আদ্য অ এর উচ্চারণের নিয়ম | hsc , দ্বাদশ শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রশ্নঃ আদ্য-অ এর উচ্চারনের নিয়মগুলো লিখ ।

উত্তরঃ আদ্য-অ এর উচ্চারনের নিয়মগুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১, (অ + ই > ওই, অ+ উ > ওউ ] শব্দের আদিতে যদি ‘অ’ থাকে স্বত্ত্র বা স্বাধীন (অ) কিংবা ব্যঞ্জনে যুক্ত ( ক্+ অ =ক , গ্ + অ = গ) এবং তারপরে ই’-কার (হ্রস্ব কিংবা দীর্ঘ),’উ’- কার (হ্রস্ব কিংবা দীর্ঘ ) থাকে তবে সে-‘ অ’- এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’_ কারের মতাে হয়। যথা- অভিধান, (ওভিধান), অভিযান (ওভিযান), অতি (ওতি), অভিমান (ওভিমান), যদি (জোদি), পতি (পােতি), রতি (রােতি) ইত্যাদি।

২.[ অ +’্য’ (য) ফলা > ও] শব্দের আদ্য ‘অ’- এর পরে ‘্য’ (য)- ফলায়ুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে ‘অ’ এর উচ্চারণ প্রায়শ ‘ও’- কারের মতাে হয়। যেমন- অদ্য (ওদদো), অন্য (ওননো), অত্যন্ত (ওততোন্্ত), অত্যাচার (ওততাচার), কন্যা (কোননা), কল্যাণ (কোলল্যান\-লান) ইত্যাদি।

* ব্যতিক্রম ঃ বন্ধ্যা (বনধা), মর্ত্য (মরতো), অর্ঘ (অরঘাে), বন্দ্যোপাধ্যায় (বনদোপাদধায়), বধ্যভূমি (বদধোভূমি), হর্ম্য (হরমো), বন্দ্যবংশ (বনদোবঙশো), কণ্ঠ্য (কনঠো), অন্ত্য (অনতাে), অন্ত্যষ্টি (অনতেশটি) ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, প্রতিটি শব্দে (বধ্যভূমি ব্যতিরেকে) ‘J’ (য) ফলা যুক্ত হয়েছে যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণে। ফলে উচ্চারণে তার কোনাে ভূমিকা যেমন নেই, তেমনি শব্দের আদ্য ‘অ’-কেও পরিবর্তন করছে না।

৩. [ অ + ক্ষ > ও; অ + জ্ঞ > ও] শব্দের আদ্য ‘অ’- এর পর ‘ক্ষ’ (ক্ + ষ = খিয়ো, বর্তমান বাংলা উচ্চারণে শব্দের আদিতে কেবল ‘খ’ এবং শব্দ-মধ্য ও অন্তে ক্খ-এর মতাে)’জ্ঞ’ (জ্ + ঞ = , শব্দের আদিতে ‘গঁ’ এবং মধ্য ও অন্তে গ্ গঁ- এর মতাে থাকলে, সে ‘অ’- এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’- কারের মতাে হয়ে তাকে। যথা- অক্ষ (ওকখো), অক্ষাংশ (ওক্খাসঙশো), অক্ষাগ্র (ওক্খাগগ্র), লক্ষণ (লােকখােন), তক্ষক (তােক্খােক্), যজ্ঞ (জোগ্ গো), রক্ষকুল (রােক্খােকুল) ইত্যাদি।

* ব্যতিক্রম : লক্ষ্মণ (লক্খোঁন), যক্ষ্মা (জক্খা) ইত্যাদি। এখানেও লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ‘ক্ষ’-এর সঙ্গে অন্য বর্ণ যুক্ত হয়েছে বলে তার আগের ‘অ’ (ল, য, প) ও-কার রূপে উচ্চারিত হচ্ছে না।

‍‍‌‍৪. [অ + (ঋ) কার > ও] শব্দের প্রথমে যদি ‘অ’ থাকে এবং তারপর ৃ (ঋ)-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ | থাকলেও, সে-‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-কারের মতাে হয়। যথা- মসৃণ (মােসৃন/মােস্সৃন), কর্তৃকারক (কোরতৃকারোক্),বক্তৃতা (বক্তৃতা) , শতৃপ্রত্যয় (শােতৃপ্রোত্ তয়) ইত্যাদি। শব্দের প্রথমে ‘অ’ যুক্ত ‘র’ (্র) ফলা থাকলে সেক্ষেত্রেও আদ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ সাধারণত ও’-কার হয়ে থাকে। যথা- ক্রম (ক্রোম), গ্রহ (গ্রোহাে), গ্রন্থ (গ্রোন্ থো), ব্রত (ব্রোতাে), ক্রস্থ (ত্রোস্ তো), ভ্ৰম (ভ্রোম), দ্রব্য (দ্রোব্ বো), প্রকৃত (প্রােকৃতো), শ্রবণ (স্রোবোন), স্রষ্টা (স্রোশটা) ইত্যাদি।

* ব্যতিক্রম : কিন্তু ‘অ’ যুক্ত র-ফলার পরে ‘য়’ থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ প্রায়শ অবিকৃত থাকে। যথা- ক্রয় (ক্রয়্), ত্রয় (ত্রয়্), শ্রয় (স্রয়্) ইত্যাদি।

৫. যেসব রেফ যুক্ত শব্দের বানানে পূর্বে’্য ‘ (য)-ফলা যুক্ত (বিকল্পে সিদ্ধ) ছিল, বর্তমান বানানে (স্মর্তব্য : কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতির সিদ্ধান্ত, ‘রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হইবে না) (য)-ফলা ব্যবহৃত না হলেও সেসব শব্দের আদ্য-অ সাধারণত ও-কারের মতাে উচ্চারিত হয়ে থাকে।যেমনঃ পর্যন্ত (পোর্ জোন্ তো) , পর্যায় [পোর্ জায়), (<পর্য্য়ায়)], চর্যাপদ [চোরযাপদ) , (<চর্য্যাপদ)], হর্যক্ষ (হােরজোকখাে (<হর্য্যক্ষ),মধ্য অ-এর ক্ষেত্রেও এ-নিয়ম অনুসৃ্ত : ঐশ্বর্য |ওইশশাের্ জো (<ঐশ্বৰ্য্য)। সৌন্দর্য [শােউনদোজ্ জো) (সৌন্দৰ্য্য) ইত্যাদি ।

৬. সাধুভাষায় ব্যবহৃত পূর্ণাঙ্গ শব্দ কিংবা ক্রিয়াপদের বানানে ই (ি)-কার আছে কিন্তু চলিত ভাষায় সেই ই(ি) -কার বহুক্ষেত্রে বিলুপ্ত হলেও তার পূর্ববর্তী ‘অ’ উচ্চারণ প্রায়শ ‘ও’- কারের মতােই। যথা- করিবার > করবার (কোর্ বার্), ধরিবার > ধরবার (ধার্ বার) ইত্যাদি।

* কিন্তু এর কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়, যেমন- ইব> (হবাে, কখনও ‘ হােবাে ‘ নয়), কহিব > কইব>কব (কবাে, কখনও ‘কোবো নয়), সহিব > সইব (শবাে, কখনও ‘শোবো নয়) ইত্যাদি।

৭ .একাক্ষর (monosyllable) শব্দের প্রথমে ‘অ’ এবং পরে দন্ত্য _ন থাকলে কোথাও কোথাও সে ‘ অ’ এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতাে হয়। যেমন- মন (মােন্), বন (বােন্), জন (জোন্) ইত্যাদি। তবে এ সমস্ত শব্দের উচ্চারণে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের উচ্চারণে কিছু পার্থক্য বর্তমান। কেদ একাক্ষর ‘মন’- এর ক্ষেত্রে আমরা তর্কাতীত ভাবে ‘মােন’ বললেও ‘বােন্’ (বন), জো্ন (জন)-এর ক্ষেত্রে দ্বিধা-বিভক্ত এবং বাংলাদেশে সম্পদ অর্থে ‘ধােন’ উচ্চারিত হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চারণ-প্রবণতাকে আমরা অনেক বেশি মূলানুগ মনে করি। আর এসব জায়গায় ‘ন’ এর পরিবর্তে ‘ণ’ এলে যেমন ‘অ’ এর উচ্চারণ প্রায়শ বিকৃত হয় না, তেমনি প্রাগুক্ত শব্দ সমাসবদ্ধ বা সঙ্গি হলেও আদ্য ‘অ’- এর অবিকৃত-উচ্চারণই বিধেয়। যেমন- পণ (পন্), রণ (রন্) ক্ষণ (খন্) ইত্যাদি।

আদ্য-অ এর ৫টি উচ্চারনের নিয়ম লিখ

উত্তরঃ আদ্য-অ এর উচ্চারনের নিয়ম উপরে দেওয়া আছে ।

আদ্য-অ এর উচ্চারনের ৫টি নিয়ম উদাহরণসহ

উত্তরঃ আদ্য-অ এর উচ্চারনের ৫টি নিয়ম উদাহরণসহ উপরে দেওয়া আছে ।

আরও পড়ুনঃ

মধ্য-অ উচ্চারনের নিয়ম

বাংলা বানানের নিয়ম

তৎসম শব্দ বানানের পাঁচটি নিয়ম

অতৎসম শব্দ বানানের পাঁচটি নিয়ম

Author: Mahmood Reza

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *