বাংলা উচ্চারণের নিয়ম hsc | দ্বাদশ শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা উচ্চারনের নিয়ম

পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বর্ণগত ও ধ্বনিগত পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বানান ও উচ্চারণ যে সবসময় অভিন্ন হবে এমন কথা নেই। তাই সব শব্দেরই যে বানান অনুযায়ী উচ্চারণ হয় তা নয়। পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ও এমন সমস্যা দেখা যায়, যা সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছিলেন। আর সে কারণেই উচ্চারণের নিয়ম বা সূত্র আত্মস্থ করতে না পারলে শব্দের অর্থ অন্য হতে পারে। তাই শব্দের সঠিক প্রয়ােগ ও ভাষার মাধুর্য রক্ষা এবং এর স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ব্যবহার উপযােগিতার জন্য উচ্চারণে নিয়ম জানা অত্যাবশ্যক। আমরা নিচে বাংলা একাডেমি নির্দেশিত উচ্চারণের নিয়মগুলাে লক্ষ করব।

বাংলা উচ্চারণ সূত্র :

বাংলা লিখিত ভাষায় ব্যবহৃত অ-এর উচ্চারিত রূপ দুটি ! একটি ‘অ’ (অর্ধ বিবৃত স্বরধ্বনি), অন্যটি ‘ও’ (বা ও-কারের মতাে)।

যেমন- অত (অতো), শত (শতাে), কত (কতাে), মত (মতো), শব্দ (শবদ), ইত্যাদি। এখানে প্রতিটি শব্দের আদ্য-‘অ’-এর উচ্চারণ অবিকৃত ‘অ’ (অর্ধ-বিবৃত স্বরধ্বনি)। কিন্তু ধরুন (ধােরুন), নদী (নােদি), অদ্য (ওদদো) গদ্য (গোদদো), পক্ষ (পােকখাে), বক্ষ (বােকখা) ইত্যাদি শব্দে আদ্য-‘অ’ থাকে না, হয়ে যায় ‘ও’ (অর্ধ সংবৃত স্বরধ্বনি)। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই ‘ও’-কে একটি স্বতন্ত্র ফোনিম (phoneme) বা মূলধ্বনি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বাংলা ভাষায় শব্দের আদি-মধ্য এবং অন্তে ব্যবহৃত এই ‘অ’ নানাবিধ কারণে প্রমিত বা মানসমত উচ্চারণের সৌকর্য-বিধান-হেতু কখনও পূর্ণ ‘ও’-কার, অর্ধ-ও’-কার কিংবা ‘ও’-কার স্পর্শযুক্ত (আলতােভাবে) উচ্চারিত হয়। সর্বত্র হয় না, হয় বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষ কারণে । শব্দের আদ্য-মধ্য এবং অন্ত্য-অ এর ‘ও’- কার রূপে (বা ও-কারের মতাে) উচ্চারিত হওয়ার কতিপয় সূত্র উল্লেখ করা যেতে পারে ।

বাংলা উচ্চারণের নিয়মসমূহ নিম্নরূপ :

আরও পড়ুনঃ

বাংলা বানানের নিয়ম

তৎসম শব্দ বানানের পাঁচটি নিয়ম

অতৎসম শব্দ বানানের পাঁচটি নিয়ম

Author: Mahmood Reza

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *