর বাবা বিদেশে থাকত তাই ওর মার মোবাইল টা মাঝে মাঝে ও ব্যবহার করত | আব আমি আমার বাবার মোবাইল ব্যবহার করতাম | আমি ওর সাথে মোবাইল এ ভালোই কথা বলতাম | কিন্তু আমার নাম করে কে যেনো ওকে ফোন করে আজে বাজে কথা বলত | তার পর থেকে ও আমাই ভুল বুঝে | ও আর আমার সাথে কথা বলে না | আমি যতই ও কে বোঝাই ও বিশ্বাস করে না | অমি এখনো ওর আপেখাতে আছি | ওকে আমি এখনো ভালোবাসি |

গল্প – ৫:

Sorry, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম

একদিন খুব ভোরে সকালে হাটতে বের হয়ে ছেলেটির দেখা হয় মেয়েটির সাথে। প্রথম দেখাতেই বুকের ভেতর কেমন যেন অনুভব হয় ছেলেটির। মেয়েটি তার পাশ দিয়ে হেটে যায়, ছেলেটি পাশ থেকে তার চুলের ঘ্রাণ নেয় আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। পরদিন ঠিক একই সময়, একই স্থানে যেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ছেলেটি। ১০০ থেকে উলটো দিকে গুনতে থাকে। না, সেদিন আর দেখা হলোনা। এরপর দিন আবারো একই স্থানে, একই সময় অপেষ্কা। নিজে নিজে ভাবে। আসবে কি সে? নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করে। কিসের টানে দাঁড়িয়ে আছি আমি? আমিতো তাকে চিনিনা। আগে কখনো দেখিনি। দু’চোখ বন্ধ করে, হঠাৎ সেইপরিচিত মাথা নষ্ট করা ঘ্রাণে ছেলেটির বোধ ফিরে আসে। চোখ খুলে দেখে, এক মূহুর্ত আগেই মেয়েটি তাকে অতিক্রম করে গেল। না, আজ আর হারানো যাবেনা। পিছু নিল মেয়েটির। কিছু দূর যাবার পর মেয়েটি খেয়াল করে। খুব ভদ্রভাবেই মেয়েটি জানতে চায় তাকে অনুসরণ করার উদ্দেশ্য। ছেলেটি কিছু বলতে পারেনা, শুধুই ফেল ফেল করে চেয়ে থাকে মেয়েটির চেহারার দিকে। পাগল মনে করে মেয়েটি তার হাঁটার বিরতির ইতি টানে। এবার ছেলেটি পেছন থেকে হাত দিয়ে ছুয়ে দেখে মেয়েটির চুল। কাছে নিয়ে নাকে চেপে ধরে ঘ্রাণ নেয়। মেয়েটিও সেদিন কিছু বলতে পারেনা। এভাবেই তাদের কাছে আসা, ফোনে কথা বলা, ভাল লাগা এবং ভালবাসা। এক সময় তারা নিজেরা ভাবে, এভাবে আর কতদিন। নিজেরাই সবাইকে জানান দিয়ে বসে বিয়ের পিড়িতে। প্রতিদিনমেয়েটি খুব ভরে উঠে নাশ্তা বানায় তার প্রাণপ্রিয় বরের জন্য। ছেলেটি তার স্ত্রীর হাতের নাশ্তানা খেয়ে বের হলে নাকি সারাদিন কোনকাজে মন বসাতে পারেনা। যেদিন দুপুরে মেয়েটি ফোন করতে ভুলে যায় সেদিন ছেলেটি না খেয়ে থাকে। রাতে এক সাথে এক টেবিলে না খেলে নাকি কারোই ঘুম হয়না। ধীরে ধীরে ছেলেটির ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। কতসুন্দর দিলগুলো। আস্তে আস্তে স্মৃতি হতে থাকে। রাতে দেরী করে ঘরে ফেরাটাই যেন এখন স্বাভাবিক। তারপরও মেয়েটি বসে থাকে টেবিলে খাবার সাজিয়ে। ছেলেটি যত রাতেই ফিরে, চেয়ারে বসেঅপেক্ষায়থাকে মেয়েটি। এর মাঝে চোখ বুজে আসে। ছেলেটিসামনে এসে দাঁড়ালে, মেয়েটি বলে, “ সরি, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম “। এভাবে যতই দিন যেতে থাকে, মেয়েটি যেন তার সবচাইতে বেশি ভালবাসার মানুষটি থেকে দূরে সরতে থাকে। ছেলেটিও তা বুঝতে পারে। কিন্তু তাই বলে ভালবাসার কমতি হয়নি তাদের মাঝে। একসময় ছেলেটি মেয়েটিকে বলে, তুমি যেহেতু সারাদিন সময় পার করতে পার না, তুমি চাইলে কিছু করতে পার। স্কুলজীবন থেকেই মেয়েটি জড়িত ছিলঅভিনয়ে। কিন্তু বিয়ের পর আর তা করা হয়নি। মেয়েটি ভাবে, হাতে যেহেতু সময় আছে,এক আধটু করলে সমস্যা নেই। ছেলেটির সম্মতির কথা জানতে চাইলেসেও না করেনা। আবারও মেয়েটি শুরু করে তার অভিনয়। যতই দিন যায়, মেয়েটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। সাথে বাড়তে থাকে তার ব্যস্ততা। আর্থিক সচ্চলতা অনেক বেশি থাকলেওধীরে ধীরে তাদের দু’জনেরইদেখা দেয় অভাব। আর এই অভাব হলো সময়ের। মাঝে মাঝে ৩/৪ দিন তো তাদের একে অপরের সাথে দেখা না করেই কাটে। এমনই একদিন ছেলেটি বাসায় ফিরে খুব তাড়াতাড়ি। এর আগের ৪ দিন তার সাথে দেখা হয়নি মেয়েটির। একজন ঘুমানোর পরে আরেকজন ঘরে ফেরে, আবার অন্যজন ঘুম থেকে উঠার আগেই বের হয়ে যায় অপরজন। ছেলেটি ভাবে, অনেকদিন একসাথে বসে চা খাওয়া হয়না। ফোন করে মেয়েটিরমোবাইলে। জানতে পারে আধ ঘন্টার মধ্যেই ফিরবে মেয়েটি। চুলায় চা বসিয়ে দিয়ে টিভি দেখতে শুরু করে। মোটামুটি সবকটি চ্যানেলেই তার স্ত্রীর জনপ্রিয়তা। ভাললাগে তার। অপেক্ষা করছে মেয়েটির জন্য। চা বানিয়ে নিয়ে টেবিলে সাজিয়ে বসে, এই বুঝে এসে পড়লো। এভাবে চলে যায় প্রায় ৪টি ঘন্টা। নিজে নিজে চেয়ার বদলিয়ে অভিনয় করে। নিজে নিজে কথা বলে, যেন সামনে বসে আছে মেয়েটি। অবশেষে রাতে খাবার টেবিলে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করে মেয়েটির জন্য। অপেক্ষা করতে করতেএক সময় টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে ছেলেটি। মেয়েটি বাসায় ফিরে টেবিলের পাশে এসে দাঁড়ালে ছেলেটিবলে, “ Sorry , ঘুমিয়ে পড়েছিলাম “।

গল্প – ৬:

অফুরান্ত ভালবাসা

মেয়ের নাম আখি ছেলের নাম আকাশ।
আখি চলো একটু ঘুরতে যাই…

আজ থাক পরে যাবো….

তুমি যাবানা??? ওকে চলো……….

তারপর অরা দুজনে মটর ছাইকেল নিয়ে গোরতে যায়…..

এক সময় মটর ছাইকেল অনেক গতিতে চলাতে লাগলো
প্লিজ আকাশ এত জুরে চালাইয়ো না আমার ভয় করতেছে……..
ওকে তাহলে একবার i love you বলো…….

না I hate you…….

বলবা নাতো ঠিক আছে…..

প্লিজ আসতে চালাউ………..

না আসতে চালাবো না…..

ok i love you………

i love you 2….

এখন তো আসতে চালাউ………

জানো আমার মাথার হেলমেট টা নাউ তো……..

কেন গো জান…..

আমার খুব গরম দরছে……ok………..

আরে পাগলি হাতে রাখছো কেন ফেলে দিবাতো????? তারাতারি হেলমেট টা পরে নাউ নয়তো হেলমেট হাত থেকে পরে যাবে……ok

পরে মেয়ে টা হেলমেট টা পরলো……………

আকাশ এখন তো আসতে চালাউ…..

আসতে চালাইতে পারি but আমার একটা কথা রাখবা….

কি বলো……

আমাকে একটু জরাইয়া দরবা প্লিজ……

ok জান……..

তখন মেয়েটা ছেলেটা কে জরাইয়া দরলো………..

পরে আর একটু যেতেই তারা একছিডেন্ট করলো……….

মেয়েটা অঙ্গেন হয়ে গালো…….

মেয়েটার গেন ফিরেই যানতে পারলো ছেলেটা মানে আকাশ মারা গেছে….

তখন সে বুঝতে পারলো আকাশ কেন পাগলামি করছিল…..

তখন মেয়ে টা বুঝলো আকাশ তাকে কতটা love করতো….
…………আর মেয়েটা তখন কাদঁতে শুরু করলো….
—————-আর এই হলো ছেলেদের ভালবাসা———————–

গল্প -৭ :

লাভ এট ফার্স্ট সাইট

অয়ন মা বাবার একমাত্র ছেলে, ঢাবিতে চান্স
পেয়েছে তাই খালার বাসায় উঠেছে । খালার
ছেলে নেই মেয়ে আছে একটা আসার সময়
শুনে এসেছে, মেয়েটা যে কলেজে উঠেছে সেটা জানেনা সে ।
সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত অয়ন তাই প্রেম নামক শব্দটা তার আশেপাশে আসেনি কিন্তু নীরাকে দেখে তার চোখে যেন দুনিয়ার সব চাইতে গুরুত্ব পূর্ণ জিনিসটা যে প্রেম সেটা মনে পরে গেল মানে লাভ এট ফার্স্ট সাইট যাকে বলে। ভার্সিটি তে প্রথম পড়া শোনা তাই একটু কমিয়ে দিল অয়ন। সারাদিন খালার বাসায় বসে থাকে নীরাকে দেখার আশায়। এদিকে নীরার কোন বিকার নেই কলেজে আসছে যাচ্ছে দেখা হলে কথাবার্তা বল
এই টাইপ এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে গেল নীরা কথাবার্তা সামান্য বাড়ালেও অয়ন সাহস পাচ্ছেনা তাকে কিছু বলার পাছে যদি খালাকে বলে দেই তাহলে সব শেষ । একদিন ভাগ্য সু প্রসন্য হল তার, নীরার সাথে কি একটা কাজে থাকে বাইরে যেতে বলে খালা। এক রিকশাতে পাশাপাশি সে আর নীরা, ভাবতেই মনটা খুশিতে ভরে উঠল অয়নের আসলে সে অপেক্ষা করতে করতে এতই অস্থির হয়ে উঠেছিল যে ছোট এই জিনিসটা ও
থাকে আনন্দ দিচ্ছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সে রিকশাতে মূর্তি হয়ে শব্দটি মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। অবশেষে নীরাই মুখ খুলল।
-অয়ন ভাই, কি ব্যাপার আপনি এমন জবুথবু
হয়ে আছেন কেন?
-না, এমনি!! -শরীর খারাপ?? বাসায় চলে যাবেন??
-না না শরীর খারাপ হতে যাবে কেন?(এবার
ঠিক হয়ে বসল সে পাছে না আবার নীরা সত্যি সত্যি তার শরীর খারাপ মনে করে) -তাহলে নিশ্চয় মন খারাপ আপনার!!!
-হুমম, তা বলা যাই।
-মানে, আপনার সত্যিই মন খারাপ!!!
আমি জানি!!!!
-আসলে নীরা আমার একটা কথা বলার ছিল!!
-কাকে??? -না, মানে!! কাউকে না!!
-আচ্ছা আপনি যে একটা ভীতুর ডিম
সেটা আপনি জানেন??
-না, মানে তোমাকে আমার একটা কথা বলার
ছিল!!!!
-বলতে হবে না আমি জানি!!!!!!!! নীরার ফর্সা মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে উঠছিল,
অয়ন
আর কোন কথা বাড়ায় নি আস্তে করে নীরার হাত ধরল সে। সামান্য কেঁপে উঠল নীরা, চোখ দিয়ে পানি পরছিল তার………………………
নীরার বাবার অফিসে বসে আছে অয়ন। কি কারনে জানি তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন
অয়নকে।
অয়নের চোখে এখন খালি আগামীর চিন্তা, নীরাকে নিয়ে নীরা ভার্সিটি ভর্তি হবে এবা
সে পাশ করে ভাল জব করবে নীরাকে নিয়ে সুন্দর আগামি গড়বে…………।।
-অয়ন, বাবা তোমার জন্য একটা চাকরির খবর এনেছি আমি। বেতন ভাল , থাকার জন্য বাসা দেবে তোমাকে তোমার পড়া শোনার ও
কোন অসুবিধা হবে না,
বাবা তোমাকে একটা কথা বলব??? -জি, বলেন খালু!!
ক্যারিয়ার সবার আগে, বাকিটা পরে জীবন
এখনো অনেক বাকি।
-জি, খালু আমি চাকরিটা করব।
-কালকে থেকে জয়েন ডেট।
-আচ্ছা, আমি কালকে থেকে যাব। খালুর কথার ইঙ্গিতটা ধরে ফেলেছে অয়ন তাই
চাকরিটা করবে বলে দিয়েছে সে ।
উনি যা করছেন
হয়তবা ভালর জন্য করেছেন
এটা ভেবে সে বেরিয়ে পরল। আজকেই কাপড়
চোপর গুছিয়ে খালার বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে সে
নীরা কাঁদছে তার রুমে একা একা, অয়ন এসেছিল
কাপড় চোপড় ,বই পত্র নিয়ে যেতে ওর
রুমে ঢুকেই
অবাক হয়ে গিয়েছিল সে তারপর সব শুনে পাথর,
যতক্ষন অয়ন ছিল সে অয়নের দিকে তাকিয়ে ছিল
সে যেন আর দেখবেনা তাকে। অয়ন চলে যেতেই
মার
কাছে গেল সে
– মা অয়ন ভাই চলে গেল কেন?
-সে একটা চাকরি পেয়েছে, তোর বাবা চাকরিটা ধরিয়ে দিয়েছেন।
-চাকরিটা কি উনার খুব দরকার ছিল???
-সেটা তোর বাবা ভাল জানেন!! আমার
কাছে এসব
বলতে আসবি না, তোর বাবার থেকে জিজ্ঞেস
করে নিস। মেয়ের সাথে এই প্রথম রাগ দেখালেন
তিনি।
নীরার মনটা একেবারে ভেঙ্গে গেল।
রুমে কাঁদতে কাঁদতে পুরনো দিন গুলোর
কথা মনে পরে গেল তার ।অয়ন
ভার্সিটি থেকে কখন আসবে সে অপেক্ষায় থাকত সে কখনো বের হত
একসাথে এইখানে ওইখানে বেড়াতে যাওয়া খুন
বড্ড মনে পরছে তার । অয়নের সাথে যেদিন
প্রথম
রিকশায় করে গিয়ে ছিল সেদিন
রাতে ছাদে একসাথে বসে ছিল দুজনে । নীরা আর
অয়ন ছাদে বসে ছিল একটু দূর
করে পাছে খালা এসে পরেন এই ভেবে, নীরার
কাছে চাঁদের আলোয় অয়নকে যেন কোন মায়াময়
যুবকের মত লাগছিল যাকে সে হাজার বছর
ধরে খুজেছিল। কেন জানি লাগছিল তার জন্যই অয়নের ঢাকা আসা তাদের পরিছয় যেন কোন
অমোঘ নিয়মে বাঁধা ছিল। অয়নকে তার অবশ্য
প্রথম দেখাতেই ভাল লাগেনি কেমন যেন
বোকা বোকা টাইপ কিন্তু
দেখতে দেখতে সে কেমন
করে যেন সপ্নের রাজপুত্র হয়ে যাই তার কাছে।
যাকে সে আপন করে পাবেই অয়নটার
হাবভাবে বেশ
বুঝা যেত তাকে সে পাগলের মত
ভালবাসে কিন্তু
নীরা পাত্তা না দেওয়ার ভাণ করত আসলে ওকে খুঁচিয়ে বের করতে চেয়েছিল
সে কিন্তু
বেচারা ভীতুর ডিমটা সেটা কখনই
পারবেনা বলে একদিন মাকে বলে সে অয়ন
ভাইকে নিয়ে বের হয় মা খুশি মনেই
অয়নকে ডেকে দিয়েছিল। আবার ডুকরে কাদতেঁ লাগল
সে………………।।
বাবা কয়েকদিন ধরে ফোন করছেন বারবার
বলছেন
একটা ভাল দেখে স্যট বানাতে অফিসের
ব্যস্ততায় একদম সময় করতে পারছে না।আজকে ফোন করার
পর সে বাবাকে বলতেই বাবা বললেন সময় নেই
চারদিন পর নীরার এঙ্গেজমেন্ট তুই থাকবি।
বলেই
বাবা কেটে দিলেন!
অয়নের মাথায় যেন বজ্রপাত হল । চার বছর ধরে যার
জন্য এত পরিশ্রম করছে চারদিন পর তার
এঙ্গেজমেন্ট!!!!!!! এখন আর কিছুই করার
নেই!!!!!
নিয়তি তাকে নিয়ে এত বড়
একটা খেলা খেলবে সে তা বুঝতেই পারেনি। সব
হারানোর শোক থাকে চারপাশ
থেকে ঘিরে ধরল ,
কিন্তু মনকে শক্ত করল সে ভাবল আমার কিছুই
করার নেই আর আজ আমি এক পরাজিত ………
নীরাদের বাসায় তার আগের রুমটাতে বসে আছে সে,
তার মা বাবা আসবেন
এটা তারা আগে জানাননি।
যাইহোক মেহমান নেই তেমন একটা , আর
মনে হয়
বর আসেনি এখনো মাথা ধরেছে বলতেই খালা তার
আগের রুমে গিয়ে শুতে বলল।
এসে শুইনি সে বসে আছে আর বিষাদের
সমুদ্রে সাতার কাটছে কতক্ষন ছিল
বলতে পারবেনা শুধু দরজা খোলার আওয়াজ
পেয়ে মাথা তুলল যা দেখল তার মাথায় আরেকবার
বজ্রপাত হল, নীরা সামনে দাঁড়ানো। নীরার
চোখে বিস্ময় সে টের পাওয়ার আগেই
দেখে নীরা তার বুকে । এই মেয়ে করে কি?
তার মান
ইজ্জত আজ ধুলোয় মিটবে। বিহিত করতে হবে থাকে একটা
-নীরা!!!! কি ব্যাপার?? তুমি এখানে কেন???
-কেন?? আমার
আসতে মানা আছে নাকি(কান্না আর আনন্দ
মিশ্রিত কন্ঠ নীরার) খটকা লাগল অয়নের
-খালা,খালু আছেন আমার বাবা মা ও দেখলে কেলেংকারি হয়ে যাবে !!!!!!!!!
-মা পাঠিয়েছেন আমাকে এখানে!!!!!
-কেন?????
-বললেন, যা তোর বর আগে অয়ন যে রুমে থাকত
সে রুমে আছে…।
অয়ন এবার বুক থেকে তুলে নিয়ে চোখের সামনে দাড়া করাল নীরাকে , যেন আকাশ
থেকে পরি নেমে এসেছে। বিয়ের সাজে অসম্ভব
সুন্দর লাগছে তাকে
-এগুলো আমার জন্য সাজোনি তুমি????
( দুস্টুমি হাসি অয়নের মুখে)
-না, আমার বরের জন্য সেজেছিলাম। কোন ভীতুর
ডিমের জন্য না।(নীরার চোখে কপট রাগ)
-তাহলে আমি দেখব না তোমাকে!!
(অন্যদিকে ফিরে গেল অয়ন)
-না দেখলে আমার বয়েই গেছে( হাসিটা কোন
মতে চাপাল নীরা)

সোর্স : ফেসবুক

Author: drmasud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *