এ এর উচ্চারনের নিয়ম | HSC , দ্বাদশ শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

এ – এর নিয়ম

বাংলা ভাষায় ‘এ ‘(ে) কার লিখিতরুপে একটি হলেও এর উচ্চারিত রুপ দুটো (‘এ’ এবং ‘অ্যা’)। মেষ (মেশ্), দেশ (দেশ্), এল (এলো) ইত্যাদি শব্দের আদ্য ‘এ’- এর উচ্চারণ ‘এ’ নিজস্ব (যেটা সংস্কৃত ও পকৃত ভাষাসমূহে সর্বত্র ব্যবহৃত)। খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা) ইত্যাদি শব্দের আ্দ্য ‘এ’ – এর উচ্চারণ ‘এ’ নয় পরিষ্কার ‘অ্যা’ (যেটা সংস্কৃত ভাষায় নেই কিন্তু ইংরেজি Cat, Bat এর মতো শব্দের a তে আছে) ।বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণে বহুল ব্যবহৃত অতি প্রয়ােজনীয় এই মুলধ্বনি বা ফোনিমটির স্বতন্ত্র কোনাে বর্ণপ্রতীক , ‘এ’ (ে), অ্যা ‘ এ্যা,’ ্য’ (ব্যাথা), ্যা ( খ্যাত), য়্যা এবং বিশুদ্ধ আ (া)-কার- এ ধরনের বিচিত্র প্রতীকে লেখা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , মাত্রাওয়ালা এ (ে) – কার দিয়ে অ্যা ধ্বনি কে বােঝাতে চেয়েছেন, বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ এখনও এ নী্তি অনুসরণ করেন কিন্তু এতে সমস্যার সুরাহা হয়নি, তার কারণ প্রথম মাত্রাওয়ালা (ে) এবং মাত্রাহীন (ে) ‘এ’-কার চিহ্নের পার্থক্য এত সুক্ষ যে এটা সহজে চোখে পড়ে না, দ্বিতীয়ত, পদের আদ্্যাঅক্ষরে মাত্রাওয়ালা (ে) এ’-কার স্পষ্ট হলেও পদের মধ্য বা অন্তিম বর্ণে এর অস্তিত্ব নির্ধারণ অসম্ভব । রাজশেখর বসু অ্যা ধ্বনিকে বোঝাতে চেয়েছেন জন্য স্বতন্ত্র স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যােজ্য আলাদা একটি কার-চিহ্ন উদ্ভাবন করেছিলেন। কিন্তু এর কোনােটিই চালু হয়নি। সাম্প্রতিককালে কেউ কেউ প্রস্তাব করছেন এ = আ এবং কারচিহ্ন রুপে (ে)। এই এ’, কোথায় ‘অ্যা’ হিসেবে উচ্চারিত হবে এবং কেবল ‘এ’ – কার কিংবা ‘আ’ কারই হবে এবং , এ ধরনের সর্বজনস্বীকৃত বিধান দুর্লভ। চলিত বাংলা ভাষায় প্রমিত উচ্চারণের বহমান ধারা অনুসরণে ‘এ’-সংক্রান্ত কতিপয় শর্তের উল্লেখ করা যাচ্ছে।

১. শব্দের প্রথমে যদি ‘এ’ – কার (ব্যঞ্জনে যুক্তও হতে পারে) থাকে এবং তারপরে ই” (ি), ঈ(ী ), উ (ু), উ (ূ), এ (ে), ও’ (ো), য়, র, ল, শ এবং হ থাকলে সাধারণত ‘এ’ অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়। যথা- একি (একি), দেখি (দেখি), বেশি (বেশি), একুনে, বেগুন, একুশ, রেঙুন, মেয়ে, এনে, চেয়ে, গেয়ে, খেয়ে, পেয়ে ব্যতিক্রম-একের (অ্যাকের), একে একে (অ্যাকে অ্যাকে) ইত্যাদি। শ্রেয়, খেয়া, কেয়া, চের, বের, ঘের, গেছে, ভেতাে, তেতাে, মেঠো, সে-ও ব্যিতিক্রম । দেওয়র (স্যাও), শেওড়া (শ্যাওড়া)] তেল, বেল, শেল, এল, ভেল, জেল, রেল বাতিক্রম নিক্ষেপ অর্থে ফেল (ফালফ্যালাে), যাওয়া অর্থে গেল (গ্যালাে) বেশ, লেশ, শেষ, দেহ, মেহ, স্নেহ, লেহন ইত্যাদি।

২. শব্দের আদ্য ‘এ’-কারের পরে যদি १ (অনুস্বর) ঙ কিংবা ঙ্গ থাকে এবং তারপরে ‘ই’ ৯” হ্রস্ বা দীর্ঘ) ‘উ ‘(হ্রস্ব বা দীর্ঘ) অনূপস্থিত থাকে, তবে সেক্ষেত্রে ‘এ’, “অ’-কারে রূপান্তরিত হয়। যথা- বেঙ[ ব্যাঙ, কিন্তু ই (ি)-কার সংযুক্ত হলে ভেঙে, খেংরা (খ্যাঙরা কিন্তু খেঙরি), বেঙ্গমা (ব্যাঙ্ গোমা কিন্ত বেঙগােমি), ভেংচা (ভ্যাঙচা কিন্তু ভেঙচি), টেংরা (ট্যাঙরা কিন্ত টেঙরি) নেংটা (ন্যাঙটা কিন্তু নেঙটি)।

৩. এ-কার যুক্ত একাক্ষর (monosyllable) ধাতুর সঙ্গে আ-প্রত্যয়যুক্ত হলে, সাধারণত সেই এ কারের উচ্চারণ অ্যা- কার হয়ে থাকে। যথা- খেদা (খেদ্ + আ = খ্যাদা), ক্ষেপা (ক্ষেপ + আ = খ্যাপা ) , ঠেলা (ঠে + আ = ঠালা), খেলা (ফেল + আ = খ্যালা), ফেলা (ফেল + আ = ফ্যালা), হেলা ( + আ = হ্যালা), গেল (গেল + আ = গ্যালা) কিন্তু গিল + আ = গেলা (গলাধঃকরণ) ইত্যাদি।

৪.মুলে “ই’-কার বা ফ’-কারযুক্ত ধাতু প্রাদিপদিকের সঙ্গে আ-কার যুক্ত হলে সেই ই-কার এ-কার ক উচ্চারিত হবে, কখনও অ্যা’-কার হবে না। যথা- কেনা (কিন্ ধাতু থেকে), মেলা (<মিল), সে (<লিখ), গেলা (<গিল), মেশা (<মিশ), জেলা (< জিলা), শেখা (<শিখ), এলাকা (<ইলাকা), ন (ইনাম), বেদন (<বিদ), নেতা (<নী-ধাতু), কেতাব (<কিতাব), নেপাল (<নৃপাল) ইত্যাদি।

৫. একাক্ষর (monosyllable) সর্বনাম পদের ‘এ’ সাধারণত স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ, অবিকৃত ‘এ-কার কাছ উচ্চারিত হয় । যথা- কে, সে, এ, যে ইত্যাদি

৬. সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের আদ্য এ-কার প্রায়শ অবিকৃত ‘এ’-রূপে উচ্চারিত হয়ে থাকে। যথা- কের প্রেরক, তেজক্রিয়া, মেদ, কেতন, কেদার, চেতনা, তেজস্বী, দেবকী, দেবর্ষি, ধেনু, বেণী, ভো মেদিনী, মেনকা, মেরু, রেবতী, শেখর, সেতু, সেবক ইত্যাদি।

৭. সাধারণত শব্দের আদ্য ‘এ’-কারের পরে ‘অ এবং আ থাকলে ‘এ’-কারের অ্যা-কাররূপে উচ্চারিত হওয়ার প্রবণতা থাকে সমধিক। কিন্তু ওই “অ’ কিংবা আ’-এর পরিবর্তে ই’-কার উ-কার কিংবা এ কারের মতাে স্বরধ্বনি এলেই এ’-কার তার নিজস্ব উচ্চারণে ফিরে যায়। যথা- এখন (অ্যাখােন), এমন (অ্যামােন), কেমন (ক্যামোন), যেমন (জ্যামােন), তেমন (ত্যমোন), এক (অ্যাক), একা (অ্যাকা)। বেটা, (ব্যাটা), জেঠা (জ্যাঠা), ঠেঠা (ঠ্যাঠা), ঠেঙ্গা (ঠ্যাঙ্গা), পেঁচা (প্যাচা) ইত্যাদি। ব্যতিক্রম : এখন (এখান্)।’

কিন্তু এসব শব্দের শেষে যদি ‘ই “উ কিংবা এ-কার আসে তবে এ’-কার নিজস্ব উচ্চারণে ফিরে যায়। যথা- একি, একুশ, হেরি, টেরি, নেড়ি, এখুনি, জেঠি, জে, পেঁচি, ঠে্গি, নেড়ি, চেঙড়ি ইত্যাদি।

Author: Mahmood Reza

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *