যেভাবে লেখক বা ফ্রীলান্সার টিউনার হবেন

সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি ভাল । আমিও ভাল আছি ।।প্রায় সব সাইটে মুলত ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আর ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এক নম্বর স্থান দখল করে রেখেছেন লেখক বা ফ্রীলান্সার টিউনার  ।  যে কোন ধরনের লেখকই বা ফ্রীলান্সার টিউনারই বলুন, তারা ফ্রিল্যান্সার। এমনকি যারা লেখক হিসেবে চাকরী করেন তারাও চাকরীর বাইরে ফ্রিল্যান্স লেখক বা ফ্রীলান্সার টিউনার হিসেবে লেখেন। আপনি কেন লিখবেন ?

প্রথম কারন, আপনি এমন কিছু ভেবেছেন যা অন্যদের জানাতে চান। দ্বিতীয় কারন, আপনি লেখার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চান। আপনি এরসাথে আর্থিক কারন যোগ করতে পারেন। একথা হয়ত স্বিকার করবেন, অধিকাংশ কালজয়ী লেখক যে কারনে বেশি পরিচিত সেখানে এই কারনটি মুখ্য ছিল না।
আপনি যদি লিখতে চান, গল্পই হোক আর ব্লগই হোক, শুরু করাটাই কঠিন কাজ। যদি সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন লিখে নিজের মত জানাবেন তাহলে শুরু কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে কিছু উপদেশ।
সময় ঠিক করে নিনঃ
লেখার জন্য আপনার পুরোপুরি মনোযোগ প্রয়োজন। যখন ব্যস্ত থাকেন তখন লেখার কাজ কঠিন। অনেক লেখকই রাতের বেলা লিখতে পছন্দ করেন। কারন তখন অন্য চিন্তা মাথায় থাকে না। আপনিও সুবিধেমত সময় বের করে নিন।
পছন্দমত যায়গা বেছে নিনঃ
সাধারনভাবে লেখক নির্জনতা পছন্দ করেন। অন্তত লেখার সময় হৈচৈ পছন্দ করেন না। এমন যায়গা বেছে নিন যেখানে অন্যরা লেখার মাঝখানে চিন্তায় ব্যঘাত ঘটাবে না। কেউ কেউ খুব ভোরে লিখতে পছন্দ করেন, সম্ভব না হলে এমন যায়গা যান যেখানে টিভি-ফোন কিংবা বন্ধুরা চিন্তাকে বাধাগ্রস্থ করবে না। কেউ কেউ মৃদু সঙ্গিত শুনতে পছন্দ করেন। বিষয়টি নিতান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের। আপনি কি জানেন আন্তন চেখব থেকে শুরু করে শরতচন্দ্র পর্যন্ত প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু নিয়ম ছিল। কেউ লেখার সময় পচা আপেলের গন্ধ পছন্দ করতেন,  কেউ অনবরত পেনসিল চিবুতেন (এজন্য ডজন ডজন পেনসিল থাকত হাতের কাছে)।
পছন্দের বিষয় বেছে নিনঃ
কি নিয়ে লিখবেন ? অবশ্যই যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি সেই বিষয়ে। সেটা কি যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আপনার প্রিছ কোন গল্প, সিনেমা, নাটক ইত্যাদির কথা একবার ভাবুন। এদের কোনটি আপনি পছন্দ করেছেন সে বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে বলেই।
নিজের দক্ষতা কোথায় সেটা নিয়ে ভাবুন। বিশেষ কোন খেলা পছন্দ করেন ? কিছু সংগ্রহ করতে ভালবাসেন ? নতুন যায়গায় বেড়াতে পছন্দ করেন ? এদেরকেই লেখার বিষয় হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। ষ্টিফেন ক্রেন তুষার ঝড়ের বর্ননা দেয়ার জন্য তুষার ঝড়ের মধ্যে রাত কাটিয়েছিলেন। জ্যাক লন্ডন তার তিমি শিকার থেকে শুরু করে বক্সিং২ রেফারি সব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লিখেছেন।
ইন্টারভিউঃ
বিষয় ঠিক করার আরেকটি দিক হচ্ছে অন্যকে সেবিষয়ে প্রশ্ন করে তার মতামত জানা। বিষয়টি ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। স্বাচ্ছন্দ বোধ করলে আপনি জিজ্ঝেস করতে পারেন। সেইসাথে এটাও ঠিক, বস্তুগত বিশ্বে আপনাকে নিরাশ করতে পারে অনেকেই। সেকারনে বিষয়টি বেশ ঝুকিপুর্ন।
বক্তব্যকে সংক্ষেপে লিখুনঃ
বিষয় ঠিক করার পর আপনি যা প্রকাশ করতে চান সেটা সংক্ষেপে কয়েক লাইনে লিখে ফেলুন। এমন হতেই পারে মুল লেখার সময় আপনি সেখান থেকে সরে গেছেন, তারপরও আপনার সামনে সুযোগ থাকে পথ বেচে নেয়ার। আপনার লক্ষ্য, মুল বক্তব্য যেন ঠিকভাবে প্রকাশ পায়।
বাস্তবে অন্যান্য সবকিছু যেমন কোর্স করে শেখা যায় তেমনি কোর্স করে লেখক হওয়া যায়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম শেখানো হয়। আপনি যদি নিজেই নিজেকে শেখাতে চান তাহলে তাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন।
বিষয়ের তালিকা তৈরী করুনঃ
যে বিষয়গুলি নিয়ে লেখা সম্ভব সেগুলির একটি তালিকা তৈরী করুন। এদের প্রত্যেকেটিকে পৃথক পৃথকভাবে যাচাই করুন। নতুন বিষয় যোগ করুন।
লুপিং 
লুপিং ফ্রিরাইটিং এর বিকল্প ব্যবস্থা। আপনি ফ্রিরাইটিং থেকে যদি সিদ্ধান্ত না পান তাহলে একই বিষয়ে একটির বদলে একাধিক লেখা তৈরী করুন। প্রতিটির দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। একসময় পছন্দমত বিষয় পাবেন।
#  ফ্রিরাইটিং 
ফ্রিরাইটিং হচ্ছে তাতক্ষনিকভাবে কিছু লেখা। ১০ কিংবা ১৫ মিনিট সময় ঠিক করে নিন। যা মাথায় আসে তাকে লিখে প্রকাশ করুন। বানান, ব্যকরন এসব নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। আপনার চিন্তাকে প্রকাশ করাই বিষয়। অন্যভাবে বললে আপনার লক্ষ্য স্থির করা ফ্রিরাইটিং এর উদ্দেশ্য। পথে একটি দুর্ঘটনা দেখলেন। আপনার লেখার বিষয় হতে পারে ব্যক্তির সচেতনতা, ট্রাফিক সমস্যা, প্রশাসনের ভুমিকা থেকে শুরু করে রাজনীতি-অর্থনীতি-জনসংখ্যা পর্যন্ত যে কোনকিছুই।
বুমেরাং
বুমেরাং শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। অষ্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ব্যবহৃত কাঠের তৈরী একধরনের অস্ত্র। সেটা ছুড়লে যদি লক্ষবস্তুতে না লাগে তাহলে ফিরে আসে। এই পদ্ধতিকে ফ্রিরাইটং এবং লুপিং এর সাথে ব্যবহার করতে পারেন। পদ্ধতি হচ্ছে, লেখার পর তাকে বারবার ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখার চেষ্টা করা। মুল লক্ষবন্তু একই কিন্তু যখন ভিন্নভাবে দেখা হয় তখন অন্যের দৃষ্টিতে বিষয়টি কেমন হতে পারে সেটা জানা সম্ভব হয়।
ক্লাষ্টারিং বা ম্যাপিং 
ক্লাষ্টারিং বা ম্যাপিং বিষয়বস্থু ঠিক করার আরেকটি চমকতার পদ্ধতি। একটি কাগজের ঠিক মাঝখানে মুল বিষয় প্রকাশ করা শব্দটি লিখুন। এর চারিদিকে এরসাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন শব্দ লিখুন এবং ফ্লোচাটের মত লাইন একে সংযুক্ত করুন। লেখার কোন পর্যায়ে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে, কিভাবে হবে, একের সাথে অপরের সংযোগ কিভাবে হবে ইত্যাদি প্রকাশ করতে পারেন এভাবে। ফলে লেখার সময় ভালভাবে মনোনিবেশ করা সম্ভব হবে।
ক্রশ এক্সামিনেশনঃ
ক্রশ এক্সামিনেশন হচ্ছে বিভিন্ন দিক থেকে কোনকিছু নিশ্চিত হওয়া। যেমন কোন বিষয় সম্পর্কে লেখার সময় তার ব্যাখ্যা কি, অন্যরা তারসাথে কিভাবে পরিচিত, বিষয় সম্পর্কিত ঘটনা থেকে শুরু করে তারসার্থে সম্পর্কিত তথ্য যতটা সম্ভব বেশি সংগ্রহ করা। অন্যকথায় ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে তথ্যের নির্ভলতা যাচাই করা।
নাটকিয়তাঃ
আপনি চান আপনার লেখা নিয়ে অন্যরা আগ্রহি হবে। সেখানে নাটকিয়তা অত্যন্ত জরুরী। নাটকিয়তার জন্য হলিউড সবচেয়ে খ্যাতিমান। বিশেষ করে তাদের টিভি-শো গুলি সবচেয়ে বড় উদাহরন। সহজ কথায়, যা ঘটার কথা না এমন ঘটনা যদি ঘটে সেটা নাটকিয়তা। লেখার ক্ষেত্রে শুরুতেই এমনকিছু প্রয়োজন হয় যেখানে পাঠক দৃষ্টি দেন, প্রশ্ন তৈরী হয় এবং তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করেন।

অনেকেই ধরে নেন লেখক হওয়া বিষয়টি ব্যক্তিগত প্রতিভা। এটা সত্য বটে, তারপরও নিয়ম মেনে এবং চেষ্টা করে লেখক হওয়ার উদাহরন খুব কম নেই। অন্তত লেখা পরিমাপের জন্য যখন নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়।

Author: shamvil

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *