ফিফা ২০১৪ বিশ্বকাপঃ নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ফিফা ২০১৪ বিশ্বকাপঃ নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 85 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

ফুটবল হচ্ছে অনেক যদির সমন্বয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে যদি লাইন্সম্যান বলতো ইংল্যান্ডের পক্ষে জিওফ হারস্টের দ্বিতীয় গোলটি লাইন পার করেনি তাহলে হয়তো পশ্চিম জার্মানিই বিশ্বকাপ জিতত। আবার যদি ২০১০ বিশ্বকাপে সেই জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক লাম্পারডের গোলটি রেফারী দিলে হয়তো ইংল্যান্ড সেবার আরও দূর পর্যন্ত যেতে পারতো।

এধরনের অনেক যদিই ঘটে থাকে ফুটবল মাঠে। বিশেষ করে গোল লাইন বরাবর। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা টেকনোলজির সাহায্য নিচ্ছে। গোলের সিদ্ধান্তকে আরও সঠিক করার জন্য নানা সময় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত চালু হয়েছে গোললাইন টেকনোলজি। যদিও গত কয়েক বছর যাবত এই প্রযুক্তি অন্য খেলায় ব্যবহার হয়ে আসছে কিন্তু এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মত বড় আসরে এটি ব্যবহার হবে। ফিফা সর্বপ্রথম এই টেকনোলজিটি স্বীকৃতি দেয় ২০১২ সালে। গত কনফেডারেশন কাপ যেটি কিনা বলা হয়ে থাকে বিশ্বকাপের ড্রেস রিহার্সাল এবং এটি অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলে, সেখানেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই অসাধ্যকে সাধন করেছে গোল কন্ট্রোল নামের একটি জার্মান কোম্পানি। তারা ব্রাজিলের ১২টি স্টেডিয়ামে প্রতিটিতে ১৪টি করে বিশেষ ক্যামেরা স্থাপন করেছে। প্রতি গোল মুখ বরাবর স্টেডিয়ামের ছাদে ৭টি করে। প্রতিটি ক্যামেরা একটি বিশেষ কম্পিউটারের সাথে যুক্ত যার কাজ হচ্ছে ছবি প্রক্রিয়াজাত করা। এই কম্পিউটারটি বল ভিন্ন অন্য সব আকৃতির জিনিস আলাদা করবে এবং বলকে সবসময় ট্র্যাক করতে থাকবে। বলটি যখনি গোল লাইন অতিক্রম করবে তখনি রেফারীর হাতে থাকা ঘড়িতে ভাইব্রেশন হবে এবং গোল শব্দটি ভেসে উঠবে ঘড়ির স্ক্রিনে।

অপর একটি টেকনোলজির ব্যবহার না বললেই নয়, সেটি হচ্ছে এবারের বল যা ব্রাজুকা নামে পরিচিত। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের বল তৈরির দায়িত্ব পালন করছে জার্মান কোম্পানি এডিডাস। তাদের ভাষ্যমতে এবারের বলটি সবচেয়ে ভাল বল হবে। এই বলের স্পর্শ এবং সূক্ষ্মতা আরও ভাল হবে। গত বিশ্বকাপের বল জুবিলানি অনেক সমালোচনার শিকার হয়। এটি থেকে শিক্ষা নিয়ে কোম্পানি নতুনভাবে তৈরি করে ব্রাজুকা। এটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বারে উন্মুক্ত করা হয়। ব্রাজুকা নামটি প্রায় ১ মিলিয়ন ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের ভোটে নির্বাচন করা হয়। ব্রাজুকাতে আছে মাত্র ৬টি প্যানেল যা কিনা প্রপেলারের মত দেখতে। অন্যদিকে জাবুলানির ছিল ৮টি প্যানেল এবং অন্য বলের থাকে ৩২ টি প্যানেল। যদিও কম প্যানেল বলকে আরও মসৃণ করে, কিন্তু এই বলের বাইরের অংশ অনেক রুক্ষ। যার কারনে বলের বাঁক কম হবে এবং অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। যদিও বলের গতি পূর্বের বলের তুলনায় কমে গেছে। এর গতি হচ্ছে ঘণ্টায় ৪৮ কিলোমিটার যেখানে জুবিলানির ছিল ৮০ কিলোমিটার। গোলকিপার এদিক থেকে এডিডাসকে ধন্যবাদ দিতেই পারে।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*