আযান নাম রাখা যাবে কি ? | নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা

নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা

আপনি কি জানতে চাচ্ছেন আযান নাম রাখা যাবে কি ? নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা কি ? তাহলে এই পোষ্টটি আপনার জন্যই । চলুন প্রথমেই জানি নাম রাখার ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম ।

নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা

সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে প্রিয় রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে । সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো। (আবু দাউদ)

নাম রাখার গুরুত্ব সম্পর্কেও ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। পবিত্র কোরআনে ,

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

`হে জাকারিয়া, আমি (আল্লাহ) তোমাকে একপুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। এই নামে এর আগে আমি কারও নামকরণ করিনি।

[সূরা মারিয়াম, আয়াত : ৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]

আবদুল হুমাইদ বিন শায়বা বলেন, আমি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে বসা ছিলাম। তিনি তখন বললেন, আমার দাদা ‘হাযান’ একবার নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন। নবীজী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? দাদা বললেন, আমার নাম হাযান। (হাযান অর্থ শক্তভূমি) নবীজী বললেন- না, তুমি হচ্ছ ‘সাহল’ (অর্থাৎ তোমার নাম হাযানের পরিবর্তে সাহল রাখো; সাহল অর্থ, নরম জমিন।) দাদা বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন আমি তা পরিবর্তন করব না। সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন, এর ফল এই হল যে, এরপর থেকে আমাদের বংশের লোকদের মেযাজে রুঢ়তা ও কর্কশভাব রয়ে গেল। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬১৯৩

সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার ব্যাপারে রাসূল (সা.) গুরুত্বারোপ করেছেন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা মাতা-পিতা ও অভিভাবকের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব। আল্লাহ তা’য়ালার গুণবাচক নামের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং তার প্রিয় বান্দাদের নামে নামকরণ করাই উত্তম। যেসব সাহাবীর কুৎসিত ও আপত্তিকর নাম ছিল, রাসূলে কারীম (সা.) তা পরিবর্তন করে পুনরায় সুন্দর ও যথার্থ অর্থবোধক নাম রেখে দিয়েছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও  আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

من حق الولد على الوالد أن يحسن اسمه ويحسن أدبه.

অর্থ : সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও তার উত্তম তারবিয়াতের ব্যবস্থা করা বাবার উপর সন্তানের হক। -মুসনাদে বাযযার (আলবাহরুয যাখখার), হাদীস ৮৫৪০

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হবে ঐ ব্যক্তির নাম, যে মালিকুল আমলাক (রাজাধিরাজ) নাম ধারণ করেছে। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪০৩

আযান নাম রাখা যাবে কি ?

এখন আসি আমাতের মূল প্রশ্নে আযান নাম রাখা যাবে কি ? আযান নামের অর্থ “ঘোষণা”, “প্রার্থনা করার আহ্বান” । যেহেতু আযান নামের অর্থ সুন্দর ,এর মধ্যে যেহেতু কোনো শিরকি নেই । আযান নাম রাখা যাবে ।

Author: Shahbi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *