ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ২১) | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ২১)

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 286 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

প্র্যাকটিক্যাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের আজকের পোষ্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের পোষ্ট। আজ আমি ফ্রিল্যান্সিং-এ গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে আপনাদের কিছু টিপস দিব।

আসলে আমার প্রিয় পাঠকদের মধ্যে গত কয়েকদিন আগে একজন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তারই উত্তর স্বরূপ আজকের এই পোষ্ট লিখা।

অনলাইনে যেসব কাজের চাহিদা বেশী সেগুলোর মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজগুলো অন্যতম এবং এইসব কাজের অনেক ভ্যালুও আছে। একজন মোটামোটি মানের গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আওয়ারলি রেট পাঁচ থেকে দশ ডলার হয়ে থাকে। আর উন্নতমানের ডিজাইনার হলেতো আরো বেশী। কিন্তু আমরাতো প্রথম অবস্থায়ই ভাল ডিজাইনার হতে পাড়ব না। আমাদেরকে আস্তে আস্তে কাজ করে ভাল ডিজাইনার হতে হবে।

আমার পার্সোনাল ধারণা থেকে বলছি, ওডেস্ক বা অন্যান্য সাইটগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মধ্যে লোগো ডিজাইনের কাজই বেশী থাকে। এর প্রধান কারণ হল- যখনই কোন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরী হবে সেটা অনলাইনভিত্তিক হোক বা অফলাইন হোক, সবার আগে ঐ প্রতিষ্ঠানের একটা লোগোর প্রয়োজন হবে। কারন, এই লোগোটাই তাদের কোম্পানীর পরিচয় বহন করবে। এরপর গ্রাফিক্স ডিজাইনের যে কাজগুলো দেখা যায় তা হল- ওয়েব পেজ ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন, আইকন ডিজাইন, ফেসবুক টাইমলাইন ডিজাইন ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে স্মর্টফোন বা ট্যাবলেট এ্যাপ ডিজাইনের কাজ, যেগুলোর চাহিদা যত দিন যাচ্ছে বৃদ্ধিই পাচ্ছে এবং এসব কাজের মূল্যও খুব বেশী।

কাজগুলো কিভাবে করবেন?

এই কাজগুলো করার জন্য আপনাকে খুব বেশী সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে না। আপনি যদি শুধুমাত্র ফটোশপের ভাল ব্যবহার জানেন সেটা দিয়েও উপরের সকল কাজ করতে পাড়বেন। তবে লোগো ডিজাইনের কাজের জন্য ফটোশপের চেয়ে ইলাস্ট্রাটর ব্যবহার করলে আমি মনে করি ভাল হবে।

কিভাবে দক্ষ হবেন?

দক্ষ হতে হলে আপনাকে যথেষ্ট পরিমান প্র্যাকটিস করতে হবে। একটা কথা আছে, “Practice makes a man perfect”. এই কথাটা কিন্তু হান্ড্রেট পার্সেন্ট সত্য। আপনি যত বেশী পরিমান প্র্যাকটিস করবেন তত বেশী জানতে পাড়বেন। এক মাস আর দুই মাস চেষ্টা করে পরে যদি বলেন আমার দ্বারা হবে না, আমার লাক খারাপ ইত্যাদি। তাহলে কিন্তু ভাল রেজাল্ট পাবেন না। উদাহরণস্বরূপ, আমার কথাই ধরুন। আমি প্রায় দুই বছর ফটোশপের উপর একটা সাইটে টিউটোরিয়াল লিখি কিন্তু ঐ ব্লগ থেকে আমি ২ বছরে মাত্র বিশ ডলার পেয়েছিলাম। একবার চিন্তা করে দেখেন দুই বছর আর মাত্র বিশ ডলার। কিন্তু ঐ সাইটে যথেষ্ট পরিমান ভাল টিউটোরিয়াল ছিল এবং এখনো অনেক প্রাফেশনাল ফ্রিল্যান্সার ঐ সাইটে গ্রাফিক্স ডিজাইনের টিউটোরিয়াল দেখেন। কিন্তু সাইট থেকে আয় হচ্ছিল না। আমাকে অনেকেই বলেছিলেন “এইসব একবার বাদ দিন, ইন্টারনেট থেকে আয় করা যায় না, এগুলো ভুয়া, শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন।” আমি বলেছি, “কিছুতেই আমি বাদ দিব না। আমি এর শেষ দেখতে চাই। হোক সময় নষ্ট, আমার টাকা এখন আয় না করলেও হবে, তবুও আমি শিখতে চাই, আমি এর শেষ না দেখে হাল ছাড়বো না।” এই জিদকে কাজে লাগিয়ে আমি আজ আল্লাহ্‌র রহমতে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। আমি যদি সেই সময় কাজ ছেড়ে দিতাম তাহলে কিন্তু আমার দ্বারা সত্যিই কিছু হত না। তাই আপনাদেরকেও বলি চেষ্টা করতে থাকেন, সফল একদিন হবেনই। প্রচুর পরিমানে প্র্যাকটিস করুন দেখবেন শিখে গেছেন। আর কাজ শিখে ফেললে কাজের কোন অভাব হবে না। দেখবেন কাজ এসে আপনাকে ছুলকাচ্ছে। তাই আগে কাজ শিখেন। কাজ শিখতে গেলে আপনাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে, এটা ঠিক। তবুও নিজের উপর থেকে আত্মবিশ্বাস হাড়াবেন না। মনে প্রাণে শুধু কাজকে ভালবাসুন। দিন-রাত কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, আমি কিন্তু সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে চাই। আপনারা যারা আমার বায়োডাটা দেখেছেন তারা হয়তো একটা জিনিস খেয়াল করেছেন, আমার বায়োডাটাগুলোতে ফিউচার প্লান হিসেবে আমি লিখি: “কাজ, কাজ, কাজ, কাজ আর ভাল কাজ।” আমার ফিউচার প্লান কিন্তু আসলেই এটা। আমি যখন এই লেখাটা দেখতাম তখন সব কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে আবারও কাজ করা শুরু করতাম। সন্ধ্যার সময় কাজ শুরু করলে কখন যে ফজরের আযানের সময় চলে আসত টেরই পেতাম না। আমি যদি এইসব করতে পারি তবে আপনারা কেন পাড়বেন না? আপনারাতো ফ্রিল্যান্সিংয়ের পেশায় এসে খারাপ হোক বা ভাল হোক আমার লেখা কয়েকটা কথা পড়তে পাড়ছেন। কিন্তু আমি এই সুবিধাগুলোও পাইনি। একজন ফ্রিল্যান্সারকে পেলে তাকে কতই না প্রশ্ন করতাম, কিন্তু সবাই’ই একটা বা দুইটা কথায় উত্তর দিয়ে দিত। কেউ ভালভাবে বুঝিয়ে কিছু বলত না। বেশী প্রশ্ন করলে অনেকেই আবার বকা দিয়ে উঠতেন। আপনারাতো আর এই সমস্যায় ভোগছেন না। আমি যা জানি সবই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ২৪ ঘন্টা ফোন খোলা থাকে, যে যেই সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন আমি যতটুকু পারি সহায়তা করি। শুধু আমি না, আল-হেরার পুরো টিমই আপনাদের পাশে সবসময় আছে।

গ্রাফিক ডিজাইনের কাজে দক্ষ হওয়ার জন্য আল-হেরার ভিডিও টিউটোরিয়াল প্যাকেজের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজাইনিং টিউটোরিয়াল সাইট ভিজিট করতে পারেন। এছাড়াও আপনারা বিভিন্ন কম্পিটিশন সাইটে ভিজিট করতে পারেন। এতে করে আপনারা বিভিন্ন দক্ষ ডিজাইনারদের কাজ দেখতে পারবেন এবং তাদের কাজ দেখে ভাল কাজের ধারণা নিতে পাড়বেন। এই পদ্ধতি সত্যিই অনেক ইফেক্টিভ।

বেশি লম্বা লেখা হয়ে গেল নাকী? ওকে, আজ আর লিখবো না। সবাই ভালো থাকবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*