ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৩)

প্রিয় পাঠকগন, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই খুব ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সাথে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক তথ্য শেয়ার করব।আসলে পেশাগতভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে এসব বিষয়ে কিছু জানা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যাইহোক আমার বকবক শুনে আপনাদের কোন লাভ হবে না। তাই চলুন মূল বিষয়ের দিকে যাওয়া যাক।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং বলতে আমরা অনলাইনে কাজ করে আয় করাকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ, কোনো একজন অনলাইনে কোনো কাজ পোষ্ট করবে। আর একজন সেই বায়ারের কাজ করে দেবেন।

কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং কথাটির মূল অর্থ কিন্তু এটা না। আসলে মধ্যযুগীয় সময়ে যখন এক রাজ্যের সাথে আরেক রাজ্যের যুদ্ধ সংঘঠন হত। তখন সৈনিকরা পেশা হিসেবে যুদ্ধকে গ্রহন করত। যারা যুদ্ধ করতেন তাদের মধ্যে আবার দুই ধরনের সৈন্য ছিলেন। একদল সৈন্য ছিলেন যারা রাজার হয়ে নিয়মিত বেতনে কাজ করতো। আর অন্যদল হলেন যারা কোন নির্দ্দিষ্ট রাজার হয়ে কাজ করতেন না একেক সময় একেক দলের হয়ে কাজ করতেন। এদেরকেই মূলত Free Lancer বা Freelancer বলা হত। এরা আসলে যাযাবরের মত ছিলেন। যারা এদেরকে টাকা দিবেন তাদের পক্ষ হয়েই যুদ্ধ তারা করবেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজের ধারা হিসেবে আমাদের কাছে সেই নামটা এখনো রয়ে গেছে। এখন ফ্রিল্যান্সাররা আগের মতন যে টাকা দেয় তার পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু সে কাজটা আর যুদ্ধ করা নয়, সেটা হল কম্পিউটার ভিত্তিক অনলাইন কাজ। যেমন- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি।

ওডেস্ক কি?

ওডেস্ক হল এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন বায়ার তাদের কাজের বিজ্ঞাপন দেন এবং ফ্রিল্যান্সাররা চুক্তিবদ্ধভাবে (ফিক্সড বা আওয়ারলি রেটে) সেই কাজ করে থাকেন। অর্থাৎ ওডেস্ক আসলে বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শুধু ওডেস্ক না। এরকম আরো অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। তবে আমার কাছে ওডেস্কই সবচেয়ে ভাল মনে হয়।

 

আমি কি ওডেস্কে কাজ করার উপযোগী?

আমার মতে ওডেস্কে কাজ করার জন্য দুনিয়ার সবকিছু জানতে হবে এমন না। আপনি যদি একটা বিষয়েও জানেন তাহলেই ওডেস্কে কাজ করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে আমি এটা অবশ্যই বলব যে ওডেস্কে কাজ করা বা যে কোনো জায়গায়ই কাজ করার আগে আপনি কাজটা অবশ্যই ভালভাবে জানতে হবে। তাই শুধু ফেসবুক চালালেই হবে না।  ভালভাবে কোন বিষয়ে জানতে হবে। এই মূহুর্তে আমার এক বন্ধুর কথা মনে হচ্ছে। সে একদিন আমাকে জিজ্ঞাস করেছিল- “তু্ই কিভাবে ইন্টারনেট থেকে আয় করিস? আমরাওতো ইন্টারনেটে ভিজিট করি, ফেসবুক/টেসবুক তো আমরাও দেখি। কিন্তু এখান থেকে আয় করা কিভাবে।” (আসলে আমার সকল বন্ধুদের মতেই ইন্টারনেট মানে হল ফেসবুক) :  তখন আমি তাকে উত্তর দিলাম- “দোস্ত শুধু ফেসবুক ব্যবহার করলেই যে তুমি ইন্টারনেট থেকে আয় করতে পাড়বে এ কথা তোমাকে কে বলেছে? আর ইন্টারনেট থেকে আয় করতে হলে ফেসবুক ব্যবহার করতে হয় না। ফেসবুকের বাহিরেও ইন্টারনেটে আরো অনেক কিছু আছে। তবে হ্যাঁ ফেসবুক থেকেও আয় করা যায়। মূল কথা হল দোস্ত ইন্টারনেট থেকে আয় করা হয় মূলত কাজ করে। আগে তোমাকে কাজ শিখতে হবে। তারপর তুমি কাজ করবে। আর ভালভাবে কাজ সম্পন্ন করার পরই তুমি টাকা আয় করতে পাড়বে।”

সুতরাং আপনাদের জন্যও আমার একই সাজেশন- আগে কাজ শিখুন, নিজের কাজকে যাচাই করুন তারপর ফ্রিল্যান্সিং-এ নিয়োজিত হোন। নতুবা আমার মতো রেজিষ্ট্রেশনের দুই বছর পর কাজ পেতে হবে।  কথার প্রসঙ্গে আরেকটা প্রশ্নের কথা মাথায় চলে আসলো, নতুনদের পক্ষ থেকে যেটি খুব কমন একটি প্রশ্ন। তাহল-

কি কাজ শিখব?

ভাই, আমার Shortcut উত্তর- আপনার যা ভালো লাগে তাই শিখেন। তাহলে কম সময়ে অনেক বেশী কাজও শিখতে পাড়বেন। উদাহরন স্বরূপ আমার কথাই বলি- আমি এ কথা খুব ভালভাবেই জানি যে একজন ভালমানের এস,ই,ও ওয়ার্কার প্রতি বছরে অন্তত দুই হাজার ঘন্টা কাজ করতে পারেন আর তার মাসিক আয় হতে পারে এক লক্ষ টাকার মত। আর এই সময়ে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা ওয়েব ডিজাইনার ১০০ ঘন্টা কাজ করতে না করতেই হাপিয়ে ওঠেন। আর আয় হয়তো ৪০-৬০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে (এর ব্যাতিক্রমও আছে)। তবুও আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজই করি এবং এটা করেই আমি সাচ্ছন্দ বোধ করি।  আর আমি এ ধরনের কাজ করে অনেক আনন্দ পাই। আমি খুব কম সময়েই এই কাজগুলো বুঝতে পারি।

তাই আপনাদের ক্ষেত্রেও আমি তাই বলব। আপনার পছন্দ মত কাজ করেন। আর শেখার জন্য তো কোন বাধা নাই। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, এস.ই.ও, ডাটা এন্ট্রি  যা ইচ্ছা শিখেন। কাজ শেখার জন্য আপনি বিভিন্ন পথ অবলম্বন করতে পারেন। আপনি আল-হেরা মাল্টিমিডিয়া থেকেও ভিডিও টিউটোরিয়াল কালেক্ট করতে পারেন। এখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানসন্মত টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এছাড়া, শেখার জন্য অনলাইনে রয়েছে অনেক টিউটোরিয়াল সাইট। সর্বোপরি গুগোলতো আছেই। তো.. কাজ জানা না থাকলে আজ থেকেই শেখা শুরু করেন।

একজন ফ্রিল্যান্সারের কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন?

সততা, ধৈর্য্য, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম করার মত মনমানসিকতা আছে এমন যে কেউই ফ্রিল্যান্সার হওয়ার যোগ্য। আসলে এই ৪টা জিনিস দোষ না গুণ সেটা আমি জানি না। তবে এগুলো যার মাঝে আছে, সে শুধু ফ্রিল্যান্সিং নয় যে কোন পেশাই সফল হতে পাড়বে, ইনশাআল্লাহ্ । ধৈর্য্য বলতে আমি বলছি না আমার মত একাউন্ট করার দুই বছর পর কাজ করার কথা। আমি বলছি, ধৈর্যের সাথে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টাকে ভালভাবে জানুন। অনলাইনে বার বার এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করুন। প্রচুর পরিমানে বিড করুন, দুই এক মাস বিড করে থেমে যাবেন না। কাজ জানলে আপনি কাজ পাবেনই। কেউ হয়েতো আগে পায় কেউ আবার কিছু পরে পায়। তবে ম্যাইন কথা হলো কাজ জানা।

কঠোর পরিশ্রম বলতে- আপনি যেকোনো একটা কাজ পারেন তা নিয়ে বসে থাকবেন, তা না। আপনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজ শিখুন। তাছাড়াও কাজে নিয়োজিত হওয়ার আগে আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজেই দেখতে হবে- কাজ পারেন কি না? আপনি যে কাজ জানেন তা বায়ারকে বুঝান। কখনো কাজ ভিক্ষা চাইবেন না (Don’t say, “Please give me your work.”)!

 

ওডেস্ক থেকে কিভাবে কাজ পাব?

এই মাত্র বলেছি- আগে কাজ শিখেন, নিজের কাজগুলোকে যাচাই করেন। তারপর কাজ করার দিকে আগান। ওডেস্কে জয়েন করতে আপনার কোনো মহান কাজ করতে হবে না। শুধু ওডেস্কে একটা রেজিস্ট্রেশন করবেন, আর এর জন্য কোন পেমেন্ট দিতে হবে না। (আমার রেফারেন্সে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।) রেজিষ্ট্রেশনের কাজ শেষ হলে অতি চমৎকার একটা প্রোফাইল তৈরী করুন। আপনার প্রোফাইলকে ১০০% করে তুলুন। কিভাবে বিড করবেন এবং কিভাবে কভার লেটার লিখবেন। এইসব বিষয়ে পরবর্তীতে আলাপ করব। আজ এখানেই থাক।  সবাই ভাল থাকবেন।  সবাইকে সালাম জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি ।

Author: softwear man

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *