ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ঠিকভাবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য করনীয়

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সময় প্রথম কাজ পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। এটা ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলির বক্তব্য। তাদের হিসেবে দেড় থেকে দুমাস চেষ্টা করতে হতে পারে প্রথম কাজ পাওয়ার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই কারো কারো ক্ষেত্রে এই সময় আরো বেশি হতে পারে। কাজ পাওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন এমন পরিচিতি যা কাজ পেতে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। এখানে কোন ভুল করলে সেটা আপনার কাজে বাধা সৃষ্টিই করবে।
নিজের রেটিং ঠিক রাখা
আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কাজের রেট সমস্তকিছু বিবেচনা করে একটি সাধারন রেটিং তৈরী করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ক্লায়েন্ট প্রথমেই দৃষ্টি দেন সেদিকে। যার রেটিং ভাল তাকে কাজ দিয়ে তিনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে কাজ সময়মত হবে এবং ভালভাবে হবে। কাজেই আপনার মুল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কাজ করা যেন আপনার রেটিং বৃদ্ধি পায় এবং এমনকিছু না করা যা আপনার রেটিং এর বিপক্ষে যায়। বিষয়গুলিকে আরো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে।
. কাজের মান
আপনার কাজে যদি ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হন তাহলে আপনার রেটিং এর সাথে সেটা যোগ হবে। বিষয়টি হয় এভাবে, আপনি যদি একবারেই নিখুত কাজ করে দেন সেটা সবচেয়ে ভাল। ক্লায়েন্টকে যদি বারবার নির্দেশ দিতে হয় তাহলে রেটিং কমতে থাকে। আর সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে যদি ক্লায়েন্ট আপনার কাজে সন্তুষ্ট না হয়ে কাজ বা কন্ট্রাক্ট বাতিল করেন।
কাজেই কোন কাজ নেয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কাজটি ঠিক সময়ে ভালভাবে করে দিতে পারবেন। যদি দক্ষতায় ঘাটতি থাকে তাহলে তুলনামুলক সহজ কাজ করে দক্ষতা বাড়ান।
. যোগাযোগ
ক্লায়েন্টর সাথে ঠিকভাবে যোগাযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। তিনি মেইল করলেন অথচ আপনি সময়মত সেটার উত্তর দিলেন না এটা খারাপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করে। ক্লায়েন্ট যোগাযোগ করলে সাথেসাথে উত্তর দেবেন, ব্যাখা দেবেন, এমনকি নির্ধারিত সময়ে যদি কাজ দিতে সমস্যা হয় সেটাও আগেই জানাবেন এটাই সবাই আশা করে।
অনলাইনে কাজ করার সময় মুলত ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে হয়। কাজেই ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকলে সেটা ঠিক করে নেয়া জরুরী।ইংরেজি আপনার দ্বিতীয় ভাষা সেটা তারা জানে, কাজেই তারা আপনার কাছে নিখুত ইংরেজি আশা করেন না। বরং আপনার বক্তব্য প্রকাশে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় এটুকু ইংরেজি জানেন বলে ধরে নিতেই পারেন। যদি নিতান্তই সমস্যা হয় তাহলে ব্যবসায়িক যোগাযোগের জন্য ইংরেজির কোন বই দেখে নিন।
. দক্ষতা
আপনি আপনার কাজে যত দক্ষ হবেন কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি, বেশি টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। ক্লায়েন্ট কম টাকায় কাজ করাতে আগ্রহি একথা যেমন ঠিক তেমনি সত্যিকারের দক্ষ ব্যক্তিকে বেশি অর্থ দিতে রাজী একথাও ঠিক।
. পেশাদারিত্ব
আপনি হয়ত লক্ষ্য করেন না আপনি ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মাধ্যমে যত ধরনের যোগাযোগ করেন তার সমস্তকিছু আপনার নামে জমা হয়। কাজের জন্য অনুনয়-বিনয় করাকে অপেশাদারীত্ব বলে ধরা হয়। কাজেই যে কোন যোগাযোগ বা বিডের সময় যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই বলুন। আপনার কাজের যে রেট তারথেকে খুব কম রেটে কাজ করতে চেষ্টা করাও অপেশাদারিত্বে লক্ষন। ব্যক্তিগতভাবে ক্লায়েন্টর সাথে যোগাযোগ রীতিমত অপরাধ। এজন্য আপনার একাউন্ট বাতিল করা হতে পারে। কাজেই এমন কিছু করবেন না যা আপনার পরিচিতির জন্য ক্ষতিকর। কাজ হারানোর চেয়ে পরিচিতি হারানো বড় সমস্যা হয়ে দাড়াতে পারে।
. অভিজ্ঞতা
অভিজ্ঞতা বিষয়টি সবসময়ই গোলমেলে মনে হতে পারে। চাকরীর আবেদন করার সময় যদি বলা হয় ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তখন মনে হতেই পারে চাকরী পাওয়ার আগে অভিজ্ঞতা পাবেন কিভাবে। ফ্রিল্যান্সিং কাজেই এপ্রশ্ন করতে পারেন। আপনি কতগুলি কাজ করেছেন, কত টাকা আয় করেছেন এই তথ্যগুলি আপনার নামের পাশে জমা থাকে। কোন কাজ না করলে সেখানে শুন্য যা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বরং বিষয়টিকে এমনভাবে দেখুন, যার নামের পাশে শতাধিক কজের উল্লেখ আছে তিনিও একসময় শুন্য থেকেই শুরু করেছিলেন। আপনিও সেই চেষ্টা করুন। যত সহজ কাজই হোক, কিছু একটা করে নিজের নামের পাশে কিছু রাখার দিকে দৃষ্টি দিন।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরী করার কাজটি জটিল এতে কোন সন্দেহ নেই। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে তবেই আপনি ভাল করতে পারেন। কাজে হাত দিয়ে সাথেসাথে সাফল্য আশা করবেন না।
এই বিষয়ে আপনার ভিন্ন অভিজ্ঞতা থাকলে মন্তব্য লিখে জানাতে পারেন।

2 thoughts on “ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ঠিকভাবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য করনীয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *