ফোরস্কয়ার নিয়ে কিছু কথা

মোবাইল টেকনোলজি এখন অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও পশ মোবাইল বলতে ভাল ক্যামেরা এবং টাচস্ক্রিনসহ মোবাইলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হত।বর্তমানে এই ধারণার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমরা মোবাইল কিনি এর অপারেটিং সিস্টেম, র‍্যাম, প্রসেসর এবং বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহারের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। বর্তমানে তিন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম খুবই জনপ্রিয় যেমন, অ্যান্ডড্রইড, আইওএস (অ্যাপেল), উইন্ডোজ। এছাড়া ব্ল্যাকবেরিও মার্কেটে বিদ্যমান।। এইসব অপারেটিং সিস্টেমের জন্য উপযোগী নানা ধরনের অ্যাপস বিনামূল্যে অপারেটরদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়। বিভিন্ন অপারেটর তাদের নিজস্ব লোকেশন (অবস্থান) সেবা দিয়ে থাকে। আজ একটি ফ্রি অ্যাপ এর কথা বলবো যেটি ভ্রমণকারীদের জন্য খুবই উপকারী।

আমরা অনেকে হয়তো ফোরস্কয়ার অ্যাপটির সাথে পরিচিত। এটি বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকায় বহুল ব্যবহৃত একটি স্থানভিত্তিক অ্যাপ। এটি মূলত একটি সোশ্যাল অ্যাপ যা কিনা ফেইসবুক, টুইটার ইত্যদির সাথে লিঙ্ক করা যায়। আপনি যখন যেখানে যাবেন সেখানে আপনি চেকইন করতে পারবেন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন আপনার অভিজ্ঞতা। উন্নত বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাভেল প্ল্যান করার আগে তাই অনেকেই আগে খোঁজ নিয়ে দেখে সেখানে তার ফ্রেন্ডলিস্টের কেউ গিয়েছে কিনা। নিকটজনের মতামতকে মানুষ সাধারণত বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বর্তমানে ফোরস্কোয়ার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ মিলিয়নের উপরে। অনেকেই ধারণা করছে, ফোরস্কোয়ার নিজেই হইত একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠবে। এই অ্যাপটি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় ২০০৮ সালের দিকে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের মার্চে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি মুলত মোবাইলে যে জিপিএস ব্যবস্থা থাকে সেটা ব্যবহার করে এই অ্যাপটি আপনার আশেপাশে অবস্থিত হোটেল, রেস্তরা, পার্ক, শপিংমল, এটিএম বুথ কিংবা দর্শনীয় স্থান প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে আপনি কোথাও গেলে সেখানে চেক-ইন করতে পারবেন এমনকি আপনার বন্ধুদের চেক-ইন ও দেখতে পারবেন। এরপর আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন সবার সাথে। রিভিউ এবং টিপস শেয়ার করাটা খুবই উপকারী, যার ফলশ্রুতিতে সবাই উপকৃত হয়। এছাড়া চেক ইন এবং রিভিউ মাধ্যমে পয়েন্ট বা ব্যাজ অর্জন করা যায়। কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট সমযের ভিতর সর্বাধিকবার চেক ইন করে তাহলে তিনি মেয়র হিসেবে গণ্য হন এবং তাকে বিভিন্ন সার্ভিসে ছাড় দেওয়া হয়। এই অ্যাপটির একটি বাণিজ্যিক সুবিধা আছে। হোটেল, রেস্তুরা, কিংবা ট্যুরিজ্‌ম কোম্পানিগুলো গুগল কিংবা অন্যন্য লোকেশন সার্ভিসের আওতাই তাদের স্থান গুলো শেয়ার করতে পারে। গ্রাহকদেরকে চেক-ইন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারে। রিভিউ পড়ে তারা ঐ স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। ব্যবসা সম্প্রসারণের এই ধারণা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *