ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ২০) | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ২০)

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 229 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

সকল পাঠককে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের প্র্যাকটিক্যাল ফ্রিল্যান্সিং পর্ব। সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহ্‌র রহমতে ভালই আছেন। আজকের পর্বে আমার একটা কাজের বর্ণনা দিব।

আপনারা যারা আমার লেখা প্র্যাকটিক্যাল ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার, পর্ব-১৬পড়েছেন, তারা হয়তো দেখেছেন আমি ঐ পোষ্টের শেষে, “ফ্রিল্যান্সিং এবং কক্সবাজার নিয়ে আমার আরেকটা কাহিনী আছে। তা আরেকদিন বলব।” এই কথা বলেছিলাম। আসলে, আজকে ঐ কাজেরই বিস্তারিত লিখব।

 

১৮/০১/২০১২ তারিখ রাতে আমার বন্ধু “পাপন” ফোন করে বলল আমরা নাকি আগামীকাল কক্সবাজার যাচ্ছি। আমি উত্তরে বললাম, “সবে মাত্র এক মাস হল আমি কক্সবাজার থেকে গিয়ে এসেছি। এখন আবার যাব? আমার দ্বারা সম্ভব না রে ভাই। আম্মা বকবেন।” সে বলল, “তোর আম্মাকে রাজী করার দ্বায়িত্ব আমার, তুই রেডি থাক, তোকে যেতেই হবে।” আমি বললাম যে আমার দ্বারা যাওয়া হবে না। এই বলে ফোন রেখে দিলাম আর ওডেস্কে কয়েকটা কাজে বিড করে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন দুপুরে পাপন আবার ফোন করে বলল তুই কিন্তু আসছিস। আমি বললাম আম্মা কোন ভাবেই রাজী হবেন না। সে উত্তরে বলল, “তুই তোর আম্মার সাথে কথা বলে দেখ।” এবার, ফোন রাখতে না রাখতেই আম্মা আমার রুমে এসে উপস্থিত। কি আর করা? আম্মাকে সব কাহিনী বললাম। আম্মা বললেন “যাও”। অবাক!!! আম্মা কোন কথা না বলেই রাজী হয়ে গেলেন!!! মিনিমামতো, দুই-একটা বকা দিয়ে তারপর রাজী হওয়ার কথা। আজতো ঘুম থেকে উঠতেই সবকিছু এলোমেলো লাগছে। পরে বুঝলাম, আম্মা রাজী হয়ে যাওয়ার জন্য পাপন হয়তো খুব বেশীই দোয়া করেছে। এই বার, মনটা মোটামোটি খুশ । বিছানা থেকে উঠেই পি.সি স্টার্ট করে দেখলাম কোন মেইল নটিফিকেশন নাই। নিশ্চিন্তে দুপুরের নাশ্তা সম্পন্ন করলাম।

 

–[[ আপনার হয়তো ভাবছেন দুপুরে আবার নাশ্তা কিসের? আসলে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কল্যানে আমার সকাল হয় দুপুরে, দুপুর হয় রাতে, আর ঘুমানোর সময় হয় ফজরের পরে। চিন্তা কইরেন না, আপনাদের মধ্যেও অনেকেরই এই অবস্থা হবে বলে আমি আশা রাখি  ]]—

 

দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে পি.সির সামনে আবার বসলাম। কিছু পরে দেখি ওডেস্কে একটা জবের ইন্টারভিউতে আমাকে ইনভাইট করা হয়েছে। ইন্টারভিউতে গেলাম এবং হায়ারও হয়ে গেলাম। বায়ার বলল, কিছু পড়ে সে আমাকে কাজের বিস্তারিত জানাবে। আমি পড়লাম মহা-টেনশনে, কিছু পড়েতো আমি কক্সবাজারের দিকে রওনা দিব । আগেরবার তো কাজ শেষ করে ফাইল সার্ভারে আপলোড করে দিয়েছিলাম, এইবারতো বায়ার কিছু বলেই নি, কি কাজ করব? আর, কি আপলোড দিব? ফোন করলাম পাপনকে, বললাম- আমার যাওয়া হবে না। আমি ওডেস্কে একটা কাজে হায়ার হয়ে গেছি। সে বলল, “নো টেনশন। আমার ফ্রেন্ডের ল্যাপটপ দিয়ে কাজ চালিয়ে নিবি। তবুও কক্সবাজার তোকে যেতেই হবে।” আমি বললাম, ওকে। রাতে কক্সবাজারের দিকে রওনা দিলাম। ট্রেনের স্টেশনে গিয়ে দেখি ইমেইল এলার্ট, বায়ার আমাকে ডাকছে। স্টেশনেই ল্যাপটপ খুলে বায়ারের সাথে কথা বললাম। বায়ার পুরো কাজের বিস্তারিত আমাকে দিল। এদিকে স্টেশনের বাকী লোকগুলো আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল, যেন মনে হচ্ছিল তারা ভিনগ্রহের কোন প্রাণীকে দেখছে । তাড়াতাড়ি বায়ারের সাথে কনর্ভাসেশন শেষ করার চেষ্টা করলাম। আর তার কাছে থেকে নির্দিষ্ট একটা সময় চাইলাম। বায়ার আমাকে পুরো একদিন সময় দিল। আমি মনে মনে ভাবলাম, “একদিন!! আমিতো ট্রেনে বসে বসে এখনই শেষ করে ফেলব।” ট্রেনে উঠলাম। কাজ শুরু করবো বলে ল্যাপটপ চালালাম, এখন কাজতো করা যায় না। কারন, আমাদের দেশের ট্রেনগুলোতে বসলে সব সময় হেলে-দুলে পথ অতিক্রম করতে হয়। এই অবস্থায়তো গ্রাফিক ডিজাইনের মত কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মনে মনে বললাম, ধুর… কাল কক্সবাজার গিয়েই কাজ করব। এই বলে ল্যাপটপ অফ করে দিলাম। পরের দিন গেলাম চট্টগ্রাম। সেখানে যে অবস্থা, মনে হল কক্সবাজার যেতেতো আরো অনেক সময় লাগবে। তাই কাজটা আগে শেষ হওয়ার জন্য আমার পরিচিত একজন ফ্রিল্যান্স ডিজাইনারকে বিস্তারিত দিয়ে বললাম কাজটা করে দিতে। আর আমি উঠলাম গাড়িতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য। কয়েক ঘন্টা পরে গাড়ির মধ্যে ঘুম থেকে উঠে দেখি, উনি কাজ শেষ করে আমাকে রিপ্লাই দিয়েছেন।

 

উনাকে থ্যাংস দিয়ে মনে মনে হাসলাম। আর ভাবলাম আল্লাহ্‌ আমাকে অনেক সুখে রেখেছেন, যে জায়গায় একজন চাকরীজীবি দিন রাত কাজ করে সপ্তাহে মাত্র একদিন ছুটি পেয়ে থাকেন, সে জায়গায় আমি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে সাড়া বছরই টোউরে থাকি আর সেলারিও আল্লাহ্‌র রহমতে বিভিন্ন চাকরীজীবি থেকে কম পাই না। আমি যে উদাসীন ব্যক্তি, আল্লাহ্‌ মালুম আমি কোন অফিসে চাকরি পেলে সেটা কিভাবে করতাম। ফ্রিল্যান্সার হয়ে ভালই হয়েছে, দুনিয়া দেখে দেখে জব করি ।

 

এবার, কাজের কথায় আসি, কক্সবাজার গিয়ে বায়ারকে সব কাজ গুছিয়ে বায়ারকে রিপ্লাই দিলাম, “আমি ভ্রমনে আছি, আমার বন্ধুকে দিয়ে কাজটা করিয়েছি। আপনি যদি কাজ পছন্দ না করেন, তাহলে আমাকে বলবেন, আমি আবার করে দিব।” এই বলে, চলে গেলাম বীচে। বীচ থেকে এসে দেখি বায়ার আমাকে ৫ স্টার ফিডবেক দিয়েছে আর বেশ কিছু পরিমান বোনাসও দিয়েছে। আমিতো আনন্দে ৫ টুকরা হয়ে গেলাম। এমনিই বন্ধুদের সাথে ঘুরে-ফিরে খুশি তার উপর আবার কাজের বোনাস। বেশ মজা পেলাম।

 

এইবার আসি আপনাদের কথায়। কি বুঝলেন? ফ্রিল্যান্সিং করতে কি মজা আছে? সবাই কি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান?

 

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা:

 

১# আপনি যে কাজ জানেন তাই করতে পাড়বেন। সারা দিন শুধু ফেসবুকিং করলেও ঐ ফেসবুকের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করতে পাড়বেন।

২# যখন যেখানে মন চায় সেখানে বসে কাজ করতে পাড়বেন। সমুদ্রের পাশে বসেও করতে পাড়বেন আবার বাংলাদেশের উঁচু উঁচু পাহাড়গুলোতে বসে, যেমন: বান্দরবনের নীলাচলের উপর উঠেও কাজ করতে পাড়বেন (‘নীলাচলে’ বসে কাজ করার ছোট্ট একটা অভিজ্ঞতা আছে, তাই বললাম আরকি)।

৩# নিজে ব্যস্ত থাকলে আমার মতো আরো কারোর মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিতে পারেন ;)। তবে যদি কোন সময় কারো মাধ্যমে করিয়ে নেন তাহলে, অবশ্যই এই বিষয়ে দক্ষ এমন কারো মাধ্যমে কাজ করাবেন।

৪# আর বায়ারকে ভাল পাম দিতে পাড়লেতো বোনাসও পাবেন।

আরো অনেক সুবিধা আছে। যা বলতে গেলে আজকের রাত এখানেই শেষ হয়ে যাবে। এই মূহুর্তে একটু কাজে ব্যস্তও আছি। তাই আজ আর বেশি লিখতে চাচ্ছি না। তবুও শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাদের জন্য একটু সময় ব্যয় করতে ভালই লাগে। আপনাদের মন্তব্যগুলো যখন পড়ি বেশ আনন্দই পেয়ে থাকি। আপনাদের কারো কিছু জানার থাকলে নিচের মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন। অনেকেই আবার বলেন যে তাদের মন্তব্য মাঝে মাঝে এপ্রুভ করা হয় না। আসলে কুয়ালিটি মন্তব্য করতে পাড়লে অবশ্যই এপ্রুভ হবে। আপনার যার যা জানার প্রয়োজন আমাকে প্রশ্ন করবেন। ভি.আই.পি সেকশনে আমার ফোন নাম্বারও আছে, চাইলে ঐখান থেকে নাম্বার কালেক্ট করেও আমার কাছে ফোন করতে পাড়েন।

ভাইয়া এবং আপারা, আমার পোষ্টগুলো শুধু আপনাদের পড়লেই হবে না। আমার মতো কাজও করতে হবে। যদি কাজ না জেনে থাকেন। তাহলে, শিখে ফেলেন। শিখতে বেশি দিন সময় লাগবে না। এখনই কাজ শিখতে বসে পড়েন। এক মিনিট আগে কাজ শিখতে বসলে এক মিনিট আগেই কাজ শেখা শেষ হবে। আর শেষে ওডেস্কে বা অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ করতে থাকবেন। দেখবেন ফিল্যান্সিং কত্ত মজার কাজ।

সবার জন্য শুভ কমনা রইল। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*