ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ১২)

সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা, আস্‌সালামুআলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি।

গত কয়েকটা পর্বে আমরা শুধু ওডেস্কে প্রোফাইল তৈরীর বিষয়গুলো আলোচনা করেছিলাম। ঐ পর্বগুলোতে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম তা সঠিকভাবে আপনার প্রোফাইলে উপস্থাপন করতে পারলে আপনার প্রোফাইলও একটা ভাল প্রোফাইল হয়ে দাড়াবে। আপনার প্রোফাইলকে আরো সুন্দর করার জন্য আপনি আপনার ক্যাটাগরির আরো কয়েকজন কন্ট্রাকটারদের প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করুন। তাদের প্রোফাইলকে ফলো করে আপনার প্রোফাইল তৈরী করুন। তবে কোনভাবেই কপি-পেষ্ট করবেন না।

আগের আলোচিত কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার প্রোফাইলকে উন্নত করতে আর মাত্র একটি বিষয় প্রয়োজন। তা হল- ওডেস্কের টেস্ট।

ওডেস্কের টেস্টগুলোর মধ্যে একটি হল রেডিনেস টেস্ট। এটি দেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার প্রোফাইলকে ১০০% করতে হলে এই টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে এটা তেমন কঠিন কোন টেস্ট নয়। এই টেস্ট শুধু মাত্র এই জন্যই নেওয়া হয় যে, আপনি তাদের নিয়ম-কানুনগুলো ভালভাবে পড়েছেন কিনা? এখানে তাদের নিয়ম-কানুনের উপর কয়েকটা প্রশ্ন থাকে। আপনি টেস্টের সিলেবাস অনুযায়ী কিছু সময় ঘাটাঘাটি করলে সকল উত্তর পেয়ে যাবেন। আবার টেস্টের সময় তারা প্রশ্নের নিচে একটা লিংক দিয়ে থাকে যেখানে কিছু পড়লে উত্তর পাওয়া যায়। আপনি ঐখানে থেকেও উত্তর কালেকশন করতে পারেন। একবার যদি ফেল হন, কোন সমস্যা নাই আপনি আবারও এই টেস্ট দিতে পাড়বেন।

রেডিনেস টেস্ট দেওয়া হয়ে গেলে আপনি আরো টেস্ট দিতে পাড়বেন। ওডেস্কে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় পাঁচশ টেস্টের ব্যবস্থা আছে। আপনি যে ক্যাটাগরির কাজ করবেন ঐ ক্যাটাগরির টেস্ট দিতে হবে। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে টেস্টের গুরুত্ব অনেক। কারণ আপনার টেস্টের ফলাফল দেখলেই বায়ার আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে। তাই আপনি যে ক্যাটাগরিতে কাজ করবেন সেই ক্যাটাগরির টেস্ট দিতে হবে। প্রতিটা টেস্টের জন্য ওডেস্কে সিলেবাস আছে। তাদের সিলেবাস অনুযায়ী কয়েকদিন লেখাপড়া করলে আপনি পাশ হয়ে যাবেন। মুল কথা হল, আপনাকে প্রচুর পরিমানে ঘাটাঘাটি  করতে হবে। আপনি যদি একবার টেস্টে খারাপ করেন, তাহলে আবার ১ মাস পর দিতে পাড়বেন। এক্ষেত্রে আমি একটি কথা বলি, আপনি যখন প্রথমবার টেস্ট দিবেন, তখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাড়বেন না সেগুলোর একটা স্ক্রীনশট নিয়ে রাখবেন। তারপর টেস্ট শেষ হয়ে গেলে ঐগুলো নিয়ে একটু গবেষণা করবেন, যদিও একই প্রশ্ন বার বার পাবেন না। তবুও কিছু জিনিস অন্তত জানা হল। আর আপনি যদি টেস্টে ভাল পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন তাহলেতো কোন কথাই নেই। হাত গুটিয়ে বিড করতে নেমে পড়ুন। তবে যেকোন কাজেই বিড করলে হবে না। শুধুমাত্র আপনার প্রোফাইল যে ক্যাটাগরিকে কেন্দ্র করে করেছেন তার কাজে বিড করুন। বিড করার সময় সুন্দর একটা কভার লেটার লিখে দিবেন। অনেকে দেখা যায় কভার লেটারে প্রবন্ধ রচনা করে ফেলেন। এসব করার কোন দরকার নেই। আপনি প্রথমে বিভিন্ন কাজগুলো থেকে এমন একটা কাজ নির্বাচন করেন যা আপনি পুরোপুরি জানেন। তারপর কাজের বিস্তারিত পড়ে কাজটাতে বিড করুন। কভার লেটারে শুধু এই কথাই লিখলে চলবে “এই কাজটা আমি পাড়বো। এরকম কাজ আমি এর আগেও সফলতার সাথে করেছি। এই দেখুন ……. খালি অংশে আপনার আগের করা কাজের লিংক দিয়ে দিবেন” এইতো শেষ। এছাড়াও অনেক বায়ার দেখা যায়, যারা জব বিবরণে কিছু কী-ওয়ার্ড দিয়ে দেন। যেমন- “Start your cover letter with: I have read the details”। এই কথায় বুঝায় বায়ার কভার লেটারের শুরুতে আপনাকে “I have read the details” এই কথা লিখে দিতে বলছে। আসলে কারা কাজে সিরিয়াস এবং কারা জব পোষ্টটা ভালাভাবে পড়েছে তা নির্ণয়ের জন্যই বায়াররা এই ধরণের কী-ওয়ার্ড দিয়ে থাকে। কভার লেটার দেওয়ার সময় আপনার কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করে দিবেন। সর্বনিম্ন হল এক সপ্তাহের চেয়ে কম। ছোট ছোট কাজের জন্য আপনি এটি দিতে পারেন। আওয়ারলি জব হলে ডিফল্ট হিসেবে আপনার বর্তমান আওয়ালি রেট আসবে (আপনি চাইলে তা পরিবর্তন করতে পাড়বেন)। আর ফিক্সড প্রাইস জব হলে আপনি আপনার বাজেট দিবেন। অনেকে আবার দেখি ফিক্সড প্রাইস জবে বায়ার যা রেট দিয়েছে তার থেকে অনেক কম দামে কাজ অফার করেন, আর মনে করেন- এতে তাদের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আসলে আমার মতে এটা ভুল। আপনি যে কাজে বিড করবেন সেই কাজের মূল্য আপনি নিজে জাস্টিফাই করে তারপর আপনার রেট প্র্রদান করুন। বায়ার যদি কাজটা ৫ ডলারে চায়, আর আপনি যদি মনে করেন এই কাজের রেট আরো বেশী হওয়া দরকার, তাহলে আপনি বেশী রেটেই কাজটার জন্য বিড করেন। আমি অনেক সময়ই দেখেছি বায়ার তার বাজেটের চেয়ে বেশী বাজেটের লোকদেরও হায়ার করে থাকে। আসলে বায়াররা চায় তাদের কাজটা যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। এতে করে কিছু অর্থ বেশী ব্যয় করতেও তারা রাজি থাকে। তাই শুধুমাত্র উপযুক্ত রেটটা দিয়েই আপনি কাজে বিড করুন। আর যদি কোন কারণে কম রেটে বিড করেন তাহলে কারণটা কভার লেটারে লিখে দিন (যেমন: আমি নতুন তাই একটু কম রেটে বিড করেছি, কারণ এখন আমার কাছে টাকার চেয়ে কাজ এবং ফিডব্যাকের গুরুত্ব বেশী)।

এছাড়াও বিড করার সময় আরেকটা জিনিস দেখতে হয়, সেটা হল এটাচ ফাইল। বিশেষ করে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য এই অংশ খুবই কমন। এক্ষেত্রে গাইডলাইন হল- আপনি এটাচ ফাইলে আপনার কয়েকটা ফাইল একসাথে দিন। তবে ফাইলগুলো জিপ করে না দেওয়াই ভাল। কারণ অনেক বায়ারই আছে যারা জিপ ফাইল ওপেন করতে চায় না। তাই আপনার কয়েকটা ফাইলকে একটা ফাইলে সেভ করে তা এটাচ করে দিন।

লেখা কেমন লাগল মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আর কোন প্রশ্ন থাকলেও মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। সবাই ভাল থাকুন, আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Author: softwear man

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *