ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৭) | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ৭)

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 228 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা, পোষ্টের শুরুতে সবাইকে জানাই সালাম ও শুভেচ্ছা। সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহ্‌র রহমতে ভালই আছেন। অনলাইন আর্নিংসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভাল।

আমাদের দেশের মেধাবী তরুনদের বদৌলতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি।  শুধু তরুন নয়, বর্তমানে একজন শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এমন কি ঘরের গৃহিণীও বাড়তি আয় হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। আবার অনেকেই এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দেশের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অনেকাংশই এখন আউটসোর্সিং থেকে আসে।  ব্লগ, পত্রিকা, সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং ইত্যাদির কারণে আউটসোর্সিং বা ইন্টারনেট থেকে আয় বিষয়টা অনেকের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। সফল ফ্রিল্যান্সার বা ব্লগারের আত্মকাহীনি পড়ে অনেকের মনেই আউটসোর্সিংয়ের আগ্রহ জাগে। এটা ভাল কথা।এখন জিনিসটা হয়ে দাঁড়ায় এরকম, একজন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যার সূচনা হয়েছে ফেসবুক বা এরকম কোন সোসিয়াল মিডিয়া সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে। সে ভালভাবে সার্চ ইঞ্জিনটাও ব্যবহার করতে পারে না। ম্যাসেজকে বলে কমেন্ট, কমেন্টকে বলে কমান্ড, আবার গুগলকে বলে গুগলি। এরকম লোক হঠাৎ করে দেখতে পেল “ঘরে বসে ইন্টারনেট থেকে আয় করুন।” এরকম একটি এ্যাড। এ্যাডটা চেখে পড়ামাত্রই সে ভাববে, এটাই সেই জিনিস যা সে পত্রিকায় বা কোন ব্লগে পড়েছিল, অথবা কারো কাছ থেকে ইন্টারনেটে আয়ের কথা শুনেছিল। স্বভাবতই সে ঐ এ্যাডটিতে ক্লিক করবে এবং সে ক্লিক করল। কিন্তু ভিতের যেতেই ঘটনার পরিবর্তন। বিস্তারিত পড়ার পর দেখা গেল, কাজটা এরকম যে- তাকে প্রতিদিন কিছু সংখ্যক এ্যাড দেওয়া হবে। সে ঐ এ্যাডে ক্লিক করবে আর এ্যাড কর্তৃপক্ষ প্রতি ক্লিকের জন্য ক্লিককারীকে টাকা প্রদান করবে। ভাইজানেরা, একটু খেয়াল করে শুনুন, এটা হলো পি.টি.সি ব্যবসা। আসলে এটা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।আরেকটা ব্যবসা আছে, এম.এল.এম মার্কা ব্যবসা। এক্কেবারে ভোগাস একটা ব্যবসা। যেখানে শুধু মানুষকে ঠকানোর উপায় দেখা যায়। কয়েকদিন আগে আমি কয়েকটা সাইটের নাম খুব শুনতাম। যেমন: unipay2u বা speakAsia। এই সাইটগুলো কিন্তু আমাদের দেশ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদের কাজটা হলো এরকম- ব্যবহারকারী একটা রেজিষ্ট্রেশন করবেন। রেজিষ্ট্রেশনের পর উনি উনার বন্ধুদের রেফার করবেন। উনার রেফারেন্সে যদি কেউ রেজিষ্ট্রেশন করে তাহলে রেফারকারী টাকা পাবেন। এই রকম সাইটে আমার অনেক বন্ধু কাজ করত। তারা আমাকে অফার জানাতো।

একবার আমার এক বন্ধু কিভাবে শুনতে পেড়েছিল যে আমি অনলাইনে কাজ করি। তখন আমার প্রথম সাইটটাই শুধু ছিল, আর ঐটা বিভিন্ন কারণে ফ্লপ হওয়ার দিকেই যাচ্ছিল। সে আমাকে প্রশ্ন করল, “তুই নাকি অনলাইনে আয় করিস, কেমন আয় হয়?” আমি উত্তর দিলাম, “আমার সাইটে কিছু সমস্যার কারণে আয় কম হচ্ছে।” সে বলল, “তুই আসলে অনলাইনে আয় করা জানিস না, অনলাইনে আয় করা হয় ——– সাইট থেকে।” খালি অংশে সে একটা এম.এল.এম সাইটের কথা বলেছিল। আমি এই সাইটের নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। আসলে আমার বন্ধুটা ইন্টারনেট ভালভাবে ব্যবহার করতেও জানেনা। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা আজও হয়তো শুনেনি। তবুও আমাকে একগাদা জ্ঞান দিয়ে গেল। আসলে, তার আরো কোন বন্ধু ঐ সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করেছিল আর গল্প শুনে আমাকে বলল আরকি। আমি কোনো মতে তার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আর মনে মনে হাসলামও। কিন্তু কিছু বলিনি। কারণ ওকে কিছু বলে লাভ নাই। প্রথমত, সে কম্পিউটারটা ভালভাবে ব্যবহার করতে জানেনা। দ্বিতীয়ত, শেখার কোন আগ্রহ তার কাছে আছে বলে আমার এখনো মনে হয় না।যাহোক, অনলাইনে যেমন আয়ের জন্য অপার সম্ভাবনা আছে তেমনি প্রতারণার ক্ষেত্রেও এই সেক্টরে রয়েছে অনেক অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যাদের শিকারে প্রতারিত হয়েছেন অনেক ব্যক্তিবর্গ। তারা সাধারণ মানুষদের অনলাইনে আয়ের লোভনীয় অফার দিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে প্রতারিত করছে। যারা এসব প্রতারণার কাজ করে, এদের মধ্যে এম.এল.এম টাইপের সাইটগুলো বেশীই জড়িত থাকে। আর পিটিসি সাইটগুলোও কোন অংশে কম নয়। এদের লোভনীয় অফার দেখে অনেকেই গলে যান। আসলে এইসব সাইটগুলোর প্রায় সবটিই ভুয়া। তাই নিজেকে এই সাইটগুলো থেকে হেফাজতে রাখুন।

ঐ সাইটগুলোতে ক্লিক করে যে সময় ব্যয় করবেন ঐ সময়টাতে একটা কাজ শিখুন। আগে কাজ শিখুন, দেখবেন টাকা আপনার পিছনে আসতেছে। মানলাম নিজের পকেট খরচের জন্য ঐ ক্লিকগুলো করছেন। কিন্তু আপনি এরকম থার্ড ক্লাশ সাইটগুলোকেই কেন আপন করে নিচ্ছেন? অনলাইনে অনেক সাইট আছে যেখানে ছোট ছোট ওয়ার্কাররা কাজ করেন। যেমন: মাইক্রোওয়ার্কাস। এইসব সাইটে গিয়ে আপনি কিছু কাজ করেন। তাহলে কিছু শিখতে পারবেন, নিজের দক্ষতাও বাড়াবে আবার আয়ও হবে। মাইক্রোজব সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আল-হেরার মাইক্রো জব সম্পর্কিত ভিডিও লার্নিং সিডিটি কালেক্ট করতে পারেন।রেফারেন্স আর এম.এল.এম টাইপের কাজ বাদ দেন। শুধু শুধু মানুষের পেজে স্প্যামিং করা বন্ধ করেন। এসব পি.টি.সি আর রেফারেল সাইটগুলোকে এবার ভুলে যান। কাজ শেখায় মনোযোগ দেন। আমি নিজেও ঐসব সাইটে কিছু দৌড়াদৌড়ি করেছি। কোন লাভ হয়নি। শুধু শুধু কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। একবার এইসব কাজের কথা চিন্তা করে দেখেন- একজন লোক আপনাকে টাকা দিবেন। কাজ হচ্ছে শুধু আপনি তার দেওয়া এ্যাডগুলোতে ক্লিক করবেন। আরে এতো সহজ কাজতো সে নিজেই ঘরে বসে বসে করে না কেন? তার পুরো পরিবার নিয়ে সারা দিন শুধু ক্লিক করে না কেন? আপনাকে টাকা দিয়ে ক্লিক করিয়ে নিচ্ছে কেন? আবার রেফারেল সাইটগুলো, তাদের যদি এতই রেজিষ্টার্ড সদস্যের প্রয়োজন তাহলে তারা গুগোলে এ্যাড দেয় না কেন?প্লিজ এইসব সাইটের পিছনে ঘুরে নিজের মেধাটাকে বসিয়ে রাখবেন না। কাজ শিখেন, তারপর টাকা আয় করবেন। কি শিখবেন, তা আমার আগের পোষ্টগুলোতে অনেকবার আলোচনা করেছি। এখন শুধু একথাই বলি, যদি কাজ না জানেন তাহলে শিখেন। আর যদি জানেন তাহলে আরো ভালো ভাবে শিখেন।

আজ এপর্যন্তই। সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*