ভয়ঙ্কর দ্বীপ- দ্বিতীয় পর্ব

বাংলোটাতে চারটে রুম ।একটাতে থাকে কেয়ার টেকার তার পরিবার নিয়ে ।আর পিছনের রুমটাকে আপাতত চাচা থাকেন ।দ্বীপে তাঁর বাড়ি অর্ধনির্মিত হয়ে পড়ে আছে ।ব্যবসায় মন্দা চলছে বলে ওটারকাজ শেষ করতে পারছেননা আর ।
বাকি দুটা রুম দখল করে বসলাম আমরা ।একটাতে রুপা ।আর একটাতে আমি আর শিলু ।বেশ বড় বড় রুমই ।আগে থেকেই সব ঠিক করা ।সাফ সুতরো ঘর ।দেখে বুঝায় যায়না ঘরদুটো জন্মলগ্ন থেকে খালি পড়ে ছিল ।
যাহোক খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়লাম ।সারাদিনের ক্লান্তিতে সাথে সাথেই ঘুম নেমে এল চোখে ।
তলিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে ।
ক্রমশ থেকে ক্রমশ গাঢ় একটা ঘুমের রাজ্যে ।
তিন হঠাত্‍ করেই ঘুম ভেঙ্গেগেল আমার ।রাত নিঝুম ।বাইরে একটানা রি ..রি..রি ..রি ঝিঝি পোকার ডাক ।বুঝতে পারলাম না কি জন্য ঘুম ভাঙল আমার ।
চোখ বুঝে আবার ঘুমাবার চেষ্টা করলাম ।হয়তো চোকটা লেগেও এসেছিল ।ঠিক সে সময় ,একটা শব্দ শুনলাম ।ভয়ঙ্কর একটা শব্দ ।একটা অমানবীয় আর্তচিত্‍কার ।কানের এপাশ – ওপাশ করে বেরিয়ে গেল শব্দটা ।ভয়ে আত্‍কেউঠলাম আমি ।ঘুম একেবারেই চলে গেল ।সেইসাথে খেয়াল হল আমি কোথায় আছি ।একে একে মনে পড়ল সব ।জাহাজে ভ্রমন,চাচার মুখ আর ভয়ঙ্কর এইদ্বীপটার কথা ।প্রথমেই মনে এল শিলুর কথা ।পাশের বেডেই শুয়েছে ও ।পাশ ফিরে ওদিকে তাকালাম ।একরাশ কালো অন্ধকারে কিছুই ঠাওর করতে পারলাম ।কয়েকবার চোখ বুঝে আবার তাকালাম ।চোখ ঘসে অন্ধকারটাকে চোখে সইতে দিলাম ।এবার আবছা আবছা দেখা গেল শিলুকে ।নাকে মুখে কাথাদিয়ে ঘুমোচ্ছেও ।বেঘোরেঘুমোচ্ছে ও ।এত বড় একটা শব্দ কি কানে যায় নি ওর?
নাকি ,শব্দটা ছোটই ছিল ।হতে পারে বাংলোটার আশেপাশেই হয়েছে শব্দটা ।একে সজাগ ,তারপর নিঝুম রাত ।তাই হয়তো মানবীয় আর্তনাদটা অতিমানবীয় হয়ে ধরা দিয়েছে আমার কাছে ।
নিজেকে বোঝ দেবার চেষ্টা করলাম ।আমার ঘুমুতে চেষ্টা করলাম ।কেমন একটা অসস্থি লাগতে শুরু করল আমার ।মনে হচ্ছে কেউ যেন ঝলঝল চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ।ঘোত্‍ ঘোত্‍কয়েকটা শব্দও শুনলাম ঘরের মধ্যে ।তারপর হাটচলার শব্দ ।ধীরে ধীরে সরে গেল ওটা ।একটা ক্যাচ করে শব্দ হল ।মনে হল কেউ দরজা খোলে বাইরে বেরিয়ে গেল এইমাত্র ।তারপর ক্রমশ হারিয়ে গেল হাটচলার শব্দটা ।ঘুমে ঢোলে পড়লাম আমি ।
: এই অভি !অভি ! আরে উঠ !
রুপার ডাকে ঘুম ভাঙলো আমার ।চোখ মেলেই ওর বিরুক্তি মাখা মুখটা দেখলাম ।
: পারিস বটে দুজনে ।মা গো! এত ঘুম কি কোন মানুষে ঘুমায় ?
দুজন মানে ? কি বলছে রুপা !
মুখ ঘুরিয়ে শিলুর বেডেরদিকে তাকালাম ।ঘুম ঘুম চোখে বসেছে ও ।
: এত সাত সকালে দরজাটা খোলে এই দাজ্জালটাকে ঘরে আনলি কেনরে তুই ?
শিলুর দিকে প্রশ্নটা ছুড়ে দিলাম আমি ।
ঘোত্‍ করে একটা শব্দ করল রুপা ।ভয়ে মুখের দিকে তাকালাম না ওর ।তাকালে দেখতাম রেগে টংহওয়া একটা মুখ ।
: আমি কখন খোললাম আবার?আমিত এই মাত্র উঠলাম ।
: তাহলে ?
প্রশ্নোবোধক দৃষ্টিতে রুপার দিকে তাকালাম আমি।সে ঘরে ঢুকলো কি করে ?
: তাহলে আর কি ? দরজা না দিয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলে তোমরা ।আমি এসে দরজা খোলাই পেয়েছি ।
: মানে ? এবার নড়েচড়ে বসল শিলু ।
দিব্বি মনে আছে আমাদের ।দরজা ভাল করে বন্ধ করেই ঘুমিয়ে ছিলাম আমরা।
: ছার !ফেরেস হয়ে খাইতে আয়েন ।
দরজার বাইর থেকে ভেসে এল কথাটা । কেয়ার টেকারের গলা ।
: আসছি !যাও তুমি !
বলল রুপা ।তারপর আবার আমাদের মুখের দিকে তাকাল ও ।বোকা বোকা একটা দৃষ্টি ওর চোখে ।হয়তো বুঝতে পারছেনা কিছুই ।
: শিলু …
রাতের সেই চিত্‍কার আর ঘরে হাটাহাটির শব্দের কথাগুলো জানাতে গেলাম ওকে ।
কিন্তু ও হাত দিয়ে থামিয়ে দিল আমাকে ।
: চল ফ্রেস হয়ে খেয়ে আসি ।
অদ্ভূত একটা অবহেলা দেখলাম ওর চোখ মুখে ।
নিশ্চয় কিছু আচ করেছে ও ।হয়তো বা এসব কথা বলা এখন ঠিক হচ্ছেনা ।

Author: ♠ নির্বাচিত রাজা ♫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *