নিয়ম করে খাবার খান ও খাবার দিয়ে ওজন কমান

ছোট খাট অভ্যাসই আপনাকে সুন্দর করে রাখতে পারে আজীবন।দেখুন না নিজে চেষ্টা করে ও অন্যকে বলে এতে লাভ সবারই।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মেজাজটা বিগড়ে গেল। একরাশ বিরক্তি নিয়ে নিজের দিকে তাকালেন। নাহ, এই পোশাকেও ভালো দেখাচ্ছে না। কারণ, সেই ওজন বেড়ে যাওয়া। শুধু নিজেকে সুন্দর দেখাতে নয়, সুস্থ থাকার জন্যও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার। এই বাড়তি মেদ ঝরাতে তাই কত না খাটাখাটুনি। শেষ ভরসা হিসেবে ভর্তি হলেন ব্যায়ামাগারে। তবুও ওজন কমে না। সত্যিকথা বলতে কি, শুধু ব্যায়াম করলে তো হবে না। খাওয়াদাওয়ায় আনতে হবে দেদার পরিবর্তন। নিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে নিয়ম করে যদি ব্যায়াম করেন, তবেই না মেদ ঝড়বে। এই বিষয়ে কথা বলা হয় বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের সঙ্গে।


মেদ ঝড়াতে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মানতেই হয়। 

  • বেশি তেলে ভাজা খাবার বর্জন করতে হবে।

  • চর্বিযুক্ত খাবার একদমই খাওয়া যাবে না।

  • মিষ্টিজাতীয় খাবারে ক্যালোরি বেশি থাকে, তাই খাওয়ার সময় সচেতন হোন।

  • অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  • অল্প করে, বারেবারে ধীরেসুস্থে খেতে হবে।

  • কম তেলে রান্না খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।

আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার কিন্তু সবটা খরচ হয়ে যায় না। অতিরিক্ত অংশ শরীরে জমা হয়ে ওজন বাড়িয়ে চলে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে। শরীরও সুঠাম হবে। সঙ্গে ওজনও কমবে। ওজন কমাতে খাদ্যতালিকা তৈরি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। তাই ওজন কমাতে একটি সর্বজনীন খাদ্যতালিকা আমরা দেখে নিচ্ছি। এই তালিকা তৈরিতে সাহায্য করেছেন পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ।

সকাল
খাওয়া যাবে : রুটি, ডিম সেদ্ধ, অল্প তেলে রান্না সবজি।
খাওয়া যাবে না: পরোটা, লুচি, বাটার টোস্ট, ফ্রেঞ্চ টোস্ট, ডিম ভাজি।

মধ্য সকাল
খাওয়া যাবে: টকজাতীয় ফল।
খাওয়া যাবে না: মিষ্টিজাতীয় ফল।
 
দুপুর
খাওয়া যাবে: ভাত অথবা রুটি, মাছ কিংবা মুরগির ঝোল, পাতলা ডাল, অল্প তেলে রান্না শাকসবজি, সালাদ।
খাওয়া যাবে না: পোলাও, তেহারি, বিরিয়ানি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, মাছ ভাজা, ঘন ডাল, ভাজি, তেল মাখানো ভর্তা।

বিকেল
খাওয়া যাবে: ঘরে তৈরি খাবার, মুড়ি-মুড়কি।
খাওয়া যাবে না: তেলে ভাজা খাবার।

রাত
খাওয়া যাবে: দুপুরের খাবারগুলোই খাওয়া যাবে রাতে।
খাওয়া যাবে না: দুপুরের খাবারগুলোই রাতের জন্য নিষেধ।

Author: drmasud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *