‘সকালে ও সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্তের মৃত্যুঝুঁকি বেশি’

‘সকালে ও সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্তের মৃত্যুঝুঁকি বেশি’

দিনের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

নির্দিষ্ট সময়টিও তারা খুঁজে বের করেছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে বিবিসি।

দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালে ও দিনের শেষে বা সন্ধ্যায় ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর’ আশঙ্কা বেশি বলে ব্রিটেনের ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি জরিপ প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মানুষের শরীরে হৃদস্পন্দনের গতি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিনের হার সারা দিন ধরেই ওঠানামা করতে থাকে।

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মতো শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোও প্রতিদিন একটি রুটিনমাফিক কাজ করে থাকে। হৃদযন্ত্রও এভাবে রুটিন মেনেই কাজ করে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে থাকে।

এ রুটিন অনুযায়ী শরীরের ভেতরে রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপও সারাদিন ধরে বদলাতে থাকে যা স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময় কীভাবে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তারা ‘কে১এফ১৫’ নামের একটি প্রোটিন খুঁজে পেয়েছেন যা ‘দেহঘড়ি’ বা শরীরের ভেতরের রুটিন নিয়ন্ত্রণ করে।

‘কে১এফ১৫’ শরীরের বিভিন্ন আয়ন চলাচলে প্রভাব বিস্তার করে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।

মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের ডা. মাইকেল হেস্টিংস বলেন, এটি (কে১এফ১৫) চমৎকার একটি আণবিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করে যা বহু দিন ধরে আলোচনায় থাকা এ পুরো ঘটনাটির চমৎকার একটি ব্যাখ্যা দেয়।

গবেষকরা ইঁদুরের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে কে১এফ১৫ বেশি উৎপাদনকারী এবং একেবারেই উৎপাদন করে না এমন ইঁদুরদের মধ্যে হৃদস্পন্দনের হার অনিয়মিত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখতে পেয়েছেন। এর ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

তবে ইঁদুর ও মানুষের হৃদপিণ্ড একই কৌশলে কাজ করে কি না তা পুরোপুরি নিশ্চিত নন গবেষকরা।

তবে ডা. হেস্টিংস বলেন, গবেষণায় পাওয়া তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কোনো ওষুধ প্রস্তুত করা বা অন্য কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এদিক দিয়ে দেখলে গবেষণাটি বেশ সম্ভাবনাময়।

যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মানুষ হৃদরোগজনিত কারণে মারা যায়।

Author: Sadia Afroz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *