নিজস্ব কক্ষপথেই উড়তে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু-১

আসসালামুআলাইকুম। সবাই কেমন আছেন, আশা করি ভালো। আজ আমি আপনাদের জানাতে এসেছি বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু ১ এর কথা।

দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ নিজস্ব কক্ষপথেই উড়তে যাচ্ছে । বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহের জন্য অরবিটাল স্লট (কক্ষপথে উপযুক্ত স্থান) পেতে রাশিয়ার সহযোগিতায় মিলেছে সম্মতি। অরবিটাল স্লট ভাড়া পেতে রাশিয়াভিত্তিক মহাকাশ যোগাযোগবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরের জুলাই নাগাদ শুরু হতে পারে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট প্রকল্প।

imagescfgfgg

জানা গেছে, ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফর্মা) চূড়ান্ত করার পর তা একনেকে পাঠানো হবে।

সূত্রমতে, ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে আপাতত দুই মাসের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি ননবাইন্ডিং চুক্তি হতে যাচ্ছে। এটা না হলে বিকল্প অরবিটাল স্লটটিও হাতছাড়া হতে পারে। প্রাথমিক এ চুক্তির পর পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করা হবে।
এর আগে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) থেকে নিজস্ব কক্ষপথে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে রাশিয়ার কাছে আবেদন করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে এ-সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পেতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে এডিবি’র কাছ থেকেও কিছুটা নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু বকর সিদ্দিক। তবে এ-সংক্রান্ত মূল প্রকল্প শুরু হতে এখনো ছয় মাস লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, তিন বছরের মধ্যে মহাকাশে দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণের লক্ষে গত ২৯ মার্চ বিটিআরসি এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) মধ্যে চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আইটিইউয়ের সঙ্গে তরঙ্গ সমন্বয়, স্যাটেলাইট সার্ভিস ডিজাইন, স্যাটেলাইট আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, সিস্টেম ডিজাইন, দরপতত্র প্রস্তুত, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সুষ্ঠুভাবে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ এবং জনবল তৈরিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে।

চুক্তি সই করে এসপিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ক্রাসলসকি বলেছিলেন, যোগাযোগ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করার পর বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন $ আয় করতে পারবে।

আর বিটিআরসি’র হিসাবে, প্রতিটি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে প্রায় দুই লাখ $ দিয়ে থাকে। বর্তমানে ১৯টি টিভি চ্যানেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪০ লাখ $ বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলে ভাড়া বাবদ খরচ হওয়া এই অর্থ সাশ্রয় হবে।

1 thought on “নিজস্ব কক্ষপথেই উড়তে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু-১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *