সায়েন্স ফিকশন :: রহস্যময়ী ভিনগ্রহী (পর্বঃ ২)

||তিন||

আরেকটা পৃথিবীয় খোঁজে প্রজেক্টে যোগ দিলেন ডাঃ তালহা ।তরুণ বিজ্ঞানী ।সেই থেকেই টেলিস্কোপ নিয়ে তার গবেষণা শুরু ।
হঠাত্‍ একদিন ….
রাতের আকাশে টেলিস্কোপ নিয়ে বসলেন ডাঃ তালহা ।
ক্রমাগত জুম করছেন তিনি ।হঠাত্‍ করেই অদ্ভুত একটা গ্যালাক্সী চোখে পড়ল তাঁর ।মিটি মিটি করে জ্বলা একটি কম আলোর তারার চারদিকে ঘুরছে কতগুলি গ্রহ ।গুনলেন তিনি । এক ,দুই ,তিন …
না এভাবে গুনা যাবেনা ।অসংখ্য গ্রহ ।হঠাত্‍ করেই এক গ্রহের দিকে চোখ আটকে গেল তার ।একদম পৃথিবীর মত ।
আশ্চর্য তো !
শ্বাস রুদ্ধ করে ফেললেন ওনি ।
গ্রহটার চারপাশে ঘুরছে কতগুলি যান ।ঠিক যেন পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ ওগুলো ।
কপালে ঘাম জমতে লাগল তাঁর ।সাথে তো একরাশ চাপা উত্তেজনা রয়েছেই ।
আরেকটু ভাল করে খতিয়ে দেখতে হবে ।যদি ওগুলো কৃত্রিম উপগ্রহ হয়ে থাকে ,তবে অবশ্যই কোন প্রাণীর তৈরী ওগুলো ।তাহলে কি সত্যিই প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে !তাও আবার সৌর জগতের বাইরের অদ্ভূত একটা গ্যালাস্কীর অদ্ভূত একটা গ্রহে ।

চার

: স্যার !
রোবট থটের কথায় সম্ভিত্‍ ফিরে পেলেন ডাঃ তালহা ।
: স্যার একটা দুঃসংবাদ আছে !
ভার মুখ করে বলল রোবট টা ।মিঃ থট ।চতুর্থ প্রজন্মে অটো মেমোরাইজড রোবট ।ডাঃ তালহারই গবেষণার ফসল এটি ।
আর কি দুঃসংবাদ হতে পারে তাঁর জন্য !
চিন্তা করলেন তালহা ।
সব গবেষণায় যে তার ব্যর্থ ।
আশ্চর্য সব কান্ড ঘটছে চারপাশে ।দুই কোটি আলোক বর্ষ আগে থেকেও তিনি দেখেছেন অদ্ভূত এই গ্রহটাতে প্রাণের অস্তিত্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।ইলেকট্রনিক টেলিস্কোপে ওনি গাছের ছবিও পেয়েছেন ।দেখেছেন ঘুর্নায়মান কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে ।যেগুলো প্রাণ অস্তিত্যের জড় সাক্ষী ।কিন্তু একটা রাতের মধ্যেই একি হল ?
একটা কৃত্রিম উপগ্রহও নেই ।গ্রহটির সবুজাভতাও বেমালুম গায়েব ।বরং ওখানে ঘটছে প্রচন্ড ধূলি ঝড় ।প্রাণের কোন অস্তিত্যে কোন সম্ভাবনায় নেই আর ।যেন এই ছিল এই নেই ।
: স্যার ! আপনি কি চিন্তিত ?
খসখসে গলায় আবার বলল থট ।
: ও হ্যা কি যেন বলছিলে ?
দ্বিতীয়বারের মত থটের কথায় সম্বিত্‍ ফিরে পেলেন ওনি ।
: স্যার একটা দুঃসংবাদ ছিল !
কথার পূনারাবৃত্তি করল থট ।
তারপর তাকাল তালহার মুখে দিকে ।বলার সম্মতিসূচক ইশারা করলেন ওনি ।
বলতে শুরু করল থট ।

: আসলে এই গ্রহটিতে কোন প্রাণের অস্তিত্য আছে কিনা নেই ,সেটা উপরে থেকে জানা যাবেনা ।
গ্রহটিকে ঘিরে রয়েছে আশ্চর্য একটি অদৃশ্য বলয় যা আমাদের নেটওয়ার্ক কে ওই গ্রহে ঢুকতে দিচ্ছেনা ।
সুতরাং আমাদের ওই গ্রহে ল্যান্ড করতে হবে ।
ও হ্যা আরেকটা কথা স্যার ।

থামল থট ।তাকিয়ে থাকল ডাঃ তালহার মুখের দিকে ।কৌতুহলী মুখ দেখে আবার বলা শুরু করল থট ।
: আসলে আমাদের সোলার সেল এই নিভু নিভু তারকা থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করতে পারছেনা ।সুতরাং বাধ্য হয়েই আমি গ্যাস ক্ষেত্রে খোলে দিয়েছি ।
এখন যদি আবার ল্যান্ড করি তাহলে জ্বালানী সঙ্কট হতে পারে ।
: জ্বালানী সঙ্কট তো ঘটার কথা না ? আমরা এখান থেকে সৌরজগতে প্রবেশ করার মত জ্বালানী তো নিয়েছিই ।ওখানে গেলেই তো সৌর আলোয় আবার সোলার সেল কাজ শুরু করবে ।

: সেটাই সমস্যা স্যার !
কথার পৃষ্ঠে কথা পাড়ল থট ।
: মানে ?
কপাল কুচকে গেল ডাঃ তালহার ।
: জ্বি স্যার ,কম আলোর শক্তি উত্‍পাদন করতে গিয়ে মনে হচ্ছে সোলার সেল গুলো বাদ হয়ে গেছে ।
: ওফ !
কত সমস্যা !
একটার পর একটা সমস্যা তাকে জ্বালের মত জড়িয়ে ধরছে ।
[পরের পর্ব আগামীকাল রাত ৭টা অথবা ৮টা অথবা ৯টায় প্রকাশিত হবে ।রহস্যের কিনারা জানতে চোখ রাখুন ,কুমিল্লা আইটির পাতায়]

Author: ♠ নির্বাচিত রাজা ♫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *