ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ১৬)

যদিও এই পোষ্টটি প্রাক্টিক্যাল ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের বিষয়ে একটা পোষ্ট কিন্তু আজকের পোষ্টে আমার একটা কাহিনী বলব।এটা ওডেস্কে পাওয়া আমার প্রথম কাজটার কাহিনী। এই কাজের বিস্তারিত পড়ার পর আপনি বুঝবেন যে ফ্রিল্যান্সিং কতটা উন্মুক্ত এবং মজার কাজ। আর এর সুবিধা কত বেশী।


আমি একটু ভ্রমনপ্রিয় এবং বে-খেয়ালি মানুষ। দুনিয়া কোন দিকে যাচ্ছে আর আমি কোন দিকে যাচ্ছি এর কোন খবর নাই। বন্ধুরা মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে, “তুই মানুষ নাকি এলিয়েন?” যখন যা ইচ্ছা হয় তাই করি। আমি ১ মিনিট আগেও গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি না যে এর পরের মিনিটে আমি কি করব। সারা বছর বন্ধুর কোন খবর রাখি না। কিন্তু হঠাৎ মনে হলে, শত কাজ ফেলে রেখে, কোন ফোন না করেই সরাসরি বন্ধুর বাড়িতে চলে যাই। আশা করি, বুঝতেই পেড়েছেন আমি কোন টাইপের লোক। আচ্ছা, আপনারা বলুনতো, আমার দ্বারা কি কোন অফিসে বা ব্যাঙ্কে কাজ করা সম্ভব? তবে আমার মত মানুষের দ্বারা কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব হয়ে গেছে। আর, আমার দ্বারা যদি ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব হয়, তাহলে আপনার দ্বারা কেন সম্ভব হবে না? আমার প্রথম কাজটার বিস্তারিত দেখে বলুনতো আপনার দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং কেন সম্ভব না?

দিনটা মনেহয়, ২১ নভেম্বর ২০১১,, এই দিনে পাওয়া কাজটাই আমার ওডেস্কে প্রথম কাজ। আগের রাতে ওডেস্কে বেশ কয়েকটি কাজে বিড করেছিলাম। আর বিড শেষ করে ফজরের কিছু পরে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। বুঝতেইতো পাড়ছেন, ঘুম লাগতে লাগতে প্রায় সকাল ৭/৮টা হয়ে গেছে। দুপুর ১১টার দিকে আমার বন্ধু সাহাদাত ফোন করে এবং বলে “এই রেডি হয়ে যা, আজ কক্সবাজার যাব।” (মৌলভীবাজার টু কক্সবাজার)। আমি বললাম, “কোন সময় বের হব।?” সে বলল যে সে এই মূহুর্তে ট্রেনের টিকেট কাটতে যাবে, আমরা সন্ধ্যার দিকে বের হব। আমি বললাম, ওকে। মনটা মোটামোটি খুশি হয়ে গেল যে বেশ কিছু দিন পরে বাহিরে যাব। এই মূহুর্তে মনে হল আমাকে প্রস্তুত হওয়ার দরকার। ভাবলাম সবার আগে ইমেইল চেক করে নেই। তাই, টুথ ব্রাশ হাতে নেওয়ার আগে PC টা স্টার্ট করলাম। ইন্টারনেট কানেক্ট দিতে না দিতেই দেখি জিমেইল নটিফিকেশন্‌। ইনবক্সটা খুলে দেখি আমি ওডেস্কে একটা কাজে হায়ার হয়ে গেছি কোন ইন্টারভিউ ছাড়াই। মনটা যে তখন কত খুশি হয়েছিল বলে বুঝাতে পাড়বো না। কিন্তু, পরের মূহুর্তেই মনে পড়লো আমাকেতো আজ কক্সবাজার যেতে হবে। কাজ কিভাবে করব? পড়লাম মহাটেনশনে।Innocent মনকে বললাম বেশি চিন্তা করার দরকার নাই, কোন কিছু না ভেবেই কাজ শুরু করি। কাজটা ছিল ফিক্সড প্রাইসের, ব্যানার ডিজাইনের একটা কাজ। বেশ কিছু সময় নিয়েই কাজটা শেষ করি। এবার বায়ারের অপিনিয়ন জানার বাকী। কিন্তু বায়ারতো আমেরিকান। আর এটা তাদের ঘুমের সময়। কি করি? বায়ারের কাছে ব্যানারগুলোর JPG ফাইল মেইল করি, কিন্তু বায়ারেরতো কোন খবর নাই। এদিকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্যও রেডি হতে হবে। কি আর করা? PSD এবং JPG ফাইলগুলো সার্ভারে আপলোড করে কক্সবাজারের দিকে রওনা দিলাম। কিন্তু যাওয়ার সময় আরেকটা প্রব্লেম হয়ে গেল। তাহল- বায়ারকে ফাইলগুলো কিভাবে ডেলিভারি দিব? আসল কথা হল আমার কাছে বা আমার কোন বন্ধুর কাছেও ল্যাপটপ নাই। তবে একটা আইফোন আছে। ভাবলাম, এটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিব।

শুরু হল যাত্রা, ট্রেনে বসে কিছক্ষণ পরে পরে মেইল চেক করি, বায়ারের কোন রেসপন্স নাই। এক সময় বায়ারকে একটা মেইল দিলাম, “আমি বাহিরে আছি, আপনার মেইলের রেসপন্স দিতে আমার একটু দেড়ি হতে পারে।” দেখতে দেখতে চলে গেলাম কক্সবাজার। অনেক মজা করলাম। দিনে অনেক মজা করার পর রাতে বার্মিস মার্কেটে যাচ্ছি। হঠাৎ মেইল খুলে দেখি বায়ার ১৩ ঘন্টা আগে আমাকে দুইটা মেইল দিছে। যেখানে সে বলেছে যে আমার কাজ তার খুব ভাল লেগেছে। এবং আমাকে পি.এস.ডি ফাইলগুলো দিতে বলে। আমি টম্‌টম্‌ গাড়িতে বসে বসে তাকে পি.এস.ডি ফাইলের লিংকটা দিয়ে দেই। কি মজা!! গাড়িতে বসে বসে জব করা। কিছুক্ষণ পর দেখি বায়ার ৫ ফিডবেকসহ সকল পেমেন্ট প্রদান করে। এবং জবটা শেষ করে দেয়। আহা.. কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!!!

জানিনা আপনাদের পড়তে ভাল লাগছে কিনা, কিন্তু আমার লিখতে বেশ ভাল লাগছে। যাহোক, এবার আসি কাজের কথায়। পোষ্টটা পড়ে কি মনে হয়? ফ্রিল্যান্সিং করতে পাড়বেন তো?

আসুন দেখে নেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা-

১# ইচ্ছা মত কাজে বিড করুন।

২# যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসে কাজ করুন। নিজের ঘরের কোণে বসে করতে পাড়েন আবার ফ্রেন্ডের বাসার ছাদে বসেও করতে পাড়বেন। আর আমার মত হলেতো দুনিয়া দেখে দেখেও করতে পাড়বেন।

৩# পেমেন্ট নিয়ে কোন চিন্তা নাই।

৪# জব করতে সাধারণত কোন ফরমালিটি লাগে না। যেমন: কাজের স্থান বা পোশাক পরিধান। আপনি লুঙ্গি পরে কাজ করলেও কেউ আপনাকে কোন প্রশ্ন করবে না ।

৫#আপনার যখন ইচ্ছা তখন কাজ করতে পারেন।

এগুলোতো বললাম। আরো অনেক সুবিধা আছে, যেগুলো লিখতে লিখতে আরো কয়েকটা পোষ্ট লিখার সময় লেগে যাবে। তাই এখানেই থাক।

কিন্তু মেইন কথা হল- এটা অনেক মুক্ত একটা পেশা, যে কেউ এ পেশায় নিয়জিত হতে পারেন। কোন ইনভেষ্ট লাগে না। আসলে এই ধরণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে বলেন আমার দ্বারা এসব হবে না। তাহলেতো হল না। আচ্ছা, আমার এই কাজের বিস্তারিত পড়ে আপনাদের মধ্যে কার কার মনে হচ্ছে যে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন? প্লিজ, একটু মন্তব্য করে জানাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এবং কক্সবাজার নিয়ে আমার আরেকটা কাহিনী আছে। তা আরেকদিন বলব। আজ এখানেই থাক। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Author: softwear man

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *