ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৫) | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৫)

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 480 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

সম্মানিত পাঠকগন, আপনার সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন।

গত কয়েকদিনের পোষ্টে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে কিছু প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলাম। তবে এগুলোই শেষ নয়। আপনাদেরকে আরো জানতে হবে। এর জন্য আপনারা google.com-এ গিয়ে “define freelance”, “define outsourcing” লিখে সার্চ দিতে বা অনুসন্ধান করতে পারেন, যাহোক আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি বিষয় শেয়ার করব, যা ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করার জন্য খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হল প্রোফাইল সমৃদ্ধকরণ। আমার মতে এটি হল ফ্রিল্যান্সিং-এ কাজ পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার। আপনার প্রোফাইল যত স্মার্ট আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশী।

 

মনে করুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য আবেদন করবেন। এর জন্য আপনাকে একটি ভাল মানের বায়োডাটা তৈরী করতে হবে। আপনার বায়োডাটা সুন্দর হলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আপনাকে চাকুরিতে রাখবে। আর ওডেস্কের প্রোফাইল বায়োডাটার মতই কাজ করে। তো আসুন জেনে নেয়া যাক, কিভাবে ওডেস্কে একটি সুন্দর প্রোফাইল তৈরী করা যায়।

প্রোফাইল সমৃদ্ধকরণ-১

প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন। তারপর আপনার আই.ডি’তে প্রবেশ করে edit profile-এ ক্লিক করুন।

এখন সবার উপরে পাবেন, “My Accound Summary”। এটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যখন কোন বায়ার আপনার প্রোফাইল দেখবে, তখন সবার আগে এই অংশটুকুই তার চোখে পড়বে। তাই এই অংশকে খুব গুরুত্ব দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। এই অংশের প্রথমেই পাবেন- Title, টাইটেলে আপনার কাজের কথা বলবেন। অর্থাৎ, আপনি কি ধরণের কাজ করেন বা করতে চান। প্রথম অবস্থায় একটা কাজের নাম বলাই উত্তম। যেমন: আপনি যদি গ্রাফিক্সডিজাইনার এবং এস.ই.ও স্পেশালিষ্ট হন, তাহলে এগুলোর মধ্যে যেটিতে আপনি বেশী দক্ষ সেটার কথাই আপনার টাইটেলে দেন। একটার অধিকও দিতে পারেন। তবে প্রথম অবস্থায় একটা রাখাই ভাল। পরবর্তীতে আপনি চাইলে পরিবর্তন করতে পারেন। প্রথম অবস্থায় বেশী ক্যাটাগরি দেখলে বায়ার কনফিউস্ড হয়ে যায়। তাই একটা রাখা উত্তম বলে আমি মনে করি। তবে এখানে “Data Entry” কথাটা না রাখাই ভাল। আপনি যদি ডাটা এন্ট্রি জাতীয় কাজ করে থাকেন, তাহলে আপনি “Article Writer” বা এ জাতীয় স্পেসিফিক কোন কাজের নাম বলেন।

তারপর পাবেন- Portrait. আশাকরি Portrait জিনিটা কি এটা আপনাদের বুঝাতে হবে না। আর যারা বুঝেন না, তারা আমার আগের লেখাগুলো ভালভাবে পড়ুন। ঐখানে লেখা আছে আগে কাজ শিখুন, তারপর কাজ করুন। আপনি যদি কাজ শিখে থাকেন তাহলে এই জিনিসটার মানে জানার কথা। যাইহোক Portrait এর ক্ষেত্রে গাইডলাইন হলো আপনার নিজস্ব Portrait টি রাখবেন। কোন লোগো বা আর কিছু এখানে রাখবেন না। যদি রাখেন তাহলে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এখানে অবশ্যই আপনার নিজস্ব Portrait-টি রাখবেন।

এরপর পাবেন, Hourly Pay Rate. বুঝতেই পারছেন এটি কি। এটা হলো আপনার কাজের আওয়ারলি রেট। আপনার কাজের প্রতি ঘন্টা রেট এখানে লিখবেন। তবে এই অংশের ক্ষেত্রে কথা হল, আপনার আওয়ারলি রেট খুব বেশী দেবেন না, আবার খুব কমও দেবেন না। কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ারলি রেট কম হলে কাজ পাওয়ারসম্ভাবনা বেশী থাকে। আসলে এ কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, বায়াররা আওয়ারলি রেটের দিখে খেয়াল করে না। তাদের প্রয়োজন উন্নত কাজ। কাজ ভালো হলে তারা আপনাকে আওয়ারলি রেটের টাকা দিবে তো দিবেই, সাথে আরো বোনাসও দিবে। এইতো সেদিন- আমি দশ মিনিটে একটা কাজ করেছি, তারপর বায়ার আমার কাজে খুশি হয়ে আমাকে $14 দিয়েছিল, যেখানে আমার আওয়ারলি রেট ছিল $5. তাই রেট কোন সমস্যা না। কথা হল কাজ জানা। তাই বলে আপনার রেট যে একেবারে আসমানে তুলে রাখবেন তা না। মনে করুন একজন মোটামুটি ভালগ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে আপনার আওয়ারলি রেট $5 রাখতে পারেন। আর অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী আওয়ারলি রেট দিবেন। তবে আপনার আওয়ারলি রেট একে বারে কম রাখা ঠিক হবে না।

তারপরই পাবেন রেডিনেস টেস্ট-

ওডেস্কের কিছু নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। যারা ওডেস্কে কাজ করবেন তারা এই নিয়মগুলো জানতে হবে। আর যারা এই নিয়মকানুন পড়েছেন তাদের যাচাইয়ের জন্যই এই টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টেস্ট দেওয়া কোন কঠিন কাজ না। আগে আপনি ওডেস্কের টেস্টের সিলেবাস অনুযায়ী কিছু সময় পড়াশোনা করেন। তারপর টেস্টটি দিয়ে দিন। দেখবেন পাশ হয়ে গেছেন। রেডিনেস টেস্ট দেওয়ার জন্য আপনি যদি এর চেয়ে বেশী কিছু ওডেস্ক ছাড়া আর কারো কাছ থেকে জানতে চান, তাহলে মনে করবেন- আপনি এখনো ওডেস্কে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। নিজের দায়িত্বেই ওডেস্ক থেকে রেডিনেস টেস্ট সম্পর্কে জেনে তারপর টেস্ট দিন। আমি চাইলে আপনাদেরকে এখনই সব কিছু বলতে পারি কিন্তু আমি চাই আপনারা খুব ভালভাবে সব কিছু জানুন। আর এর জন্য আপনারা যদি নিজে নিজে ওডেস্কে যেয়ে সব কিছু জেনে নেন তাহলেই আপনাদের জন্য ভাল হবে।

এরপর পাবেন- “Add a skill”. স্কিল এর ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় মাত্র কয়েকটি স্কিল রাখবেন। কেউ কেউ আবার দেখা যায়, কয়েকটা বিষয় সম্পর্কে কিছু জেনে এই বিষয়গুলোকে ‍স্কিল-এ রেখে দিয়েছেন। আসলে স্কিল-এ ঐ বিষয়গুলো রাখবেন যা আপনি সত্যিই জানেন। আর প্রথম অবস্থায় আপনি যে ক্যাটাগরিতে কাজ করবেন ঐ ক্যাটাগরির বিষয়গুলোই স্কিলে রাখুন। ধরুন, আপনি এস,ই,ও এর কাজ করবেন। এখন স্কিল-এ এস,ই,ও এর সাথে রিলেটেড কাজগুলোই রাখেন। যেমন: SEO, Link building, backlink, press release ইত্যাদি যেসব কাজ এস,ই,ও করতে প্রয়োজন হয়। আপনি কাজ করবেন এস,ই,ও-তে আর স্কিলে রেখে দিলেন- photoshop, seo, joomla, wordpress, ms office, illustrator, indesign, php, html… ইত্যাদি এক গাদা স্কিল। তাহলে আপনার সব শেষ। প্রথম অবস্থায় শুধুমাত্র আপনার কাজের ক্ষেত্রে মিল রাখে, এমন কয়েকটি বিষয়ই স্কিলে রাখেন। তাই বেশী রাখা ভাল হবে না। সব সময় একটা কথা মনে রাখবেন, “We need quality not quantity”.

এই অংশের মাধ্যমে আপনার “My Account Summary” অংশের কাজ সম্পন্ন হল। প্রোফাইল সমৃদ্ধকরণের পরবর্তী টিপস নিয়ে শীঘ্রই আপনার মাঝে হাজির হব। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*