অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার পর কি করবেন?

যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন যদিও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই যন্ত্র ব্যবহার করছে ইন্টারনেটের জন্য। তাই স্মার্টফোনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্মার্টফোনের দুনিয়ায় অনেক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম বিরাজমান, তবে তারমধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের চাহিদা সারা দুনিয়া ব্যাপী বেশি। সবাই চাই একটি মোবাইল ফোন যেটাতে অ্যান্ড্রয়েড থাকবে এবং নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে। তাই প্রথমবারের মত যখন এই মোবাইল সাধারণ মানুষ কেনে তখন কিছু অবশ্য করনীয় কাজ থাকে যেগুলো সেটির ব্যবহারকে আরও সহজ করে তোলে। এমনি কয়েকটি করনীয় বিষয় নিয়ে এই লেখা।

১. গুগল একাউন্ট সক্রিয় করাঃ  

যখন কেউ নতুন ফোন কেনে, তখন প্রথমেই বলা হয় গুগল একাউন্ট চালু করতে। দ্রুত ইমেইল সুবিধা, ক্যালেন্ডার এবং ফোন কন্টাক্ট সংরক্ষণের জন্য এটা হচ্ছে সবচেয়ে ভাল উপায়। এছাড়া গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করার জন্যও এই কাজটি করা প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন তাদের অ্যাপস এর প্রয়োজন নাই, তাই তাঁরা একাউন্ট চালুর বিষয়টা এড়িয়ে যান। তবে এটা সবার করা উচিত। কারন হিসেবে বলা যেতে পারে, এটা আপনার মোবাইলকে সুরক্ষিত করবে। এটা একদিকে যেমন আপনাকে অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটে প্রবেশের সুযোগ করে দিবে, তেমনি এটি আপনার কন্টাক্টকে প্রতিনিয়ত সিঙ্ক্রনাইজ করবে। ফলে কখনো যদি আপনার মোবাইল ফোনটি হারিয়েও যায় তবুও কন্টাক্ট হারানোর ভয় থাকবেনা। এছাড়া অ্যাপস স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নামিয় ব্যবহার করলে হারানো ফোনের সন্ধানও পাওয়া সম্ভব হয় অনেক সময়।

২. ওয়াইফাই ব্যবহার করাঃ

দ্রুত গতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অবশ্য ওয়াইফাই ব্যবহার করুন। এটি স্বভাবতই মোবাইলের জিএসএম, থ্রিজি, কিংবা ফোরজি ইন্টারনেটের তুলনায় অনেক বেশি গতি সম্পন্ন। এটি আপনার মোবাইলের গতিকে বাড়িয়ে দিবে। এছাড়া আপনার মোবাইলের চার্জ খরচ কম হবে এবং আপনার মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে দিবে। তাই যেখানে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ থাকবে, সেখানে অবশ্য ব্যবহার করবেন।

৩. আপনার সোশ্যাল অ্যাপ গুলোর আপডেট নিয়ন্ত্রণ করাঃ

মোবাইলে আপনি হয়তো অনেক গুলো সোশ্যাল অ্যাপ অথবা খবরের জন্য অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। সেক্ষেত্রে এই অ্যাপ গুলো কত দ্রুত আপডেট হচ্ছে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। ইন্টারনেট পাওয়ার সাথে সাথে যদি সমস্ত অ্যাপ আপডেট হতে শুরু করে তবে সেটা মোবাইলের গতি কমিয়ে দেয়, সেই সাথে চার্জ খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই অ্যাপ গুলোর আপডেট নির্দিষ্ট সময় পর পর করা উচিত। এটি আপনি খুব সহজেই করতে পারবেন ‘আপডেট ফ্রিকুয়েন্সি’ অপশনে গিয়ে।

৪. ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা যথাসম্ভব কমিয়ে রাখা এবং ইন্টারনেট বন্ধ রাখাঃ

স্মার্টফোন গুলোর একটা বড় সমস্যা হচ্ছে এতে চার্জ কম থাকে। তাই ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর জন্য আপনি যেটা করতে পারেন, তা হচ্ছে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা যথাসম্ভব কমিয়ে রাখবেন। এছাড়া সবসময় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করলে অনেক বেশি চার্জের অপচয় হয়। তাই প্রয়োজনের সময় ব্যতিরেকে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় ভাল।

৫. গাড়িতে ব্যবহারের উপকরণ কেনাঃ

গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইলফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। সেক্ষেত্রে আপনি যেটা করতে পারেন মোবাইলের ব্লুটুথ যন্ত্র সাথে গাড়িতে চার্জ দেওয়ার জন্য চার্জার কেনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডক থাকে যেখানে মোবাইল বসিয়ে দিলে, কল আসার সাথে সাথে  সেটি লাউডস্পীকারে চলে যায়। তখন গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়না।

এই পদক্ষেপ গুলো মুলত নতুন ফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে উপযোগী হবে। তবে যারা অনেকদিন থেকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের সাথে পরিচিত তাদের কাছে এই বিষয় গুলো কোন ব্যাপারই না। তাঁরা নিজেরাই নতুনদের আরও ভাল উপদেশ দিতে পারবেন। আপনি কি মনে করছেন এই ব্যপারে?

Author:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *