বিগ ব্যাং ও মহাশূন্য

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড শুরু হয়েছিল ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। সে প্রায় পৌনে ১৪০০ কোটি বছর আগের ঘটনা। মহাবিস্ফোরণের পর মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে থাকে। গ্রহ-নক্ষত্রগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এই সম্প্রসারণ অব্যাহত গতিতে চলছে। এখন এই সম্প্রসারণের পথ অনুসরণ করে পেছন দিকে যেতে থাকলে কি বিগ ব্যাংয়ের শুরুর বিন্দুতে পৌঁছানো যাবে? এই প্রশ্নটা খুব জটিল। কারণ, বিগ ব্যাং আসলে মহাশূন্যে ঘটেনি, বরং এটা স্বয়ং মহাশূন্যেরই বিস্ফোরণ! যদি কেউ এই সম্প্রসারিত পথ অনুসরণ করে পেছন দিকে যেতে থাকেন, তা হলে একসময় একটা ছোট বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে থাকবে শুধু একটা বিন্দু, মহাশূন্য বিলুপ্ত হবে! এটা কল্পনা করাও কঠিন। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বিজ্ঞানী দেবোরা সিজাকি একটা চমৎকার উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝিয়েছেন (দেখুন স্মিথসোনিয়ান সাময়িকী, ১ নভেম্বর, ২০১২)। ধরা যাক, একটা বেলুনে কালির ছোট ছোট ফোঁটা দিয়ে নীহারিকাপুঞ্জ আঁকা হলো। এবার বেলুনটি বাতাস দিয়ে ফুলালে বিন্দুগুলো (ধরা যাক, নীহারিকা হলো নক্ষত্রপুঞ্জ) দূরে দূরে সরে যেতে থাকবে। বেলুনের এই দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠতলেও কিন্তু আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না, প্রসারণ শুরুর বিন্দুটি কোথায়। বিগ ব্যাংয়ের শুরুর বিন্দুটা বের করাও তেমনি কঠিন। মহাশূন্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যার উত্তর পাওয়া মুশকিল। যেমন: বেলুন ফুলালে তো সেটা চারপাশের শূন্যস্থানে বাড়ে, তা হলে মহাবিশ্ব বাড়ছে কোথায়? প্রসারমাণ মহাবিশ্বের চারপাশে কী? বিজ্ঞানীরা বলেন, এসব প্রশ্ন আসলে প্রশ্নযোগ্যই নয়, তাই এসবের উত্তর জানতে চাওয়া বোকামি।

Author: Muktoit

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *