মহাকাশে ড্রাগন

মহাকাশ গবেষণায় বোধ হয় মহাকাশযান প্রেরণে সরকারি একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ হলো। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ সরবরাহে ৩০ বছরের শাটল যুগের সমাপ্তি হলোকিছুদিন আগে। স্পেস শাটলগুলো এখন অবসর জীবন যাপন করছে ফ্লোরিডার বিভিন্ন জাদুঘরে। স্পেস শাটলগুলোর অবসরজীবন শুরু হতে না-হতেই অভিজাত মহাকাশযানের দলে ঢুকে পড়ল এক বেসরকারি নভোযান। গত ৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বেসরকারি নভোখেয়া নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নির্মিত ‘ড্রাগন’ ক্যাপসুল মহাশূন্যে যাত্রা করে। ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরাল থেকে ফ্যালকন নাইন রকেটে করে এই কার্গো-যান মহাকাশে পাঠানো হয়। প্রায় ৪৫০ কেজি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যায় ড্রাগন খেয়াযান। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মালামাল ও রসদ পরিবহনের জন্য বেসরকারি কোম্পানি স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তি করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। স্পেস শাটল আটলান্টিসের শেষ অভিযানের পর আবারও নাসার নিজস্ব পরিবহনের জন্য মহাকাশযান খুঁজে পেল। ড্রাগনের আগে কিছুদিনের জন্য মহাকাশ গবেষণায় নাসাকে রাশিয়ার সুয়েজ নভোযানসহ অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। গত ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্র (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসে স্পেসএক্স ক্যাপসুল। খেয়াযানটি মেক্সিকোর পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ফিরে আসা কার্গো-যানে ড্রাগন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে এসেছে।
আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে স্পেসএক্সের পরবর্তী অভিযান পরিচালিত হবে।

এক নজরে ড্রাগন
উচ্চতা: ৬.১ মিটার
পরিধি: ৩.৭ মিটার
ভর: ৪২০০ কেজি
মিশনের নাম: স্পেসএক্স সিআরএস-১
উৎক্ষেপণ যান: ফ্যালকন নাইন রকেট
উৎক্ষেপণস্থল: কেপ কেনাভেরাল বিমানঘাঁটি
তাই নাকি

1 thought on “মহাকাশে ড্রাগন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *