ফ্রিলান্সিং মাষ্টার :: প্র্যাকটিকাল ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার (পর্ব – ১)

আর্টিকেলটা শুরু করার আগে আমার পুরো পরিচয়টা দিয়ে নেই। আমি মো: আলাউর রহমান রোকন (ডাকনামঃ রিকন), আমার বাড়ি মৌলভীবাজার । এটা আমার প্রথম টিউটোরিয়াল পোষ্ট কুমিল্লা আইটিতে ,…..

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমি আল-হেরা থেকেই প্রথম জানতে পারি। তখন ফ্রিল্যান্সিং-এ তেমন বেশী আগ্রহ ছিল না। কিছুদিন চেষ্টা করে ফ্রিল্যান্সিং বাদ দিয়ে ব্লগিংয়ের দিকে এগিয়ে যাই। আল-হেরার পরিচালক ফরিদ আহম্মেদ ভাইয়ের সক্রিয় সহযোগীতার কারণে এক বছরে ব্লগিং ও এস.ই.ও তে অনেক সফলতা পাই। আর এস.সি.ও এবং ব্লগিংয়ের সংমিশ্রণে আমার অনেক স্বপ্নও পূরণ হল।
odesk_2

কিছুদিন আগে, একটা সাইটে ওডেস্কে একজন সফল ব্যক্তির জীবন কাহিনী সম্পর্কে পড়ে আবার ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে যেতে ইচ্ছে হল। তাই পুরাতন ওডেস্ক প্রোফাইটাকে নিয়ে সিরিয়াসলি চেষ্টা করতে শুরু করলাম। ভালভাবে বিড করার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম কাজটি পেয়ে যাই। কাজটা ছিল একটা ব্যানার ডিজাইনিংয়ের কাজ। সফলতার সাথে কাজটি শেষ করার পর, ফুল পেমেন্টসহ ৫ স্টার ফিডবেক পাই। তারপর শুরু হল কাজের পালা। এখন আসুন আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলি। নতুনদের কয়েকটা সাধারন প্রশ্ন থাকে। যেমনঃ

ওডেস্কে কাজ করতে হলে কি খুব বেশী কিছু জানতে হয়?

না, মোটেও না। ওডেস্কে কাজ করতে হলে আপনাকে কোনো মহাপন্ডিত হতে হবে না। আপনি সাধারন কাজগুলোও যদি ভালভাবে জানেন তাহলেই হল। এমনকি আপনি যদি সারাদিন ফেসবুকে বসে সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং ছাড়া আর কিছুই করেন না, তবুও আমি বলবো আপনার জন্য ওডেস্কে প্রচুর কাজ আছে।

 

কাজ পাওয়া কি খুব কঠিন?

আমার মতে, কাজ পাওয়া একেবারেই সহজ। আপনার প্রোফাইল আর কভার লেটার যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনি কাজ খুজতে হবে না। কাজই আপনাকে খুজে বের করবে। তবে একথাও ঠিক যে প্রথম কাজ পেতে অনেক সময় দুই/এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। আর আমি এমন কিছু মানুষকে জানি যারা প্রথম বিডেই কাজ পেয়েছেন।

 

প্রোফাইল কি?

সাধারণভাবে বলতে গেলে, প্রোফাইলটা হল আপনার বায়োডাটা। আমরা যখন কোনো কাজের জন্য বা চাকুরীর জন্য আবেদন করি তখন আমাদের বায়োডাটা দেখাতে হয় এবং এটা চাকুরী পাওয়ার জন্য অনেক গুরুত্ব রাখে। ওডেস্কের ক্ষেত্রেও প্রোফাইলটা সেই গুরুত্ব রাখে। আমার মতে, কাজ পাওয়ার প্রথম আর প্রধান হাতিয়ারই হল প্রোফাইল। তাই আপনাকে কাজ পেতে হলে এটার প্রতি খুব বেশী যত্নশীল হতে হবে।

 

কিভাবে প্রোফাইল সাজাবেন?

প্রোফাইল সাজানো অনেক লম্বা একটা কাজ। এটা ভালভাবে করতে আপনার হয়তো এক সপ্তাহ সময়ও লেগে যেতে পারে। আপনি যে কাজটা জানেন বা করবেন ঐটাকে ফোকাস করেই প্রোফাইলটা সাজান। ধরুন, আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, এখন আপনি আপনার প্রোফাইলটা গ্রাফিক্সকে কেন্দ্র করেই তৈরী করুন। আপনি গ্রাফিক্সের বিভিন্ন টেস্ট দিন। আপনার ওডেস্ক পোর্টফোলিওতে আপনার তৈরী করা চমৎকার কিছু গ্রাফিক্স ডিজাইনের স্যাম্পুল আপলোড করে রাখুন। তাহলেই হবে। কাজ আপনি পাবেনই, ইশাআল্লাহ।

 

কভারলেটার কি? কিভাবে লিখব?

আপনি কাজে বিড করার সময় বায়ারকে যে ম্যাসেজ দিবেন ঐটাই হল কভার লেটার।

কভারলেটারের ক্ষেত্রে যত কম কথা এবং ইফেক্টিভ কথা লেখতে পাড়বেন, ততই ভাল হবে। প্রথমে বায়ারকে একটা সম্বোধন দিন (Dear Sir)। তারপর আপনি যে কাজটা বুঝেছেন এবং এই ধরনের কাজ এর আগে করেছেন একথা বলুন। যেমনঃ “এ ধরনের কাজের জন্য আমি খুব এক্সপার্ট, এর আগেও আমি সফলতার সাথে এমন অনেক কাজ করেছি। এই আমার কাজের প্রমাণ [আপনার আগের করা কাজগুলোর লিংক]” ব্যাস হয়ে গেল আপনার কভার লেটার।

 

এরপর কি করব?

আপনার প্রোফাইল এবং কভার লেটারটা যদি সত্যিই আকর্ষনীয় হয়। তাহলে বায়ার আপনাকে ইন্টারভিউতে ডাকবে। সেখানে আপনি যদি দ্রুত এবং ভাল পারফর্মেন্স  দেখাতে পারেন, তবে মনে করবেন কাজটা আপনিই জিতে গেছেন।

আপনারা অনেকেই হয়তো এত লম্বা পোষ্ট পড়ে বিরক্ত হয়ে গেছেন। তাই আজ এখানেই থাক। ফ্রিল্যান্সিং পরবর্তী পর্ব নিয়ে ইনশাল্লাহ আবার হাজির হব। সবার জন্য শুভ কামনা রইল। আল্লাহ্ হাফেজ।

Author: softwear man

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *