সেরা ৫টি অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস | গুগল ড্রাইভ,ওয়ানড্রাইভ , ড্রপবক্স ,আইক্লাউড ইত্যাদি | COMILLAIT| Bangla Technology Blog | বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ

সেরা ৫টি অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস | গুগল ড্রাইভ,ওয়ানড্রাইভ , ড্রপবক্স ,আইক্লাউড ইত্যাদি

লেখক : | ০ টি কমেন্ট | 12 বার দেখা হয়েছে দেখা হয়েছে । শেয়ার করে আপনবর বন্ধুদের জানিয়ে দিন ।

ক্লাউড কম্পিউটিং : ইন্টারনেট সার্ভারে ইউজারের ডাটা আপলোড করে সংরক্ষণ করে রাখার উপায়কেই ক্লাউড স্টোরেজ বলে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি, গান, ডকুমেন্টস, ভিডিওসহ অন্যান্য ফাইল এসব ক্লাউড স্টোরেজে সেইভ করে রাখে।

বিভিন্ন ধরণের ক্লাউড স্টোরেজ কোম্পানী রয়েছে যারা নানান সার্ভিস দিয়ে থাকে। কোন সার্ভিসই একদম ১০০% ফ্রি নয়। কেননা প্রচুর ব্যবহারকারীরা ডাটা সংরক্ষণ করতে বিশাল বিশাল সার্ভার প্রয়োজন, যেগুলো প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা অনলাইনে থাকবে। এসব কোম্পানীর রয়েছে ফ্রি প্ল্যান, প্রো প্ল্যান, গোল্ড, প্ল্যাটিনাম ও অন্যান্য প্ল্যান।

৫. ড্রপবক্স

ড্রপবক্স একটি ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস যা ২০০৮ সালে চালু হয়। ড্রপবক্স ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সার্ভিস প্ল্যান দিয়ে থাকে। এটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি কোম্পানী। প্রথমে ড্রপবক্স একটি স্টার্টআপ ছিলো যা ওয়াই কম্বিনেটর স্টার্টআপ এক্সেলারেটর প্রোগ্রামে বিজয়ী হয় এবং প্রচুর পরিমাণে ফান্ডিং পায়।
ড্রপবক্সে রেজিস্ট্রেশন করলে যেকোন ব্যবহারকারী ২ জিবি ফ্রি ফাইল স্টোরেজ পাবে। ডকুমেন্ট রাখার জন্য ২ জিবি অনেক হলেও ছবি, গান ও ভিডিও রাখতে চাইলে ২ জিবি বেশ কম জায়গা। তবে এই ফ্রি স্পেসও মাত্র ৩০ দিনের জন্য। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট এমাউন্ট দিয়ে প্রো একাউন্ট খোলা যাবে যাতে ১ টেরাবাইট জায়গা এবং অন্যান্য সুবিধা থাকবে যেমন রিমোট ওয়াইপ, পাসওয়ার্ড প্রটেকশন, ইমেইল সাপোর্ট, বেশি ফাইল শেয়ারিং লিমিট ইত্যাদি ।

ভালো দিকগুলোঃ
১. সকল ডিভাসের জন্য ড্রপবক্স রয়েছে।
২. ১৬ জিবি পর্যন্ত ফ্রি একাউন্টে স্টোরেজ লিমিট বাড়ানো সম্ভব রেফারেলের মাধ্যমে।

খারাপ দিকগুলোঃ
১. ফ্রি একাউন্টে ফাইল শেয়ারের পারমিশন নেই।
২. মাত্র ৩০দিনের ফ্রি ট্রায়াল পিরিয়ড।
৩. শেয়ার করা ফাইলের লিংক মাঝেমাঝেই কাজ করেনা।

লিংকঃ https://www.dropbox.com

৪. মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ

মাইক্রোসফটের অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ প্লাটফর্মের নাম ওয়ানড্রাইভ. এটি ২০০৭ সালে চালু করা সার্ভিস। বর্তমানে ওয়ানড্রাইভ বিশ্বের ১০৭টি ভাষায় রয়েছে।
ওয়ানড্রাইভে ফ্রি একাউন্টে ৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দেয়া হয়। এরপর উইন্ডোজ ফোনের ক্যামেরা রোল অপশন সিলেক্ট করলে আরো ৫ জিবি দেওয়া হয়। মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫ এর পেইড ব্যবহারকারীরা ১ টেরাবাইট খালি জায়গা পেয়ে থাকে। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সিঙ্ক ফোল্ডার ওপেন করা হয় এবং সকল ফাইল সেই ফোল্ডারে কপি পেস্ট করলে তা অটোমেটিক আপলোড হয়ে যায় ড্রাইভে। ওয়ানড্রাইভের কিছু প্ল্যান রয়েছে বছর বা মাসের ভিত্তিতে।

ভালো দিকগুলোঃ
১. উইন্ডোজ, উইন্ডোজ মোবাইল, ম্যাক, এন্ড্রয়েড, আইফোন ডিভাইসের জন্য সফটওয়্যার ও অ্যাপ রয়েছে।
২. ৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।
৩. মাইফ্রোসফট একাউন্টের সাথে সহজেই সিঙ্ক করা যায়।

খারাপ দিকগুলোঃ
১. কোন ফাইল এনক্রিপশন নেই।
২. প্রিমিয়াম প্ল্যানগুলোর দাম অনেক বেশি।

লিংকঃ https://onedrive.live.com

৩. মিডিয়াফায়ার

মিডিয়াফায়ার ২০০৬ সালে চালু হওয়া খুব জনপ্রিয় একটি ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস। মিডিয়াফায়ারের প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে এবং এটি সকল ডিভাইসের জন্য ব্যবহার করা যায়।
মিডিয়াফায়ারে রেজিস্ট্রেশন করলে ১০ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দেওয়া হয়। এই স্টোরেজ সাইজ ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যায় বন্ধুদের রেফারেলের মাধ্যমে। মোবাইল অ্যাপ ইন্সটল করলে পাওয়া যায় ১ জিবি ফ্রি স্টোরেজ। এছাড়াও ফেসবুক ও টুইটারের সাথে একাউন্ট কানেক্ট করলে ইউজার পাবে আরো ২ জিবি স্টোরেজ ফ্রি। যত খুশি তত ডাউনলোড ও শেয়ার করা যায় ফাইল। তবে ফ্রি একাউন্টে সর্বোচ্চ ২০০ মেগাবাইট সাইজের একটি ফাইল আপলোড করা যায়।
আপনি এতে খুশি না হলে রয়েছে প্রো ও বিজনেস প্ল্যান।

ভালো দিকগুলোঃ
১. ১০ জিবি ফ্রি ফাইল হোস্টিং।তবে ৫০ জিবি পর্যন্ত ফ্রি হোস্টিং বাড়ানো সম্ভব।
২. সকল ব্রাউজার, মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসের জন্য রয়েছে।

খারাপ দিকগুলোঃ
১. ফ্রি একাউন্টে ২০০ মেগাবাইটের বেশি কোন ফাইল আপলোড করা যায় না।

লিংকঃ https://www.mediafire.com

 

২. গুগল ড্রাইভ

অনলাইন জায়ান্ট গুগলের ক্লাউড সার্ভিসের নাম গুগল ড্রাইভ । যারা এন্ড্রয়েড ফোন বা জিমেইল ব্যবহার করি তারা সবাই কমবেশি জেনে বা না জেনে এই সার্ভিসটি ব্যবহার করে থাকি। ইমেইলে কোন বড় ফাইল পাঠানোর সময় তা ড্রাইভের ফোল্ডারে সেইভ হয়ে যায়। গুগল ২০১২ সালে এটি চালু করে এবং মাত্র এই কয়েক বছরেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাড়ায় ২৪০ মিলিয়নে। গুগল ড্রাইভ সারা বিশ্বে ৬৮টি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। গুগল ড্রাইভে ফ্রিতে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ দেওয়া হয়। সকল গুগল প্রোডাক্ট যেমন এন্ড্রয়েড, ফর্ম, শিট, ব্লগার ইত্যাদীর ব্যাকআপ থাকে গুগল ড্রাইভে।

ভালো দিকগুলোঃ
১. সকল গুগল সার্ভিসের সাথে কাজ করে।ব্যবহার করা অনেক সহজ।
২. ফ্রি ১৫ জিবি স্টোরেজ।

খারাপ দিকগুলোঃ
১. রেফারেলের মাধ্যমে ফ্রি স্পেস বাড়ানো যায় না।
২. ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ ফাইল আপলোড শুধু গুগল ক্রোম ব্রাউজারে জন্য রয়েছে।

লিংকঃ https://www.google.com/drive

১. মেগা

 

মেগা একটি নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজ কোম্পানী। এটি ২০১৩ সালে চালু করা হয়। অনেকেই এটি চিনেন না কেননা এটি তেমন জনপ্রিয় না। মেগা আপনার ফাইলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। এটি ফাইল আপলোড, ডাউনলোডের ক্ষেত্রে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন টেকনোলজি ব্যবহার করে, যার ফলে আপনার ফাইল আপনি ছাড়া কেউই দেখতে পারবে না। এমনকি মেগার ডেভেলপারেরাও না।মেগা ৫০ জিবি ফ্রি ইউজার স্টোরেজ দিয়ে থাকে। এছাড়াও আপনি স্টোরেজ আপগ্রেড করতে পারবেন। প্রতি বছর হিসেবে কিছু প্ল্যান রয়েছে ও এন্টারপ্রাইজ লেভেলের সল্যুশন রয়েছে। মেগা গুগল এন্ড্রয়েড, আইফোন, ব্ল্যাকবেরী, উইন্ডোজ ফোনের জন্য অ্যাপ রয়েছে। এছাড়াও ম্যাক, উইন্ডোজ পিসি ও লিনাক্সের জন্য ক্লায়েন্ট আছে।

ভালো দিকগুলোঃ
১. ৫০ জিবি ফ্রি স্টোরেজ সুবিধা।
২. এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ফাইলের নিরাপত্তা।
৩. সকল ডিভাইস ও মোবাইলের জন্য ক্লায়েন্ট রয়েছে।

খারাপ দিকগুলোঃ
১. ফ্রি স্পেস আর বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
২. ড্র্যাগ এন্ড ড্রপের মাধ্যমে আপলোডের অপশন নেই।

ডাউনলোড লিংকঃ https://mega.nz

লেখাটি আপনাদের ভাল লেগেছে?
FavoriteLoadingপ্রিয় পোষ্ট যুক্ত করুন

১টি কমেন্ট করুন

*