ফ্লোচার্ট কী ? প্রকারভেদ ? ফ্লোচার্ট লেখার নিয়ম | বিস্তারিত

ফ্লোচার্ট কাকে বলে ?

ফ্লোচার্ট : ফ্লোচার্ট হচ্ছে এক ধরণের ডায়াগ্রাম বা চিত্র যা কোনো অ্যালগোরিদম, কাজের ধারা বা প্রসেস-কে চিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জ্যামিতিক চিহ্ন বা symbol দ্বারা প্রকাশ করে এবং সেই জ্যামিতিক চিহ্ন বা symbol গুলো তীরচিহ্ন দ্বারা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।

source : Wikipedia

[HSC-ICT]প্রোগ্রামিং ফ্লোচার্টের দুইটি প্রকারভেদ আছেঃ

  • ডাটা ফ্লো চার্ট ।
  • প্রসেস ফ্লো চার্ট।

তবে সাধারণত ফ্লোচার্টের চারটি প্রকারভেদ আছেঃ

  1. Process Flowchart.
  2. Workflow Chart.
  3. Data Flowchart.
  4. Swimlane Flowchart.

১. Process Flowchart :
একটি প্রসেস ফ্লোচার্ট সম্ভবত চারটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত ফ্লোচার্ট ধরনের সবচেয়ে বহুমুখী এবং প্রয়োগ করা যেতে পারে কার্যত সব কিছুতে । এটি কোনও সংস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা অর্জনের জন্য, নতুন প্রক্রিয়া বা প্রকল্পের জন্য একটি প্রস্তাব অঙ্কন করার জন্য, বা সকালে জেগে উঠার উপায়টি দেখানোর জন্য, একটি সংস্থার মধ্যে ভূমিকা এবং দায়িত্বগুলির ম্যাপিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সম্ভাবনার শেষ নেই ।

২. Workflow Chart

আপনার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য এবং ডকুমেন্টের প্রবাহ বুঝতে পারে । একটি Workflow Chart ব্যবসা বা প্রক্রিয়া ফাংশন উপায় দেখায়।

৩. Data Flowchart.

প্রোগ্রামাররা ডাটা ফ্লো চার্ট ব্যবহার করে থাকে। কোন জায়গা থেকে ডাটা আসছে, ডাটা কিভাবে পরিবর্ধন হচ্ছে এবং কোথায় জমা হচ্ছে এসব চিহ্নিত করার জন্য প্রোগ্রামাররা ডাটা ফ্লো চার্ট ব্যবহার করে।

৪. Swimlane Flowchart

এটি বর্ণনা করে কিভাবে পৃথক বিভাগ, প্রক্রিয়া বা কর্মচারীদের মধ্য পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একাধিক জিনিস পাশাপাশি দেখানোর জন্য একটি swimlane ফ্লোচার্ট ব্যবহৃত হয় ।

ফ্লো চার্ট ছোটখাট প্রসেস বা প্রোগ্রামের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফ্লো চার্টে সাধারণত দুই ধরণের বক্স ব্যবহার করা হয়ঃ

  • প্রসেসিং স্টেপঃ এই ধাপকে এ্যাকটিভিটি বা প্রক্রিয়া/ কার্যক্রম ধাপও বলা হয়ে থাকে। একে আয়তাকার বক্স দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
  • ডিসিশন স্টেপ বা সিদ্ধান্ত ধাপঃ এই ধাপকে ডায়মন্ড বা হীরক আকৃতি দ্বারা প্রকাশ করা হয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় ।

নিচের ছবিতে আমি একটি ফ্লো চার্টের বিভিন্ন আকৃতির পরিচয় দিয়েছিঃ

ফ্লোচার্ট লেখার নিয়ম :

১. প্রথমে Start দ্বারা শুরু করতে হবে ।

২. ইনপুট নিতে হলে সামান্তরিক বক্স ব্যবহার করতে হবে ।

৩. প্রক্রিয়া হলে আয়তাকার বক্স ব্যবহার করা হয় ।

৪. সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাহলে হীরক আকার বক্স ব্যবহার করতে হবে ।

৫. আউটপুট দেখাতে হলে সামান্তরিক বক্স ব্যবহার করতে হবে ।

৬. End বা Stop দ্বারা শেষ করতে হবে ।

অতিরিক্ত কিছু দরকার হলে উপরের টেবিলটি ফলো করবেন ।

আমরা একটি ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে ফ্লো চার্টের ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করি।

এটি start দিয়ে শুরু হয়েছে , ফ্লোচার্ট এভাবেই শুরু হয়। যেহেতু দুইটি নাম্বার ইনপুট নেয়ার দরকার আমাদের, তাই আমরা এখানে Input A, Input B নিয়েছি এবং সেটিকে সামান্তরিক চিহ্নের বক্সে দেখিয়েছি। তবে, আলাদা আলাদা ভাবে এভাবে ইনপুট না নিয়েও পাশাপাশি Input A,B অথবা Read A,B এভাবেও ফ্লো চার্টে ইনপুট নেয়ার কাজটি দেখানো যায়। তারপর A,B দুইটি যোগ করে(A+B) একটি Total ভ্যারিয়েবলে রেখেছি এবং এর পরের ধাপে Total প্রিন্ট করেছি । যোগ যেহেতু একটি প্রক্রিয়া তাই Total কে আয়তাকার বক্সে রাখা হয়েছে । যদি সিদ্ধান্ত নিতে হত তাহলে হীরক আকার বক্স নিতাম ।
আউটপুট দেখানোর জন্য সামান্তরিক বক্স ব্যবহার করা হয়েছে । সবশেষে আমরা stop দিয়ে ফ্লো চার্টটি শেষ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *