ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৬)

সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের ফ্রিল্যান্সিং পর্ব। আজকের পর্বে আমি আপনাদেরকে একটা খুব ছোট কাজের বর্ণনা দিব।

আসলে দুই/একটা কাজের বিস্তারিত বর্ণনা জানা থাকলে পরবর্তীতে কাজ করতে আপনাদের সুবিধা হবে। গত কয়েকদিন আগে, আমি এমনিতেই ওডেস্কের বিভিন্ন কাজ দেখতেছি। হঠাৎ একটা কাজ চোখে পড়লো, তা হলো ফটো ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভিং (অর্থাৎ: কাজটা হলো- কোন একটি ফটো থেকে ঐ ফটো-এর প্রধান চরিত্র ছাড়া বাকী সব মুছে ফেলা)। আমি কাজটার বিস্তারিত দেখলাম, যেখানে বায়ার বলছেন- উনার একটা ছবি আছে, উনি চান যে ঐ ছবিতে দুইজন ব্যক্তি আছেন যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে শুধু ঐ ব্যক্তি দুজনকে রাখতে হবে। আর সাথে উনি উনার ছবিটা এটাচ করে দিয়ে দিলেন।

আমি ছবিটি খুলে দেখলাম। আমার কাছে মনে হলো আমি কাজটি করতে পারব। আমি খুব তাড়াতাড়ি করে ছবিটি ডাউনলোড করে ফটোশপে বের করলাম। ঐ ছবিটাতে খুব যত্ন সহকারে কাজ করলাম। ভালভাবে ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভিংয়ের কাজ শেষ করে, একটা কভার লেটার লিখেছিলাম। যেখানে আমি বলেছিলাম- “আমি এই কাজটা করতে পারবো। আমি আপনার ছবিটাকে রাফ হিসেবে কিছু কাজ করেছি। দয়া করে, আমার এটাচ করা ছবিটা দেখেন।” এই বলে আমি বিড করলাম $5 আর অগ্রিম চাইলাম 75%। এখানে অগ্রিম অবশ্য একটু বেশীই হয়ে গিয়েছিল। তবু বেশী চাইলাম এই কারনে যে, আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি কাজটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। এখন বায়ার শুধু আমার কাজটা দেখবে আর তার যদি পছন্দ হয় তাহলে সে হায়ার করে মেইন ফাইলটা চাইবে। আর আমি খুবই দ্রুত দিয়ে দিব। জব পোষ্ট হওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর আমি বিড করেছিলাম। আর ঐ সময় প্রায় বিশ বা এর চেয়ে বেশী ডিজাইনার ঐ কাজের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবুও আমার কাছে মনে হয়েছিল আমি কাজটা পাব। এই শেষ বিডের পালা।

পরের দিন ঠিকই দেখি বায়ার আমাকে একটা ধন্যবাদ ম্যাসেজসহ মূল কাজের 75% দিয়ে হায়ার করে ফেলেছে। বায়ার তার কাজের আরো উন্নতি চায় এরকম বলে ম্যাসেজটা দিয়েছিল। আমি কাজটা শেষ করি এবং তার কাছে জমা দেই। বায়ার কাজ শেষ হওয়ার পর সে ঐটা নিয়ে নিল। কিন্তু আমাকে বাকী টাকা আর দিল না। আমি ভাবলাম কাহিনী শেষ, এই টাকা আর ফিরে পাব না। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর দেখি ঐ বায়ার আমাকে তার বকেয়া টাকা দিয়ে দিয়েছে। আর ফিডবেক হিসেবে একটা ভাল মন্তুব্য এবং ৫ তারা দেয়।

বায়ার যখন ফিডবেক দেয় আমি তখন অনলাইনে ছিলাম। ফিডবেক দেওয়ার পর আমি তার সাথে আবার যোগাযোগ করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম, তার আর কোন কাজ লাগবে কিনা? সে ‍উত্তরে আমাকে আরেকটা ইমেজ দিল এবং বলল ঐ টাকে আরে সুন্দর করে দিতে। নিচে ইমেজটা দেখানো হল-

তারপর, এই ইমেজটাকে আমি ফটোশপে বের করি এবং এতে কিছু কাজ করে ৩/৪ মিনিটের মধ্যে বায়ারকে রিপ্লাই দেই।

বায়ার নতুন ইমেজটি দেখে খুব খুশি হয়ে বলেছিল-

Excellent!
I will pay you $2 for this.

তবে বায়ার এখনো ঐ দুই ডলার দেয় নি। আশা করি ভদ্রলোক ঐ টাকাও দিয়ে দিবেন।

এখন আসুন দেখে নেয়া যাক আজকের এই পোষ্ট থেকে শেখার উল্লেখযোগ্য বিষয় সমূহ কি কি?

এই পোষ্ট থেকে শেখার বিষয় সমূহ:

১ # ছোট হোক/বড় হোক, কোন কাজকে অবহেলা করা ঠিক হবে না।

২# কম সময়ের কাজ থাকলে, কাজটাকে শেষ করে কভারলেটারেই স্যাম্পল দিয়ে দিলে ভাল হবে।

৩# কভার লেটার ছোট ও অর্থবহুল হতে হবে।

৪# কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ করে ফেললে, অগ্রিম বেশী চাইলেও কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫# বায়ার টাকা দিতে দেড়ি করলে, সাথে সাথে কোন একশ্যান নেওয়ার দরকার নাই। এক মাস/দুই মাস দেড়ি করলে আপনি ওডেস্ক কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।

৬# একটা কাজ শেষ হয়ে ‍গেলে বসে না থেকে বায়ারকে প্রশ্ন করার প্রয়োজন, তার কাছে আর কোন কাজ আছে কি নাই।

আজ এখানেই থাক। সবাইকে আবারো সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই বিদায়।

আল্লাহ্ হাফেজ।

Author: softwear man

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *